ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ওজন কমাতে এ ফলটি খান, উপকার পাবেন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৫:১৪ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৫:৩০


প্রিন্ট
সম্ভব হলে জুসের চেয়ে কমলা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই শ্রেয়

সম্ভব হলে জুসের চেয়ে কমলা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই শ্রেয়

কমলা অনেকেরই প্রিয় ফল। তবে এর সব গুণের কথা হয়ত জানা নেই তাদের । ভিটামিন 'সি'-তে ভরপুর এই ফলটির কিন্তু ওজন কমাতে জুড়ি নেই। চলুন এবার একটু অন্যভাবে কমলার গুণের কথা জানা যাক।

পানির সাথে
সারাদিন পান করার জন্য প্রতি গ্লাস পানিতেই খানিকটা কমলা বা লেবুর রস মিশিয়ে নেবেন। এতে যেমন পানির স্বাদ বাড়বে, তেমনি ওজনও কমবে।

শুধু জুস নয়, আঁশসহ খান
কমলার জুস খাওয়াটা বেশ সহজ হলেও স্লিম হওয়া বা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কিন্তু খোসা ছাড়িয়ে কমলা খাওয়ার প্রভাব অনেক বেশি। ২০০ গ্রাম কমলায় আঁশ বা ফাইবার ২০০ গ্রাম জুসের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে জুসের চেয়ে কমলা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই শ্রেয়। এতে কমলার স্বাদও লেগে থাকে মুখে অনেকক্ষণ।

কমলার সাদা অংশ
কমলার খোসা অতটা পরিষ্কার করে ছাড়াবেন না। কারণ, খোসার নিচের সাদা অংশেই থাকে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন, যা অন্ত্রের বিষাক্ত জীবাণু বাইরে বের হতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা দমন করে কমলা
কমলায় থাকা প্রাকৃতিক মিষ্টি কিন্তু চকলেট বা অন্যান্য মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাকে দমন করে। কাজেই এতেও অনেকটা ক্যালোরি কম খাওয়া হয়।

খাওয়ার আগে
দুপুরে খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে কমলা খাবেন। এতে আসল খাবার থেকে কম করে হলেও ৩০০ গ্রাম ক্যালোরি কম খাওয়া হবে।

ফরাসি গবেষকরা জানিয়েছেন
খাওয়ার আগে যারা কমলা বা লেবুর সুগন্ধ নিয়েছেন, তারা খাওয়ার আগে মেন্যু থেকে হালকা ধরণের খাবারই বেশি পছন্দ করেছেন। এক সমীক্ষা থেকে পাওয়া এই তথ্যটি জানিয়েছেন ফরাসি গবেষকরা।

কমলার পুষ্টিগুণ :
ওজন কমানো ছাড়াও ত্বকের পুষ্টি এমন কি হৃদযন্ত্র ভালো রেখে শরীরে রক্ত চলাচল নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে কমলা। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলাতে রয়েছে ০.৯৩ গ্রাম প্রোটিন, ০.৩ গ্রাম ফ্যাট, ১১.০২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৪ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.০৫ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.০২ গ্রাম ফসফরাস এবং ০.১ গ্রাম লৌহ। প্রতি কেজি কমলায় ৪৯০ ক্যালরি শক্তি রয়েছে।

দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করতে : চোখের দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ। আমরা সবাই জানি ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। কমলায় বেশ ভালো পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে।

ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করে : কমলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনের পাশাপাশি রয়েছে আলফা ও বেটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কমলায় উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণ হচ্ছে ফ্ল্যাভনয়েড যা ফুসফুস এবং ক্যাভিটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর। তাই ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন ১ টি কমলা খাওয়া উচিত।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : কমলা আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করে। একইসাথে এ ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। এ পুষ্টি উপাদানসমূহ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ছোটবড় নানা ব্যাধি ও সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। মুখে ভিটামিন সি এর অভাবে যে ঘাঁ হয় সেটার ঔষুধ হিসেবে কমলা অনেক ভাল কাজ করে। এটি ব্লড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কমলাতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন সেল ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম যা দাঁত ও হাঁড়ের গঠনে সাহায্য করে। এটি হজম শক্তি বাড়ায় ও সর্দিকাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তশূন্যতা সারাতে ভূমিকা রাখে।

ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে : বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বকও দ্রুত বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। ভিটামিন সি ছাড়াও কমলায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ ত্বককে সতেজ ও সজীব রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্যেও ত্বককে অনেকটাই মসৃণ রাখে, সহজে বলিরেখা পড়ে না। কারণ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিস সি ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে বহু বছর। ফলে, বয়স বাড়লেও, আপনাকে দেখাবে চিরতরুণের ন্যায়।এটি ত্বকের ব্রণ সমস্যা দূর করে ও ত্বকের কালো দাগ সারায়। কমলা রস করে খাওয়ার চেয়ে কোয়া খাওয়াই শরীরের পক্ষে ভাল।

হার্ট সুস্থ রাখে : কমলায় আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান যা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে।পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ উপাদানগুলো শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কমলার চর্বিহীণ আঁশ, সোডিয়াম মুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত উপাদানগুলো হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখে।

আরো কিছু তথ্য :
কমলার বৈজ্ঞানিক নাম Citrus reticulata। এটি Rutaceae গোত্রের Citrus গণভুক্ত। কমলার আদি জন্মস্থান সম্ভবত চীন। প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে চীনের লোকেরা প্রথমে কমলার চাষ শুরু করে। বর্তমানে বহুজাতের কমলা দেখা গেলেও স্বাদের ভিত্তিতে কমলা মূলত দুই ধরনের, একটি মিষ্টি এবং অন্যটি টক।

টক কমলার জন্মস্থান উত্তর ইউরোপে। কলম্বাসই প্রথম আমেরিকার হিসপানিওলা দ্বীপে মিষ্টি কমলার গাছ রোপণ করেন।

জ্যাম, জেলি, স্কোয়াশ ইত্যাদি তৈরিতে কমলা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয়। কমলার ফুল, পাতা, ফলের খোসা থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায় যার বাণিজ্যিক মূল্য অনেক।

বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র কমলার চাষ হয়। বাংলাদেশের সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রংপুর, পঞ্চগড় জেলায় সীমিত পরিমাণে কমলার চাষ হয়। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কমলা প্রজাতির মধ্যে রয়েছে সাধারণ বা চীনা কমলা C. sinensis; ম্যান্ডারিন কমলা, C. reticulata যার কয়েকটি জাত ট্যানজারিন নামে পরিচিত; এবং টক বা সেভাইল কমলা C. aurantum।

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট তাদের উদ্ভাবিত বারি কমলালেবু ১ নামের একটি নতুন ভ্যারাইটি বাজারজাত করেছে। এর ফল প্রায় গোলাকার, রসালো ও মিষ্টি। পূর্ণবয়স্ক গাছ ৩০০-৪০০টি ফল উৎপাদন করতে পারে। প্রতিটি ফলের গড়পড়তা ওজন ১৯০ গ্রাম।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫