ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

আরো খবর

না’গঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনা

এমপি সেলিম ওসমানসহ ২ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৬ ডিসেম্বর

আদালত প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ০০:২৪


প্রিন্ট

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনার মামলায় এমপি সেলিম ওসমানসহ দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি আগামী ২৬ ডিসেম্বর। গতকাল এ মামলায় এমপি সেলিম ওসমান অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। সে জন্য তার পক্ষে আইনজীবীরা ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট হোসনে আরার আদালতে আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে উপরিউক্ত তারিখ ধার্য করেন। শুনানিকালে সেলিম ওসমানের সহযোগী অপর আসামি অপু আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে ঢাকার সিজেএম আদালতে বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দেন। এরপর আদালত দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৫৫/৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেন। অতঃপর আদালত মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলি করেন।
বিচারপতিদ্বয় আদেশে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশের আইন নিরপেক্ষ ও বৈষম্য ছাড়া প্রয়োগ করা। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন, সবাই আইনের অধীনÑ এটি আইনের শাসনের মর্মবাণী। বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ওই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। বিচারের স্বার্থে এটি যথাযথ বলে প্রতীয়মান হয়।
মোট ৬৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে আরো নথিপত্র রয়েছে। তদন্তকালে মোট ২৭ জনের জবানবন্দী নেয়া হয়। বিচারক তদন্ত প্রতিবেদনে ছয়টি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এগুলো হলোÑ প্রথমত, শ্যামল কান্তি ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রিফাত হাসানকে ২০১৬ সালের ৮ মে মারধর করেছেন তা প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত, ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে শ্যামল কান্তির কটূক্তির সত্যতা পাওয়া যায়নি। তৃতীয়ত, ২০১৬ সালের ১৩ মে ওই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে স্থানীয় শামসুল হকের ছেলে অপুর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সভাকক্ষে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে অপু ছাড়া বাকি ১০ থেকে ১২ জনের নাম কোনো সাক্ষীই প্রকাশ করেননি। চতুর্থত, ২০১৬ সালের ১৩ মে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে আনুমানিক বেলা ১১টায় স্থানীয় মসজিদ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন শ্যামল কান্তি। কে বা কারা ওই ঘোষণা দিয়েছেন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধের কারণে এমন ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ আছে। পঞ্চমত, ২০১৬ সালের ১৩ মে বিকেল ৫টায় এমপি সেলিম ওসমান প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে তাকে গাল-কানজুড়ে দুই হাত দিয়ে পরপর চারটি থাপ্পড় দিয়েছেন। এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ষষ্ঠত, সেলিম ওসমানের নির্দেশে শ্যামল কান্তি ভক্ত কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য হয়েছেন, তা ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫