ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

আরো খবর

টেন্ডার প্রক্রিয়া দেশের দুর্নীতির আরেকটি উৎস : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ০০:২৪


প্রিন্ট

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। টেন্ডার প্রক্রিয়া আমাদের দেশের দুর্নীতির আরেকটি উৎস। প্রতিটি টেন্ডার প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক টেন্ডারিং (ই-টেন্ডারিং) প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা উচিত। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সমঝোতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রধান এবং সাপোর্টিং টেন্ডারের প্রচলন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তথাকথিত নিগোসিয়েশন হচ্ছে। এই নিগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দুদকের কাছে অভিযোগ আসে। তিনি বলেন, নিগোসিয়েশন হতে পারে, তবে তা হতে হবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে। তিনি সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা আনয়নের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে।
সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, মার্কেটে যদি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে পণ্য উৎপাদনে সৃজনশীলতা আসবে, মানসম্পন্ন পণ্যের জোগান বাড়বে, দ্রব্যমূল্য কমবে, জনগণের ভোগান্তি হ্রাস পাবে, আবার কেউ ব্যবসার নামে অনুপার্জিত আয় করতে পারবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে বল হয়েছে, ‘রাষ্ট্র এমন অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোনো ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে সমর্থ হবেন না।’ মার্কেটে যদি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায় তাহলে মানুষের পকেট কেটে অনুপার্জিত আয় করার পথ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। অনুপার্জিত আয় কমে এলে দুদকের কাজও কিছুটা সহজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিযোগিতা কমিশনসহ সবাইকে সাথে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তার কোনো মন্তব্য নেই মর্মে সাংবাদিকদের জানান। অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সব সিদ্ধান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী হয়।
সভায় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল খান চৌধুরী বলেন, এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। তাই আমরা দুদকের তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, আমরা দুদকের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য একটি লিখিত প্রস্তাব দিতে চাই। হঠাৎ করে চালের দাম বা পিয়াজের দাম বাড়িয়ে কিছু লোক দ্রুত ধনী হতে চায়। এসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমিশন হস্তক্ষেপ করবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক সচিব ড. মো: শামসুল আরেফিন, মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, মো: আসাদুজ্জামান, মো: জাফর ইকবাল, মো: আতিকুর রহমান খান ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তিনজন কমিশনার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫