ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

১১০ কোটি টাকার ইকুইটি ফান্ড গঠনে অগ্রগতি নেই

বিশেষ সংবাদদাতা

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

১১০ কোটি টাকার ইকুইটি ফান্ড গঠনে অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল দেশে উক্তোতা তৈরি ও তাদের সহায়তার জন্য এই ফান্ডটি যেন গঠন করা হয়। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। বিআইডিএ’র পক্ষ থেকে সংস্থাটির চেয়ারম্যান এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন; কিন্তু এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও উদ্যেক্তা তহবিল গঠন করা সম্ভব হয়নি।
বিআইডিএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মতো টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপি’র ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অথচ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান জিডিপিতে ৩৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে বিনিয়োগ লক্ষ্য ও বাস্তব বিনিয়োগের বিস্তর ব্যবধান দূর করতে হবে।
বর্তমানে দেশে যেসংখ্যক উদ্যোক্তা রয়েছেন তা এই বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ইতোমধ্যে বিআইডিএ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, মেন্টরিং ও কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত একটি মানসম্মত ধারনাপত্র তৈরি করা হয়েছে।
বিআইডিএ’র প্রস্তাবে আরো বলা হয়, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য যথযথ ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ কর্মসূচি প্রয়োজন। এই জন্য দরকার প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং ও অর্থায়ন। যেহেতু নতুন উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সম্পদ কিংবা বন্ধকি সম্পত্তি থাকার সম্ভাবনা কম সেহেতু প্রচলিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের ঋণ দেয়া বা অর্থায়ন সম্ভব হবে না। এ জন্য বিকল্প ও কার্যকর অর্থায়নব্যবস্থা হিসাবে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড সৃষ্টি আবশ্যক। তাই প্রারম্ভিক পর্যায়ে ১১০ কোটি টাকার ইক্যুইটি ফান্ড গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিআইডিএ’র নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।
প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তার পূর্বতন মেয়াদকালে (১৯৯৫-২০০০) বিনিয়োগ বোর্ডের গভর্নিং বডির ১৩তম সভায় আলোচ্যসূচি ১০-এর সিদ্ধান্তে একটি ইক্যুইটি ফান্ড গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ফান্ড গঠনের বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে ওপর থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারব।
২০১৬ সালে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) গঠন করা হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বেসরকারি খাতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে উৎসাহ দান, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা দেয়া।  

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫