বগুড়ার মাঠে শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা। ছবিটি সদরের শাখারিয়া থেকে তোলা   ;  নয়া দিগন্ত
বগুড়ার মাঠে শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা। ছবিটি সদরের শাখারিয়া থেকে তোলা ; নয়া দিগন্ত

বগুড়ায় শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত চাষিরা

আবুল কালাম আজাদ বগুড়া অফিস

শীত পড়তে বেশি দেরি নেই। তাই শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত এখন বগুড়ার সবজি চাষিরা।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সবজি শেষ হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির পরপরই জেলার কৃষকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন শীতকালীন সবজি চাষে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই শীতের সবজি হিসেবে শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, বরবটি, মুলা চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তাই শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে ব্যস্ত এখন চাষিরা। সবুজে সবুজে শীতের সবজিতে ভরে উঠেছে মাঠের পর মাঠ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, বেগুন, মুলা, করলা, পটোল, পালংশাক ও লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজি। এর মধ্যেই আগাম জাতের শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আমন ধান ঘরে তোলার পরই আবার সরিষা, আলু চাষও শুরু করেছেন চাষিরা।
বগুড়া জেলায় গত মওসুমে ১২ হাজার হেক্টরে সবজি চাষ করা হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর সাড়ে ১২ হাজার হেক্টরে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে কৃষি বিভাগ। এ পরিমাণ জমিতে সবজির ফলন আশা করা হচ্ছে প্রায় আড়াই লাখ টন। বগুড়া জেলায় ইতোমধ্যে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টরে সবজি চাষ হয়েছে। কৃষকেরা কিছু কিছু সবজি উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পালংশাক, লালশাক, লাউ, চাল কুমড়া, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও মুলা শাক। এসব সবজি বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা।
বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা আমজাদ হোসেন জানান, শীত আসার আগেই আগাম জাতের বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, বরবটি, পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে এসব সবজির দাম বেশি। বর্তমান বাজারে ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০, শিম ১৬০ থেকে ২০০, বাঁধাকপি ৬০ থেকে ৮০, মুলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
শাজাহানপুর উপজেলার খরনা গ্রামের জামাল হোসেন জানান, বিভিন্ন গ্রামে চাষকৃত সবজি জমা হয় উপজেলার নয়মাইল হাটে। সেখানে বড় সবজির হাট বসে। সে হাট থেকে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবজি নিয়ে যায় ট্রাকে করে। এখানে প্রায় প্রতিদিনই সবজি কেনাবেচা হয়।
বগুড়া সদর উপজেলার কাজীনুরইল গ্রামের জাকির হোসেন জানান, আগাম জাতের মুলা বা বাঁধাকপি আকারে ছোট হয়। এই ছোট সবজি বাজারে দাম ভালো পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক কৃষক আগাম জাতের সবজি চাষ করেন। এবারো সবজির চাষ ভালো হয়েছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, জেলার শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, শেরপুর, গাবতলী, বগুড়া সদর, কাহালু উপজেলায় প্রচুর সবজির চাষ হয়। গত বছর সবজির ভালো ফলন পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ টন ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। 

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.