ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

ক্রিকেট

শেষ ভালোর অপেক্ষায় বাংলাদেশ...

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২২ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১০:৫৭ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১১:০৯


প্রিন্ট
একটি জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ

একটি জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশের। এখনও কোনো ম্যাচে জয় পায়নি মুশফিক-মাশরাফিরা। টেস্ট-প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ, এখন চলছে ওয়ানডে সিরিজ, তাতেও সাফল্য ধরা দেয়নি টাইগারদের ভাগ্যে। আজ দুপুর ২টায় তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের মুখ্মেুখি হবে বাংলাদেশ। সমাপ্তিটা হাসি মুখে করতে চায় টাইগাররা। আর এর জন্য সর্বস্ব দিতে কার্পণ্য করবে না তারা। এমনটাই জানালেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমি-সহ সবাই দেশের জন্য খেলছি। বড় পরিসরে দেখলে আমরা সিরিজ হেরেছি। কিন্তু এখান থেকে একটা ম্যাচেও যদি ভালো করে যেতে পারি সেটা আমাদের জন্য বড় অর্জন হবে। এই সব দিক থেকে চিন্তা করলে সবকিছু এখনও ইতিবাচকভাবে নেয়া যায়। যেহেতু একটা ম্যাচ বাকি আছে আমরা সর্বস্ব দেয়ার চেষ্টা করবো।'

আগের ম্যাচগুলোতে পরাজয় হলেও আজ ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন মাশরাফি। বলেন, 'ঘুরে দাঁড়ানো তো অবশ্যই সম্ভব। তবে শেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি ওইভাবে চিন্তা করলে খুব কঠিন। আমি বিশ্বাস করি, এই দলের সামর্থ্য আছে এর চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলার। এই পরিস্থিতিতে সেটা অনেক কঠিন মনে হচ্ছে। বোলিংয়ে দুটি উইকেট দলকে উজ্জীবিত করে। ব্যাটিংয়ে ভালো একটি জুটি ওই ম্যাচে দলকে উজ্জীবিত করে। আমাদের তেমন শুরু দরকার হবে।'

টেস্ট ও ওয়ানডেতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দলীয় পারফরম্যান্সকেই দায়ী করেছেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, 'এখানে মুশফিক দুটি পঞ্চাশ (একটি সেঞ্চুরি, একটি ফিফটি) মেরেছে, ইমরুল কায়েস ফিফটি করেছে, আর দু'জন যদি এমন করতে পারত… আগের দিন রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান ভালো বোলিং করেছে আর দু'জন যদি দুইটা ব্রেক থ্রু এনে দিতে পারত। দলীয় পারফরম্যান্স এখানে হয়নি। কিন্তু আমরা সব সময় দলীয় পারফরম্যান্সেই জিতেছি।'

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এখনো সাফল্যের সুযোগ আছে মনে করে মাশরাফি বলেন, 'সবকিছু উতরে আসার এখনও অনেক সুযোগ আছে। এখন তিনটা ম্যাচ বাকি। আমরা যদি এখানে ভালো কিছু করতে পারি এই অভিজ্ঞতা সামনে যে কোনো সফরে কাজে লাগবে।'

ইনজুরির কারণে সফর থেকে ছিটকে গেছেন দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও সেরা বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। এ ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে সেরা ব্যাটসম্যানকে হারানো, বোলিংয়ে সেরা বোলারকে হারানো বড় ধাক্কা আমাদের জন্য। আমার মনে হয়, এই অজুহাত দিয়ে লাভ নেই। আমি যদি বলি, এই জন্য হেরেছি আসলে তা না। অনেক ছোট ছোট কারণ ছিল। দল হিসেবে মাঠে ভালো করতে পারিনি, সে কারণে অনেকটা পিছিয়ে গেছি।'

আজ কাদের নিয়ে দল সাজাবে বাংলাদেশ?
ভাঙা দলে পরিণত এখন টিম বাংলাদেশ। তারকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে একসাথে পায়নি তারা কোনো ম্যাচেই। আজ শেষ ম্যাচেও সে অবস্থা থেকে সরে আসতে পারেনি। ফলে যে একাদশ নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে এখন তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রোটিয়ার, সেটা কল্পনাও করেনি কেউ। তামিম থাকবেন না। মোস্তাফিজ থাকবেন না। ওয়ানডেতে সৌম্য ভালো খেলেন। তার অবস্থাও সুখকর নয়। তাহলে কাদের নিয়ে দল সাজানো হবে। এমনিতেই দক্ষিণ আফ্রিকা দুর্দান্ত। এরপর সেরা শক্তি নিয়ে লড়তে পারলে হতো। সেটাও না। তাহলে শেষ ম্যাচে পরাজয় এড়ানোর চিন্তাটা কিভাবে আসে।

এ সফরটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এত ইনজুরি আর বাজে পারফরম্যান্স। টিম বাংলাদেশ নিয়ে বিস্ময়েরও সৃষ্টি হয়েছে। প্রোটিয়ার আক্রমণে যেন দিশেহারা। কোনো কিছুতে হচ্ছে না কিছু। টস জিতলে সমস্যা। প্রথম ব্যাটিং করলে যে অবস্থা পরে করলেও সেই একই। সর্বশেষ যা মনে হয় টস না জিতলেই ভালো। আসলে নিজ মাঠে স্বাগতিকেরা যে কতটা শক্তিশালী, তাদের মোকাবেলার জন্য কতটা প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, সেটাই আন্দাজ করতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে মোকাবেলা করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় তাঁবু গেড়েছিল বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে মোকাবেলা করতে তার কিছুই ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে নেট সেশন। আর হাতেগোনা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। একটি টেস্টের আগে, আরেকটি ওয়ানডে ম্যাচের আগে। এতেই সব শেষ হয়ে যায় না।

বাংলাদেশ দলের তথৈবচ অবস্থা দেখে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অনেক ক্রিকেটারেরও কমেন্টস করেছেন। এমন কন্ডিশনে এসে বাজে অবস্থায় যাতে না পড়তে হয় সে জন্য বেশি বেশি দক্ষিণ আফ্রিকা বা এমন কন্ডিশনে গিয়ে খেলার জন্য বাংলাদেশ ‘এ’ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে পরামর্শ দিয়েছেন। এটাও ঠিক বাংলাদেশ দল তো আসলেই এত বাজে রেজাল্ট করার মতো দল না। একটু পেছনে গেলেই তো সেটি স্পষ্ট। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। যোগ্যতা না থাকলে আইসিসির ওই মেগা আসরের ওই পর্যায়ে খেলা সম্ভব না।

এ দিকে টিম সাজাতেই এখন হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই টপ অর্ডারের বাজে অবস্থা। এরপর তামিম ইকবাল নেই। এবার কিভাবে সাজানো হবে ওই স্থান। সৌম্যকে নিয়ে ওই স্থানে অনেক পরিকল্পনা। কখনো ভাবা হয়নি যে দিন সৌম্য ব্যর্থ হবেন। যে দিন কোনো কারণে তামিম থাকবেন না? সে কল্পনাতীত সময়ের অবতারণা। বাংলাদেশ এখন কিভাবে সামাল দেবে টপ অর্ডারের। ইমরুল সুবিধা করতে না পারলেও গত ম্যাচে ভালো করেছেন। লিটনকে ট্রাই করা হচ্ছে। পারছেন না। সাকিবের ব্যাটিং অর্ডার ৩-এ নিয়ে গিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতে কিছুই হচ্ছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাটিং করেন তখন মনে হয় উইকেটটা বোধহয় ব্যাটসম্যানদের জন্যই বানানো হয়েছে। রান উৎসব করে ফেলেন তারা উইকেটে। আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন মনে হয় উইকেটটা মুহূর্তে কেউ রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে বোলিং সহায়ক করে দিচ্ছে। আসলে এটি শুধু কল্পনা। উইকেট উইকেটের স্থানেই। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো। সেটি টেস্টের পর ওয়ানডেতেও। না হয় মুশফিক এক ম্যাচে সেঞ্চুরি, অন্য ম্যাচে আবার হাফ সেঞ্চুরি করলেন কিভাবে? ব্যর্থতা ব্যাটসম্যানদেরই। উইকেটে গিয়ে সেট হতে পারছেন না তারা। অথচ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও প্রফেশনাল। উইকেট দেখে মুহূর্তে সেটি মেপে ফেলা প্রয়োজন এবং সে অনুপাতে খেলে যাওয়া উচিত।

বোলারদের অবস্থা সবচেয়ে বাজে। এ ম্যাচে বোলাররা আগের মতো পারফরম্যান্স করলে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ অনায়াসে। এমনিতেই সিরিজে প্রতিরোধ গড়ার কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। মনোবল এতটা নিচু হয়েছে যে সেখান থেকে টেনে তোলার কোনো উপায়ই নেই। দলের এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করবে কে?

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫