অব্যাহত বর্ষণে শিল্পশহর টঙ্গী অচল

প্লাবিত সড়কে মালবোঝাই ট্রাক দেবে বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ জ্যাম : দুর্ভোগ চরমে

শেখ আজিজুল হক টঙ্গী

অব্যাহত বর্ষণে শিল্পশহর টঙ্গীর সার্বিক জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। চার দিকে শুধু পানি আর পানি। কলকারখানা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, শিাপ্রতিষ্ঠান এমনকি অনেক মসজিদের ভেতরও বানের পানি ঢুকেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাসাবাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। টঙ্গী নগর ভবন, টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও থানা কম্পাউন্ডে হাঁটু থেকে কোমরপানি। গতকাল শনিবার টঙ্গীর কোনো শিাপ্রতিষ্ঠানে কাস হয়নি। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজে কাস না হলেও পরীা চালু রাখায় অভিভাবকদের মধ্যে ােভ দেখা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি চার দিক বানের পানিতে পরিবেষ্ঠিত। নিচ তলার প্রতিটি শ্রেণিকে হাঁটুপানি। শিার্থীদের হাঁটুপানি মাড়িয়ে বহু কষ্টে পরীায় অংশ নিতে হচ্ছে। টঙ্গী সরকারি কলেজ, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ, পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অধিকাংশ শিাপ্রতিষ্ঠানের নিচ তলার টেবিল-বেঞ্চ বানের পানিতে ভাসতে দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কসহ নগরীর অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক প্লাবিত হয়েছে। পানির কারণে থানার ভেতর থেকে কোনো গাড়ি বের হতে পারছে না। চার দিকে পানিবেষ্টিত থানা কম্পাউন্ডকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো দেখা যাচ্ছে। থানা ও সরকারি হাসপাতালের সামনে কালীগঞ্জ সড়কে হাঁটু থেকে কোমরপানি পর্যন্ত প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তারগাছ, বড়বাড়ী, সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ী ও ভোগড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমার (ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল) ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মহাসড়কের ওপরে পানি ভেঙে যান চলাচলের সময় বিভিন্ন পয়েন্টে বেশ কয়েকটি গাড়ি গর্তে পড়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এসব গাড়ি সরাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে জেলা ট্রাফিক পুলিশকে।
গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তারগাছ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ও বহর আলী সুপার মার্কেটের সামনে গর্তে ট্রাক পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাতদিন খেটেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। শুক্রবার রাত ৪টায় একটি মালবোঝাই ট্রাক তারগাছ এলাকায় গর্তে দেবে আটকা পড়ে। এ সময় চালক ট্রাক ফেলেই পালিয়ে যায়। দুটি রেকার ব্যবহার করেও ট্রাকটি সরানো যাচ্ছে না। ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টাকালে বারবার রেকারের চাকা ঘুরে গেলেও ট্রাকের চাকা ঘুরানো যাচ্ছে না। পুলিশ ট্রাকের মাল আনলোডের ব্যবস্থা করলে ট্রাকটি অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
অপর দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় রাস্তায় ব্যারিয়ার দিয়ে এক লেন খোলা রেখে চলে যান বিআরটি প্রকল্পের কর্মচারী-কর্মকর্তারা। শুক্রবার রাত ১০টায় ব্যারিয়ার সংলগ্ন স্থানে মালবোঝাই একটি ট্রাক গর্তে পড়ে বিকল হয়। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক পুলিশ রাত ২টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে ট্রাকটি সরানোর পর যান চলাচল শুরু হয়। অপর দিকে শুক্রবার শেষরাতে তারগাছ এলাকায় দেবে যাওয়া মালবোঝাই ট্রাকটি গতকাল শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপসারণ হয়নি। সেখানে পুলিশের তৎপরতা ছাড়া সরকারের অন্য কোনো সংস্থার লোকজন চোখে পড়েনি। গাজীপুর জেলা ও ট্রাফিক পুলিশ একযোগে কাজ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। রেকার দিয়ে গর্ত থেকে একটি গাড়ি উঠাতে-না-উঠাতেই অন্য গাড়ি গর্তে পড়ছে।
গতকাল ‘ট্রাফিক সেবা গাজীপুর’ নামীয় ফেসবুক আইডিতে ােভ প্রকাশ করে বলা হয়Ñ ‘সওজ, সিটি করপোরেশন, বিআরটি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলছিÑ এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়। রাস্তায় আসুন গাজীপুরের মানুষের সমস্যা দেখুন। সমস্যা সমাধানে কিছু করতে না পারেন সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করুন। বেতন হালাল হবে।’ সেখানে অপর এক স্ট্যাটাসে বলা হয়, রাত ১টায় ময়মনসিংহের একজন বৃদ্ধা মহিলা চৌরাস্তায় জ্যামে আটকা পড়ে ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে জানান, তার নিউ ইয়র্ক যাওয়ার ফাইট রাত ৩টায়। বৃদ্ধার আকুতি শুনে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এএসপি সালেহ উদ্দিন সঙ্গীয় কনস্টেবল আলী আজমকে নিয়ে বৃদ্ধার গাড়ি খুঁজে বের করেন। পুলিশ অনেক কষ্টে বৃদ্ধার গাড়িকে সাইড দিয়ে কোনোক্রমে চৌরাস্তায় এনে উল্টা পথে যেতে বলে। বৃদ্ধা ভয়ে উল্টা পথে যেতে রাজি না হলে অবশেষে তাকে কনস্টেবল দিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়। স্ট্যাটাসে আপে করে বলা হয়, ‘এই হলো পুলিশের চাকরি। মানুষের উপকার করার সুযোগও প্রকৌশলীদের নাই। পুলিশের আছে।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.