ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

সৌদি আরবে নারী কর্মী রফতানিতে সংকট ও সমাধান শীর্ষক মতবিনিময়

তল্লাশির নামে রিক্রুটিং এজেন্সিতে হয়রানি বন্ধের দাবি মালিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ২১:৪১


প্রিন্ট

সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর সাথে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও তাদের অফিস স্টাফরা প্রতিনিয়ত কতিপয় আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের হাতে হয়রানি হচ্ছেন। এর মধ্যে সিআইডি কর্তৃক শতকরা ৯৫ ভাগ হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

আজ শনিবার ইস্কাটনের বায়রা ভবনে ‘সৌদি আরবে মহিলা প্রেরণে চলমান সংকট ও সমাধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) এর মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন তার বক্তব্য এমন অভিযোগ করেন।

বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বায়রার যুগ্মসম্পাদক নোমান আহমেদ চৌধুরী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা। এসময় গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি'র পক্ষ থেকে ডিসি ডিবি (সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন) মীর মোদাচ্ছের হোসেন, ডিসি (পশ্চিম) নাজমুল হোসেন ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্দ্ধতন কমকর্তা বক্তব্য রাখেন।

আজ রাতে বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন নয়া দিগন্তকে বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠাতে আমাদের সদস্যরা যে প্রবলেম ফেইস করছি সেগুলো নিয়েই মূলত পুলিশ এবং ডিবি’র ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আমাদের সুন্দর পরিবেশে মতবিনিময় সভা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বৈঠকে সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেছি, একটি মেয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কোন প্রবলেম হলেই রিক্রুটিং এজেন্সির উপর দোষ চাপানো হয়। এরপর পুলিশ আমাদের অফিসে এসে অভিযান চালায়। কখনও ধরে নিয়ে যায়। অথচ আমরা প্রতিটি নারী শ্রমিককে সরকারি নিয়ম-কানুন মেনেই তারপর বিদেশে পাঠাচ্ছি। তারপরও সার্চিংয়ের নামে আমাদের অফিসে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আরো বলেছি, যদি আমাদের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মী রফতানিতে গাফিলতি অথবা সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ উঠে, তাহলে অবশ্যই ওই সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ। সেক্ষেত্রে বায়রা থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সব ধরনের সাপোর্ট দেবো। কিন্তু ইদানীং রিক্রুটিং এজেন্সি অফিসে পাসপোর্ট রাখা যাবে না এমন অভিযোগের কথা বলে পুলিশি হয়রানি শুরু হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কিভাবে ব্যবসা করবো? এতে এই সেক্টরে আরো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এক প্রশ্নের উত্তরে বায়রার মহাসচিব বলেন, এপর্যন্ত যতগুলো এজেন্সিতে অভিযান হয়েছে তার মধ্যে শতকরা পাঁচ শতাংশ পুলিশ ও ডিবি দ্বারা হয়েছে। বাকী ৯৫ ভাগই সিআইডি কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে।

আজ রাতে বায়রার যুগ্ম-সম্পাদক নোমান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা তল্লাশির নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছি।

সভায় পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এক মাস ধরে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরির একটি চক্র শনাক্তের পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন বিদেশগামী কর্মীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন পদ্ধতি আরো সহজ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিক্রুটিং এজেন্সিকে স্বচ্ছ থাকার জন্য তারা আহবাহন জানিয়েছেন। একই সাথে সঠিক পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কিভাবে দেয়া হয় সেই পদ্ধতিও তারা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। এখন থেকে আমরা সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করবো। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে অফিসে পাসপোর্ট রাখা নিয়ে। পাসপোর্ট রাখা নিয়েই মালিকরা হয়রানির শিকার হন।

ডিবি ডিসি মহোদয় বলেছেন, পাসপোর্ট রাখা আইনগতভাবে ঠিক না হলেও যথাযথভাবে রেকর্ড মেইনটেন করে যেনো রাখা হয় এবং বিনা কারণে যেনো কোনো অফিসে পাসপোর্টগুলো আটকে না রাখা হয় সেটি নিশ্চিত করার আহবান জানান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফকিরাপুলের জি-নেট টাওয়ারে সিআইডির জাল পাসপোর্ট ও ভূয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রাখার অভিযোগে অভিযান চালাতে গেলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক, স্টাফ ও স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে জনতা ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পল্টন থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান বলে জানান বায়রার যুগ্ম-সম্পাদক। এরপরই একদিন পর পুলিশের সাথে বায়রার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বরেন, আজকে আমরা পুলিশ ও ডিবিকে নিয়ে বৈঠক করেছি। আগামীকে এই সেক্টরে পুলিশ এবং বায়রা যাতে এক সাথে সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি সেই লক্ষ্যে সিআইডির সাথেও আগামীতে আমরা বৈঠক করবো।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫