ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

প্রাণি ও উদ্ভিদ

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকায় ভারতে ইলিশ ধরা হচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২১ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১৯:২৮


প্রিন্ট
ফারাক্কায় গঙ্গায় ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ

ফারাক্কায় গঙ্গায় ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ

বাংলাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। এখন ইলিশের প্রজনন মওসুম। ইলিশ যাতে বাড়ে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষও সরকারের এই ঘোষণাকে সাদরে গ্রহণ করছে। দুই-একটা ব্যতিক্রম বাদ দিলে সাধারণ মানুষ, জেলেরাও ইলিশ ধরা থেকে বিরত রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হওয়ায় ওই মাছ চলে যাচ্ছে ভারতে। সেখানে বলা যায়, উৎসবের আমেজে ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ। বিশেষ করে পদ্মার সবচেয়ে বিখ্যাত ইলিশই চলে যাচ্ছে গঙ্গায়। বাংলাদেশ বঞ্চিত হলেও লাভবান হচ্ছে ভারত।

শনিবার বিমান হাজরার 'পদ্মার ইলিশে উপচে যাচ্ছে ফারাক্কার গঙ্গা' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ উঠছে ফারাক্কার গঙ্গায়। ছোট ইলিশ থেকে শুরু করে সাত শ'-আট শ' গ্রাম এক-একটা। মৎস্যজীবী, পাইকার, খদ্দের মিলে রোজ সকাল থেকে গঙ্গাপাড়ে মেলা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনিতে ফরাক্কায় ইলিশের দেখা বিশেষ মেলে না। মৎস্য দফতরের ব্যাখ্যা, নিমতিতার আগে গঙ্গা থেকে বেরিয়েছে পদ্মা। সেই বাঁকা পথেই বাংলাদেশের ইলিশের ঝাঁক ঢুকেছে ফারাক্কায়। গত পাঁচ দিন ধরে ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বান ডেকেছে ইলিশের।

অঢেল ইলিশ ওঠার খবর পেয়ে সকাল থেকে মহাজনদের ভিড় জমছে গঙ্গাপাড়ে। মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে তারা সরাসরি ইলিশ কিনে নিচ্ছেন পানির দরে। সকাল-বিকেল ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার মানুষও।

আনন্দবাজারে বলা হয়েছে, ইলিশের দেখা মিলতেই শতাধিক মৎস্যজীবী ধুলিয়ান, হাজারপুর, অর্জুনপুর, মহেশপুর লাগোয়া গঙ্গায় নেমে পড়েছেন। টিনের ডোঙা থেকে ফাঁস জাল ফেলতে ফেলতে যাচ্ছেন তারা নদী বেয়ে। কয়েক ঘণ্টা পরে জাল গোটাতে-গোটাতে ফিরছেন। ফাঁস জালে ইলিশ ধরা বেআইনি। কিন্তু জেলেদের বক্তব্য, এ তো সবই বাংলাদেশের ইলিশ। এ দেশের মাছ তো আর ধরা হচ্ছে না!

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউ ফরাক্কার ব্লক অফিসের পাশেই পাইকারি মাছের বাজার। সেখানেও ইলিশের ঢল নেমেছে। মাছ ব্যবসায়ী মঞ্জুর শেখ বলেন, “সাধারণ সময়ে ফারাক্কার বাজারে ইলিশের জোগান আসে বড় জোর ৫/৬ মণ মতো। গত পাঁচ দিন ধরে ১৫০ থেকে ১৮০ মণ করে আসছে। এক দিন তো ২০০ মণও ছাড়িয়ে গিয়েছে।” এই সব ইলিশের অর্ধেকের বেশি ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে। দাম সাইজ অনুযায়ী ২৫০ টাকার মধ্যে। বাকি ৪০০ গ্রামের নিচে, সে সব বিকোচ্ছে বড় জোর ৮০ টাকা কিলো দরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর পূজোতেও দিন দশেকের জন্য গঙ্গায় ইলিশ মিলেছিল দৈনিক তিন শ' মণের বেশি। জেলার মৎস্য দফতরের সহ-অধিকর্তা জয়ন্তকুমার প্রধান জানান, এই সময়ে সমুদ্র থেকে ইলিশের ঝাঁক পদ্মায় মিঠে পানি ডিম ছাড়তে আসে। তাদেরই কিছু কোনো ভাবে ফারাক্কার গঙ্গায় চলে এসেছে। এটা সাময়িক ব্যাপার।

হাজারপুরে নদীর পাড়ে এখন প্রায় মেলা বসছে সকাল-সন্ধে। মৎস্যজীবী বুধন হালদার বলেন, “গত পাঁচ দিনে ১৩৮ কিলো ইলিশ ধরা পড়েছে শুধু আমার জালেই। বেশির ভাগই ৩০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। তবে এত বেশি ইলিশ ওঠায় দর নেই তেমন।”

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৎস্য দফতরের কর্তার হিসেবে, প্রাপ্তবয়স্ক একটি ইলিশ ২০ লক্ষ মতো ডিম পাড়ে। তার ১০ শতাংশ বাঁচলেও এক বছরেই তার সংখ্যা দাঁড়াবে লক্ষাধিক। সেই কারণেই ডিম ছাড়ার সময়ে বাংলাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা আছে এ বঙ্গেও । ফারাক্কায় অবশ্য এ সব মানার বালাই নেই এখন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫