ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

‘চকোলেট পাঠালাম মরার আগে খেয়ে নিস’

আবু সালেহ আকন

২১ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

‘তোদের বাপকে তো মেরেছি, এখন তোদের পালা। মৃত্যুকালে পানিও পাবি না। তাই সাতটি চকোলেট পাঠালাম। মরার আগে খেয়ে নিস।’ এই বলে নিহত আল আমিনের বাসায় চকোলেট পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আল আমিনের পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, এখন তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ দিকে আল আমিন হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তার বাবা নজরুল মাঝি আদালতে একটি মামলা করেছেন।
নিহত আল আমিনের বাবা নজরুল বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে কাজ শেষ করে নজরুল বাসায় ফিরছিলেন। বাসার সামান্য দূরে স্থানীয় সন্ত্রাসী জলিল ও আরিফ আল আমিনের কাছে নেশার টাকা দাবি করে। আল আমিন তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে সন্ত্রাসীরা ধরে বেদম মারধর করে। তাকে কিল-ঘুষি মারে এবং পায়ের নিচে ফেলে নির্যাতন করে। গুরুতর আহত হলেও আল আমিনের শরীর দিয়ে কোনো রক্তপাত হয়নি। আহত অবস্থায় তিনি বাসায় চলে যান। বাসায় গিয়ে বড় মেয়ে জান্নাত বেগমের কাছে এসব কথা বলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আল আমিনের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। একটি সিএনজি অটোরিকশা ডেকে বাসার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। এ দিকে যারা আল আমিনকে মারধর করেছে তারা আল আমিনকে হাসপাতালে নিতে দেখে ওই গাড়ির পিছু নেয়। পথে তারা গাড়ি আটকে দেয়। সেখানে বিপ্লব নামে এক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে আল আমিনের স্ত্রীকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়া হয়। আর ওই বিপ্লবই আল আমিনের স্ত্রীকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দেয়। আল আমিনের লাশ মাতুয়াইলের বাসায়ও নিয়ে যেতে দেয়নি তারা। পথে থেকেই অ্যাম্বুলেন্স বরিশালের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত ৩টায় আল আমিনের লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি হিজলার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। ১৪ সেপ্টেম্বর লাশটি দাফন করার পরে নজরুল জানতে পারেন তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আল আমিনের বড় মেয়ের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত জেনে অন্যদের কাছেও খোঁজ নেন। সবার কাছ থেকেই তিনি একই কথা শোনেন। নজরুল বলেন, কোথায় কার কাছে যাবেন, কার কাছে গেলে সন্তান হত্যার বিচার হবে তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি পরিচিত এক প্রতিবেশীর সহায়তায় ঢাকায় আসেন।
নজরুল মাঝি বলেন, ঢাকায় এসে তারা ডেমরা থানায় গিয়েছেন। কিন্তু থানা মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। নজরুল জানান, তার ছেলে একজন দিনমজুর ছিল। দিনে যে টাকা রোজগার করত বাসায় যাওয়ার পথে প্রায়ই ওই সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে ওই টাকা রেখে দিতো। ঘটনার দিনও তারা টাকা দাবি করলে আল আমিন টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করা হয়।
নিহত আল আমিন ডেমরার মাতুয়াইল মুসলিম নগরে মোক্তার-ই-গোলেনুর দোতলা মসজিদের পাশে ছয় সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করত। এ দিকে থানায় যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা ক্ষেপে যায়। তারা বুড়ি নামে এক মাদকব্যবসায়ীকে দিয়ে নিহত আল আমিনের বাসায় সাতটি চকোলেট পাঠিয়ে দেয়। বুড়ি ওই চকোলেট কয়টি আল আমিনের মেয়ের হাতে দিয়ে বলে তোদেরও মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। মরার আগে তো পানি পাবি না তাই চকোলেটগুলো খেয়ে নিস। আল আমিনের মেয়ে জান্নাত জানায়, তার মা এবং তাদের ছয় ভাই-বোনের জন্য এ চকোলেটগুলো পাঠিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এরপর থেকে তারা চরম ভয়ের মধ্যে আছে। জান্নাত জানায়, ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে চায় না। তার বাবাকে হত্যার পরেও সন্ত্রাসীরা এলাকাতে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫