ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকা

বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে : মির্জা ফখরুল

গাজীপুর সংবাদদাতা

২০ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৪৭


প্রিন্ট
স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্মরণসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশব্যাপী বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের গুম, খুন করে ভয় দেখানো হচ্ছে। কারণ বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। যত ধরনের কারচুপি, কারসাজি করা যায়, তারই চেষ্টা করে যাচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির মরহুম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ স ম হান্নান শাহর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার গাজীপুরে এক স্মরণসভায় তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন হউক। যেন জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে। এজন্য নির্বাচনের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। দেশে ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ দেশের বিপদ আরো ঘনিভূত হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র হুমমির মুখে। আমাদের আপোষহীন নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা দেয়া হয়েছে। বিরোধী দলের শত শত নেতাকর্মীকে গুম করেছে এই সরকার। ষড়যন্ত্র হচ্ছে তারেক রহমানকে নির্বাসিত রেখে আর দেশে ফিরতে না দেয়ার। ষড়যন্ত্র চলছে বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার। ষড়যন্ত্র চলছে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আর ফিরিয়ে না দেয়ার। যতদিন দেশনেত্রী আছেন, তারেক রহমান আছেন, যতদিন এ দেশে একজনও দেশপ্রেমিক মানুষ আছে ততদিন এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না।

রোহিঙ্গা সংকট উত্তরণে তিনি সরকারকে জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে জাতীয় কনভেনশন ডাকার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন একজন সৈনিক। তিনি ছিলেন জাতীয় নেতা। স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতি করেছেন।

হান্নান শাহ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের সময় জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে ১/১১’র সময়ও গণতন্ত্র রক্ষায় কথা বলেছেন। হান্নান শাহ দেশের দুর্যোগে, দলের দু:সময়ে কান্ডারী ছিলেন। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত ব্যক্তি ও বিএনপির নেতা কর্মীদের অভিভাবক ছিলেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগটিয়াচালা ওয়েল ফেয়ার ক্লাব মাঠে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এ স্মরণ সভায় কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিমের পরিচালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, হান্নান শাহর ছেলে শাহ্ রিয়াজুল হান্নান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, হান্নান শাহর ছোট ভাই মোবারক শাহ্, বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, মজিবুর রহমান, ডাঃ মাজহারুল আলম, গাজীপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হান্নান মিয়া হান্নু প্রমুখ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহর বাড়ি সংলগ্ন জামে মসজিদে জুমা নামাজ আদায় শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে হান্নান শাহর কবর জিয়ারত করেন।

দিনব্যাপী বৈরী আবহাওয়া ও অবিরাম বর্ষণ উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা স্মরণ সভায় যোগ দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫