ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

কূটনীতি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দু’দিনের সফরে ঢাকা আসছেন রোববার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

২০ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ২০:২২ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ২০:২৪


প্রিন্ট
সুষমা স্বরাজ (ফাইল ফটো)

সুষমা স্বরাজ (ফাইল ফটো)

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুই দিনের সফরে আগামী রোববার ঢাকা আসছেন। তিনি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেবেন। জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

জেসিসি বৈঠকে যৌথ নদীর পানি বণ্টন, বিশেষ করে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করা, ভারতের ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সহযোগিতা, নিরাপত্তাসহ বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা হবে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় সই হওয়া চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও এই সফরকালে আলোচনা হবে।

আগামী রোববার হোটেল সোনারগাঁওয়ে জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন সুষমা স্বরাজ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও তিনি সাক্ষাত করতে পারেন।

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে রয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে ছিটমহল বিনিময় ও অপদখলীয় ভূমি হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। তবে অনিষ্পন্ন সীমানা নির্ধারণের কিছু কাজ এখনো বাকী রয়ে গেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপি - ভারতের দুই সরকারের আমলেই কেন্দ্রের সাথে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সমঝোতা হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাধার কারণে তা সই করা সম্ভব হয়নি। ইস্যুটি এখনো অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

বাংলাদেশী পণ্যের জন্য ভারত শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দিলেও নানাবিধ অশুল্ক বাধার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৈষম্য এখনো ব্যাপক আকারে রয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের জন্য ভারতের বেসরকারি খাত বড় আকারের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে আসছে। আর সরকারি পর্যায়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে জ্বালানী খাতে বিনিয়োগ। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনে দুই দেশের মধ্যে ভাল বোঝাপড়া রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ বর্তমানে সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের নিপীড়নে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এসেছে প্রায় ছয় লাখ। মিয়ানমারে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে চীনের সাথে প্রতিযোগিতার কারণে ভারত এ ব্যাপারে বাংলাদেশের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারছে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দিল্লি সফর করে ভারতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিস্তারিত কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু এর ফলে ভারতের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না। বরং উল্টো ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বিএসএফের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে যতটা সম্ভব কম বিব্রত করে মিয়ানমারকে সমর্থন দেয়ার নীতি অবলম্বন করছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারতের তৎকালিন কংগ্রেস সরকার প্রকাশ্যেই ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থনে কাজ করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি কি নীতি অনুসরণ করে তা এখন দেখার বিষয়। তবে এ পর্যন্ত ভারত সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষেই কথা বলছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫