ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

রকমারি

অন্যরকম আকর্ষণীয় ১৪ মসজিদ

সফেদ শিশির

২০ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৬:১৫


প্রিন্ট
অন্যরকম আকর্ষণীয় ১৪ মসজিদ

অন্যরকম আকর্ষণীয় ১৪ মসজিদ

পবিত্র কাবা শরিফ
পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফ মোট ১২ বার নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান ডিজাইনের নির্মাতা মুসলিম শাসক হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। তিনি ইসলাম পূর্ববর্তী কুরাইশদের ডিজাইন অনুসরণ করেছেন। সর্বশেষ কাবা শরিফের সংস্কার কাজ করা হয় ১৯৯৬ সালে। কাবা শরীফকে গিলাফে আবৃত করার প্রচলন শুরু হয় প্রাচীন জুরহুম গোত্রের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে এ ধারা চলমান থাকে। কাবার বর্তমানে দরজা আছে একটি। জানালা নেই। তবে কাবার অভ্যন্তরে আরেকটি দরজা আছে। যা ছাদে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। হাজরে আসওয়াদ মূলত একটি বড় পাথর ছিল। তবে বর্তমানে এটি মোট আটটি পাথরখন্ডের সমষ্টি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাথরটি ভেঙ্গে গেছে। ইসলাম পূর্বযুগ হতে এখন পর্যন্ত বনু শাইবাহ গোত্রই কাবার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। কাবা ঘরের রক্ষকগোত্র বনু শাইবাহর তত্ত্বাবধানে বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জমজম কুয়ার পানি, গোলাপজল এবং আরবের বিখ্যাত সুগন্ধি উদের তেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ক্লিনিং লিকুইড তৈরি করা হয় এবং তা দিয়েই কাবা ঘর পরিষ্কার করা হয়।কাবার দরজা একসময় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। পরবর্তীতে লোক সমাগম বেড়ে যাওয়ার কারণে কাবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। সবসময়ই কাবার চারপাশে তাওয়াফ চলতে থাকে। শুধু নামাজের জামাত যে সময়টুকুতে হয়, তা ছাড়া বাকি পুরো সময় ধরে কাবার চারধারে চলতে থাকে অবিরাম তাওয়াফ।

মসজিদে নববী
মসজিদে নববী মুহাম্মদ (সা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। মসজিদ দিনরাতের সবসময় খোলা থাকে। মুহাম্মদ (সা) এর বাসগৃহের পাশে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। সেসময় মসজিদ সম্মিলনস্থল, আদালত ও মাদ্রাসা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালের মুসলিম শাসকরা মসজিদ সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আরব উপদ্বীপের মধ্যে এখানেই সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। উমাইয়া খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে সম্প্রসারণের সময় মুহাম্মদ (সা) এবং প্রথম দুই খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর ও উমরের কবর মসজিদের অংশ হয়। মসজিদের দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থিত সবুজ গম্বুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এটি আয়িশার বাড়ি ছিল। এখানে মুহাম্মদ (সা) এবং তার পরবর্তী শাসক দুইজন খলিফাকে দাফন করা হয়।

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান মসজিদ
পানিতে ভাসমান এ মসজিদটির নাম দ্বিতীয় হাসান মসজিদ। এটির অবস্থান মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায়। মসজিদটির তিন ভাগের এক ভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি তৈরি করেছেন। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। মহাসাগরে ভাসমান এ মসজিদটি মরক্কোসহ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ। মসজিদটির ভেতরে ২৫ হাজার এবং ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। নারীদের জন্য রয়েছে নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা। ঝড়-বৃষ্টির সময় ছাড়া প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করাতে মসজিদটির ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় তিন মিনিট পরপর। ৩৩ ফুট উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ সামলে নেয়ার ব্যবস্থা আছে মসজিদটিতে। সমুদ্রের কোনো গর্জন শোনা যায় না মসজিদটির ভেতর থেকে। ২২ দশমিক ২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গে আছে সভাকক্ষসহ লাইব্রেরি, কুরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা। আড়াই হাজার পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশ সাজানো হয়েছে ১২৪টি ঝরনা ও ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি দিয়ে। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও এসব মোড়ানো হয়েছে স্বর্ণের পাত দিয়ে। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মেহরাবের উচ্চতা দোতলা ভবনের সমান। আর মিনারের উচ্চতা ২১০ মিটার। ৬০ তলা ভবনের সমান এ মিনারের ওপরে রয়েছে লেজার রশ্মি, যা নাবিকদের দেখিয়ে দেয় পবিত্র কাবাশরিফের পথ। ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায় এই লেজার রশ্মি। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার এটি।

মসজিদটির প্রতিটি দেয়ালে শুধুই কোরআনের আয়াত
মাসকাট ওমানের রাজধানী এবং বৃহত্তম নগর। রাজধানীর অদূরে আল খুয়েইর মিনিস্ট্রিজ ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় অবস্থিত আল জাওয়াবি মসজিদ। এর অদূরে ওমানের বৃহত্তম মসজিদ সুলতান কাবুস গ্র্যান্ড মস্ক। মসজিদ সুলতান কাবুসে রয়েছে, ইসলামি স্থাপত্যকলার অপরূপ নিদর্শন। এ মসজিদে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঝাড়বাতি আর হাতে বানানো কার্পেট। দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে এবং আভিজাত্যে এটি অতুলনীয় হলেও জাওয়াবি মসজিদও বিশেষ কারণে ইসলামি উম্মাহ ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই জাওয়াবি মসজিদের অভ্যন্তর ভাগের প্রতিটি দেয়ালে তাম্রপাত্রে খোদিত আছে পুরো ত্রিশ পারা কোরআনে কারিমে। ভূমি থেকে ২৫-৩০ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে মসজিদটিতে উঠতে হয়। মসজিদের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে তিনটি সুউচ্চ প্রবেশদ্বার রয়েছে। এর ভেতরের গম্বুজটি দেখতে একটি উল্টানো পদ্ম ফুলের মতো। গম্বুজের ভেতরের অংশ প্রাচ্যের নক্সাদার স্টোনওয়ার্ক আর ২২ ক্যারেট স্বর্ণখচিত আরবি ক্যালিওগ্রাফির আকর্ষণীয় কাজ রয়েছে। গোলাপি রঙের মার্বেল পাথরে মসজিদের বহির্ভাগ নির্মিত। এর প্রবেশ তোরণগুলোতেও দেওয়া হয়েছে কোরআনিক বিভিন্ন নক্সা। মসজিদের মিনারটি অনেক উঁচু এবং বহু দূর থেকে তা দৃশ্যমান। আল জাওয়াবি মসজিদের লাগোয়া স্থাপনাটি একটি লঙ্গরখানা। নিয়মিত এখানে সন্ধ্যার পরে দরিদ্র ও মুসাফিরদের জন্য তাবারুকের ব্যবস্থা করা হয়, যদিও এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকেন। কথিত আছে যে, এখানকার তাবারুক বহু অসুখ-বিসুখ হতে শাফা দেয়। এই বিশ্বাসের ফলে প্রচুর মানুষ এ তাবারুক নিতে এখানে আসেন।

যে মসজিদটি শহরের সব জায়গা থেকেই দেখা যায়
সুলতান ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদটি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানে অবস্থিত। এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি ব্রুনাইয়ের ২৮তম সুলতান ওমর আলি সাইফুদ্দিনের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৫৮ সালে মসজিদটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়। মসজিদটির প্রধান গম্বুজটির বাইরের অংশ সম্পূর্ন খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরী। মসজিদটি ৫২ মিটার (১৭১ ফুট) উচ্চতায় নির্মিত বলে শহরের যেকোন স্হান থেকে সহজেই দেখা যায়। আবার মসজিদের প্রধান মিনারে উঠলে পুরো বন্দর সেরি বেগাওয়ান শহর দৃষ্টিগোচর হয়। মসজিদটির প্রবেশে সুদীর্ঘ একটা ব্রীজ রয়েছে। ৫ একর জমির উপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের (ইনডোর) অংশে একসাথে ৩০০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদটি নির্মানে অত্যন্ত দামী গ্রানাইট, মার্বেল ও ক্রিসটাল ব্যবহার করা হয়।

বাবরি মসজিদ
বাবরি মসজিদ সম্ভবত ভারতের সবচেয়ে আলোচিত একটি মসজিদের নাম। বাবরি মসজিদ’র অর্থ বাবরের মসজিদ। ১৫২৭ সালে মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয় বলে এর এইরকম নামকরণ। মসজিদটি ভারতের উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত। ১৯৯২ সালে দাঙ্গার ফলে মসজিদটি সম্পূর্ণরুপে ভূমিসাৎ করা হয়। ফলস্বরুপ  ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গায় কেবলমাত্র মুম্বাই ও দিল্লীতেই দুই হাজার মানুষের প্রাণ যায়। বাবরি মসজিদ জানপুরের সুলতানি স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। বাবরি মসজিদ তার সংরক্ষিত স্থাপত্য ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মসজিদটি সম্রাট আকবর দ্বারা গৃহীত ইন্দো-ইসলামী গঠনশৈলীর প্রতীক ছিল। আধুনিক স্থপতিদের মতে বাবরি মসজিদের চিত্তাকর্ষক স্বনবিদ্যার কারণ হল মসজিদটির মিহরাব ও পার্শ্ববর্তী দেয়ালগুলিতে বিভিন্ন খাঁজ যা অনুনাদক হিসাবে কাজ করতো। এই নকশা মেহরাবে অবস্থিত ইমামের কথা সবাইকে শুনতে সাহায্য করতো। এছাড়াও বাবরি মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বেলেপাথর অনুনাদের কাজ করে যা মসজিদটির শব্দ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতো।

মক্কা শরীফের মাটি দিয়ে তৈরি যে মসজিদ
পবিত্র মক্কা নগরীর মাটি দিয়ে তৈরি মসজিদ এই উপমহাদেশে কিন্তু একটাই। নাম মক্কা মসজিদ। এটি পবিত্র নগরী মক্কার কোনো মসজিদ নয়। আলোচিত এই মসজিদটি আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদ জেলায় একটি অবস্থিত। মসজিদটির মূল ভবনের ইট তৈরির জন্য মাটি আনা হয় সৌদি আরবের মক্কা থেকে। তাই মসজিদটির নাম রাখা হয়েছে ‘মক্কা মসজিদ’। মসজিদটি ভারতের বৃহৎ ও প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম এবং ঐতিহাসিক পুরাতন হায়দ্রাবাদ শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।কুতুব শাহি সাম্রাজ্যের পঞ্চম শাসক মোহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ মসজিদটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বর্ণ খচিত মসজিদ
প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্বর্ণ খচিত একটি মসজিদ রয়েছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। মস্কোয় ২০১১ সালে ধংস হয়ে যাওয়া শত বর্ষের পুরোনো মসজিদটির স্থানেই নতুন এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

এক ডিম থেকে মসজিদ নির্মাণ
মাত্র একটি ডিম থেকেই নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় একটি মসজিদের। হবিগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ৭৫ কিঃমিঃ দূরে নিভৃত পল্লীতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন এক মহিয়ষী নারী। এলাকাবাসীর অন্তরে যা আজো তার নাম উজ্জ্বলতর তারকা হয়ে আছেন তিনি।তার রেখে যাওয়া স্মৃতি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে বেঙ্গির এক এন্ডার (ডিম) মসজিদ দেখতে। ১৯০২ সালে (১৩০৭ বঙ্গাব্দ) প্রজাতপুর গ্রামের তৎকালীন সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা প্রজাতপুর ও লালপুর দুটি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের শেষে এলাকাবাসীকে জড়িত করে মসজিদটির নামকরণ করেন ‘এক এন্ডা (ডিম)র মসজিদ’। তখন মসজিদের নামকরণ নিয়ে জনতার মধ্যে প্রশ্ন জাগলে তিনি ঘটনাটি খুলে বলেন। বেঙ্গির মা এলাকাবাসীকে জানান তিনি একটি মুরগীর ডিম মসজিদের নামে মানত করে রাখেন। ঐ ডিমটি থেকে মুরগীর উঠলে দিলে তা থেকে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ঐ বাচ্চাটি বড় হলে তা থেকে আরো সাতটি ডিম হয়। পরবর্তীতে ঐ সাতটি ডিম থেকে সাতটি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে এক পর্যায়ে মুরগীর খামার গড়ে তুলেন। ঐ খামারের মুরগী বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এক লাখ টাকা জমা করে মসজিদটি তার স্বামীর মাধ্যমে নির্মাণ করে দেন। বেঙ্গির মা ছিলেন নিঃসন্তান। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মসজিদটির নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মসজিদ নির্মাণের শত বছর অতিবাহিত হলেও এখন এ কাহিনী সবার মুখে মুখে।

৪৭ একর আয়তনের মসজিদ
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মসজিদটির নাম হচ্ছে "শাহ ফাইসাল" মসজিদ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এটি অবস্থিত। শাহ ফাইসাল মসজিদটি প্রায় ৫৪ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে আছে। এটি তৈরিতে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় হয়! এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ মানুষ প্রার্থনা করতে পারে। এ ছাড়া মসজিদ সংলগ্ন খোলা জায়গায় আরো প্রায় ২ লাখ মানুষ নামাজ পড়তে পারে। পুরো মসজিদ এলাকার আয়তন ৪৭ একর। এর মধ্যে ভেতরের অংশের আয়তন ১.১৯ একর।

বৃহত্তম মাটির মসজিদ
‘গ্র্যান্ড মস্ক অব ডিজেনি’ পৃথিবীর বৃহত্তম একটি মসজিদ এটি। পশ্চিম আফ্রিকার মালির ডিজেনি শহরে এই মসজিদটি মধ্যযুগে আফ্রিকার এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শিক্ষা বিস্তারের প্রধান কেন্দ্র ছিল। এটি নির্মাণ করা হয় ১২০০ শতাব্দী থেকে ১৩০০ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে। তবে বর্তমান ওই মসজিদের অবকাঠামো দেখে বুঝা যায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে ১৯০৭ সালে। বানি নদীর তীরে অবস্থিত মসজিদটি নির্মাণ করা হয়ে শুকানো মাটি দিয়ে। মসজিদটি ২৪৫ বাই ২৪৫ ফুট (৭৫ বাই ৭৫ মিটার) আয়তনবিশিষ্ট তিন ফুট উঁচু প্লাটফর্মের ওপর তৈরি। বর্ষাকালে বানি নদীর পানি থেকে এই প্লাটফরম মসজিদটিকে সুরা করে। মনোমুগ্ধকর নকশা খচিত এই মসজিদটি ও এর চার পাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত করে ইউনেস্কো। ওই দেশটির সুলতান কুনবরু ইসলাম কবুল করার পর মসজিদটি নির্মাণ করেন। আর এটি তিনি নির্মাণ করেন তার প্রাসাদটি ভেঙে। সেই সাথে মসজিদের পূর্ব দিকে নিজের বসবাসের জন্য তৈরি করেন অপর একটি প্রাসাদ।

জেদ্দার শ্বেত মসজিদ
বিশ্বের অন্যতম সুন্দর মসজিদ হল জেদ্দার ভাসমান মসজিদটি। শুভ্র সাদার জন্য একে শ্বেত মসজিদও বলা হয়। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী জেদ্দায় এই অনিন্দসুন্দর মসজিদটি অবস্থিত। এই নগরীতে কেউ গেলে একবারের জন্য এই মসজিদ না দেখে এলে তার জন্য আফসোস রয়ে যাবে সারা জীবন। জেদ্দায় লোহিত সাগরের উপকূলে মসজিদটি বানানো হয়েছে। সাগরের বুকে এমনভাবে মসজিদটি বানানো হয়েছে যে মনে হবে এটি সাগরে ভাসছে।

স্বর্গোপম অনুভূতির মসজিদ
‘শেখ জায়েদ মসজিদ’। হৃদয়গ্রাহী বর্ণবৈচিত্র্যময় মর্মরে গাঁথা স্বপ্নময় সুন্দর এই স্থাপত্যের কলাকৌশল এবং উপকরণের বৈচিত্র্য এক স্বর্গোপম অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে তুরস্কের টাইলস, নিউজিল্যান্ডের উল ও জার্মানির স্ফটিক। ব্রিটিশ, ইতালীয় ও আমিরাতের স্থপতিদের মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে এ সুদৃশ মসজিদটি। এটি নির্মিত হয়েছে আবুধাবিতে। সব মানুষের জন্য খোলা। ২০০৭ সালে উদ্বোধন করা এই মসজিদে নির্বিঘ্নে যেতে পারেন যেকোনো ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষ। প্রতিবছর ১০ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী আসে এ মসজিদে। এখানে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়। ইহুদি-খ্রিস্টান বা যে কেউ হন না কেন। এ মজিদের এটাই বিশেষত্ব। আবুধাবির বিপুল তেলের রাজস্ব কাজে লাগিয়ে দেশটির আধুনিকায়ন এবং বিশ্বমানের সব স্থাপত্য নির্মিত হয়। শেখ জায়েদ মসজিদের প্রায় চারদিক ঘিরে রেখেছে টলটলে জলের চৌবাচ্চা। রাতের বেলায় আলোকিত এই মসজিদ চত্বরে চলে আলোর খেলা।

৮৬ বছরেও কোরআন তেলাওয়াত থামেনি মসজিদে
৮৬ বছর আগে কোরআনের ধ্বনি গুঞ্জরিত হতে শুরু করে মসজিদটিতে। সেই ধ্বনি আর বিশ্রাম নেয়নি ক্ষণিকের জন্যও। এটিই টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি নবাব প্যালেস মসজিদের এক অনন্য বৈশিষ্ট। বর্তমানে এটি একটি বর্গাকৃতির মসজিদ এবং সাধারণ তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকৃতির মুঘল মসজিদের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সংস্কারের পর বর্তমানে এর অনেক বৈশিষ্ট্যই বদলে গেছে। একই সঙ্গে মসজিদটির প্রাচীনত্ব লোপ পেয়েছে এবং চাকচিক্য অনেক বেড়েছে। মসজিদটি বর্ধিতকরণ ও সংস্কার সাধনের পরও এর ওপরস্থ তিনটি গম্বুজ ও পাঁচটি প্রবেশপথে প্রাচীনত্বের ছাপ লক্ষ করা যায়। মসজিদসংলগ্ন অর্ধবিঘা আয়তনের প্রাচীরে ঘেরা একটি প্রাচীন কবরস্থান রয়েছে। ১৯২৯ সাল থেকে এই মসজিদে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তেলাওয়াত করার রীতি হয়েছে। মসজিদের বাহ্যিক ও অভ্যান্তরীণ কাঠমোর পরিবর্তন হলেও এই রীতি লঙ্ঘন হয়নি ৮৬ বছরে এক মিনিটের জন্যেও। বর্তমানে এই মসজিদে সাতজন ক্বারি নিযুক্ত রয়েছেন। ২ ঘণ্টা পর পর একেকজন কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫