ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

ইউরোপ

পুতিনকে কাঁপাতে আসছেন এই সুন্দরী!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২০ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০৭:০৮


প্রিন্ট
কিসিনিয়া সবচাক

কিসিনিয়া সবচাক

রাশিয়ার ‘প্যারিস হিলটন’ তিনি। সব সময়ই খবরের শিরোনামে থাকেন কিসিনিয়া সবচাক। আরো একবার রুশ সংবাদ মাধ্যম তাকে নিয়ে তোলপাড়। এ বারের কারণটা অবশ্য একটু অন্য। প্রেসি়ডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিসিনিয়া। রুশ রাজনীতিতে এখন তাই নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন পানিঘোলা।

প্রায় দু’দশক ধরে রাশিয়ায় কর্তৃত্ব চলছে পুতিনের। ভোট আগামী মার্চে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছ‌েন, সামনের নির্বাচনেও হইহই করে জিতবেন বর্তমান প্রেসিডেন্টই। আর সেখানেই আপত্তি ৩৫ বছরের কিসিনিয়ার। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশের শীর্ষ পদের জন্য লড়ার সম্পূর্ণ অধিকার তার রয়েছে। তাই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।

আসলে রাজনীতির পরিবেশেই বেড়ে ওঠা কিসিনিয়ার। আনাতলি সবচাকের মেয়ে তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রাক্তন মেয়র আনাতলির হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে নেমেছিলেন বর্তমান রুশ প্রেসি়ডেন্ট। তিনিই নব্বই দশকের গোড়ায় সিটি হলে এক আধিকারিক হিসেবে পুতিনকে এনেছিলেন। তার পর আর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরেননি পুতিন। ২০০০ সালে মারা যান আনাতলি। কিসিনিয়ার মা, লুডমিলা নারুসোভা রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্য। কালই এক রুশ টিভি চ্যানেলকে কিসিনিয়া জানিয়েছিলেন পুতিনের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, ‘‘ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ রাজনীতিতে একই মুখ বার বার দেখতে দেখতে ক্লান্ত আমি।’’

ক্রেমলিন অবশ্য কিসিনিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও এই সব কিছুর মধ্যেই ‘নাশকতা’ গন্ধ পাচ্ছেন বিরোধীরা। কিসিনিয়ার দাবি, বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থন রয়েছে তাঁর পিছনে। নাভালনির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে ক্রেমলিন। এ বার তাই ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না তিনি। দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য ক্রেমলিনের সাজানো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নাভালনি। তিনি আবার কিসিনিয়াকে সমর্থনের কথাও অস্বীকার করেছেন। বরং তার মতো বিরোধীদের আশঙ্কা, কিসিনিয়াকে সামনে দাঁড় করিয়ে কিছু বিরোধী ভোট কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুতিনের। সে ক্ষেত্রে আরো একবার ক্রেমলিনে ‘রাজত্ব’ করা আরো সহজ হবে তার। বিরোধীদের মত, স্বচ্ছ ভোট পদ্ধতি দেখিয়ে আদতে নিজের রাস্তা সুগম করার কথাই ভাবছেন পুতিন।

কিন্তু সাক্ষাৎকারে কিসিনিয়া জানিয়েছেন, পুতিনের রাজত্ব শেষ করার জন্য প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার কথা ভেবেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘১৮ বছর বয়সে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, সে বার পুতিন প্রেসিডেন্ট হলেন। সে বছর যারা জন্মেছিল, তারা এ বার ভোট দেবে। ভেবে দেখুন এক বার।’’ যদিও প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত এখন নিলেও ২০১২ থেকেই সক্রিয় ভাবে পুতিন সরকারের বিরোধিতা করে আসছেন কিসিনিয়া।

একটি রিয়্যালিটি টিভি শো উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রচারের আলোয় এসেছিলেন কিসিনিয়া। নাম ডম-২। এমনিতে বিভিন্ন ‘পেজ থ্রি’ অনুষ্ঠানে তাঁর ছবি দেখতেই অভ্যস্ত রুশরা। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ‘ফলোয়ার’ পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি। পুতিনকে হারিয়ে রুশ রাজনীতিতে কিসিনিয়া কী পরিবর্তন আনতে পারেন, তা জানতেই এখন আগ্রহী রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ।

বড় জয় পেতে যাচ্ছেন আবে

জাপানে আগাম নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার অনুষ্ঠেয় এ আগাম নির্বাচনে তিনি তার জাতীয়তাবাদ কর্মসূচি ও উত্তর কোরিয়া বিষয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে রায় পেতে চাচ্ছেন।


উত্তর কোরিয়ার জাপানকে সমুদ্রে ‘ডুবিয়ে’ দেয়ার অঙ্গীকার এবং জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করায় উভয় দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশের আগাম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চালানো বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছেÑ এ নির্বাচনে আবের রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেলেও নামমাত্র একটি দুর্বল বিরোধী দল নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে কোনো আপস নয়Ñ এমন নীতি বজায় রেখে আবে পিয়ংইয়ং সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন।


উল্লেখ্য, আবে গত মাসে এ আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্ধারিত সময়ের এক বছরের বেশি আগে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫