তাড়াশের ধানক্ষেতে পাতাপোড়া রোগ : কৃষক দিশেহারা

লুৎফর রহমান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নাবি রোপা আমন ধানে পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছর বন্যার কারণে উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকেরা আবার ধান আবাদ করেন। দ্বিতীয় বার লাগানো ধান পাতাপোড়া ও ব্যাকটেরিয়াজনিত বিএলপি রোগে আক্রান্ত হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, বারুহাস ও মাধাইনগর ইউনিয়নের প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ধান গাছ পাতাপোড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তিনি ব্রি-৪৯ ও ৩৪ জাতের ধান ১৭ বিঘা জমিতে রোপণ করেন; কিন্তু তার জমিতে ১০-১৫ দিনের মধ্যেই পাতাপোড়া রোগ দেখা যায়। কীটনাশক বিক্রেতা তাকে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করতে বলেন। সে অনুযায়ী আবদুল হাই তার জমিতে দিনে দুই-তিন বার বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ করেন; কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। অপর দিকে একই উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাশ গ্রামের কৃষক সুজাব আলী জানান, তার জামিতে পাতাপোড়া ও ব্যাকটেরিয়া রোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও ওই রোগ পাশের গ্রাম কাস্তা, সেরাজপুর, ওয়াশিন ও কুমাল্লুতে ব্যাপকহারে দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বছর দ্বিতীয় দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নতুন করে চারা রোপণ করায় ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে ছয়-সাত হাজার টাকার চারা কিনতে হয়েছে। তা ছাড়া সার, শ্রমিকের মজুরি তো আছেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ধানের ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিএলপি (ব্যাকসিডিয়াল লিফ ব্রাইট) বা পাতাপোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে। তিনি প্রতি পাঁচ শতাংশ জমিতে ৬০ গ্রাম সালফার ও ৬০ গ্রাম পটাশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.