আগামী ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আগামী ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রাস্তায় প্রসব ও নবজাতকের মৃত্যু

হাসপাতালে সেবা না পাওয়া অন্ত:স্বত্ত্বা নারীকে কেন ক্ষতিপূরণ নয় : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তিন হাসপাতাল ঘুরেও সেবা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব এবং নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এক নারীকে কেন উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই নারীকে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ঘটনার খবর নজরে নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মাহমুদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।

স্বাস্থ্যসচিব, আইজিপি, সমাজকল্যাণ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, আজিমপুর শিশু মাতৃসদনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট, মাতৃসদনের চিকিৎসক নিলুফার, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও লালবাগ থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ঘটনা তদন্ত করে সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এবং আজিমপুর শিশু মাতৃসদনের সুপারকে ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আগামী ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাস্তায় প্রসব ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ হাইকোর্ট বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে এসেছে। এটি আমাদের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সভ্যতার ওপর কালিমা লেপন। আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় গরিব জনগোষ্ঠী অত্যন্ত নিগৃহীত। তাদের চিকিৎসার অবহেলার এই দৃষ্টান্ত, সম্মুখ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের আরো সচেতন হওয়া আবশ্যক বলে মনে করেন আদালত।

পারভিন আক্তার (২৬) নামের এক নারী গত মঙ্গলবার প্রসব বেদনা ওঠার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সবশেষ আজিমপুর শিশু মাতৃসদনে গিয়েও চিকিৎসা পাননি। পরে রাস্তার ওপরেই ওই নারী সন্তান প্রসব করেন, কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই নবজাতকের মৃত্যু হয়।

পরদির এমন সংবাদ দৈনিক নয়া দিগন্তসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পায়। এরপর বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.