ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

কূটনীতি

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করছে ভারত

ডয়চে ভেলে

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:৪৫


প্রিন্ট
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করছে ভারত

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করছে ভারত

বাংলাদেশ ও ভারতের সাতক্ষীরা সীমান্তে রোহিঙ্গাদের পুশইন এবং পুশব্যাকের ঘটনা ঘটেছে৷ ভারত যাতে সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে৷

বাংলাদেশ ও ভারতের সাতক্ষীরা সীমান্তে রোহিঙ্গাদের পুশইন ও পুশব্যাকের ঘটনা ঘটেছে৷ ভারত যাতে সেখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে৷

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়েক দফায় ৩৯ জন রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষকে সাতক্ষীরার সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে ভারতীয় সীমন্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ৷ তাদের মধ্যে ১৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি একই সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠায় ১১ অক্টোবর৷ পরের দিন, অর্থাৎ ১২ অক্টোবর বিজিবি তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়৷ এরপর নতুন করে এই পুশব্যাকের ঘটনা না ঘটলেও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন৷ তারা ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বড় আকারের পুশইনের আশঙ্কা করছেন৷ যাদের পুশইন করা হচ্ছে তাদের মধ্যে কয়েক বছর আগে ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাও আছেন৷

ভারত থেকে পুশইন হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের একজন আব্দুর রহিম৷ তিনি বাংলাদেশে পুশইন হয়ে আসার পর সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু জেলার হারিদং এলাকায় আমার বাড়ি-ঘর৷ ২০১৪ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা হলে আমরা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে ভারতে চলে যাই৷ সম্প্রতি মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দেয়ার খবর শুনে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের বলেছে, ‘তোমরা এই দেশের না, তোমরা পরদেশি, তোমাদের এদেশে ঠাঁই হবে না৷ তোমরা বাংলাদেশে চলে যাও৷' আমি আমার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ওখানে (ভারতে) তিন বছর অবস্থান করেছি৷ সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতাম৷ শুনেছি, আমার বাবা-মা বর্তমানে বাংলাদেশে চলে এসেছেন৷''

রহিম আরো বলেন, ‘‘১০ অক্টোবর গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়৷ এপাড়ে আসার পর বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক করে৷''

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত৷ সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবি'র অধিনায়ক লে. কর্নেল আরমান হোসেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সীমান্তের ওপারে বিএসএফ রোহিঙ্গাদের জড়ো করছে৷ তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর হয়তো চেষ্টা করছে বিএসএফ৷ আমরা তাই সীমান্তে নজরদারী বাড়িয়েছি৷ সীমান্তে অতিরিক্ত ফোর্স সোতায়েন করেছি৷ আর স্থানীয় লোকজনও আমাদের সহায়তা করছে৷ যেখানে আমাদের ফোর্স নাই সেখানে স্থানীয় লোকজন পাহারা দিচ্ছে৷''

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের পুশইন করছে ভারত৷ কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এ পর্যন্ত ২২ জন রোহিঙ্গাকে ধরে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে দিয়েছি৷ সেখান থেকে তাদের কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে৷ অন্যান্য এলাকা থেকেও পুশব্যাক করা হচ্ছে৷''

তিনি জানান, ‘‘পুশব্যাকের শিকার রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফ তাদের আটক করে৷ আটকের পর বলে তোমাদের থাকা-খাওয়ার অনেক ভালো ব্যবস্থা আমরা বাংলাদেশে করেছি৷ সেখানেই তোমরা ভালো থাকবে৷ এইভাবে বুঝিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়৷''

বিএসএফ-এর একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ‘‘যেসব রোহিঙ্গা প্রথমদিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছে, আমরা তাদের আটক করে স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে দিয়েছি৷ কিন্তু এখন আমাদের পরিস্কার নির্দেশনা হলো, কোনো রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করলে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে৷''

বাংলাদেশে সর্বশেষ যে ১৮ জন রোহিঙ্গাকে ভারত পুশব্যাক করেছে, তারা এখন কোথায় আছে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ তবে একটি সূত্র জানায়, তাদের ফের ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছে৷ স্থানীয় সূত্র জানায়, যাদের বিএসএফ পুশব্যাক করেছে, তাদের সবাইকে যে আবার ভারতে পুশব্যাক করা হয়েছে, তা নয়৷ স্থানীয় হিসেবে এ পর্যন্ত ভারত ৫৭ জন রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক করেছে বাংলাদেশে৷ তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে বিজিবি আবার ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে৷ বাকিদের কক্সবাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে৷ যাঁদের বিএসএফ পুশব্যাক করেছে, তাঁদের মধ্যে ২৫ আগস্টের পরেই শুধু নয়, তার আগে ভারতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারাও আছেন৷

বাংলাদেশে এখন প্রায় সাড়ে নয় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে৷ তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ২৪ আগস্ট চেকপোস্টে হামলার পর মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে এসেছে৷ বাকি চার লাখ আগে এসেছিল৷

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫