ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

যারা মিথ্যা বলো এবং যারা তা শোনো!

গোলাম মাওলা রনি

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৫৩


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

প্রথমে নিজের একান্ত পারিবারিক একটি ঘটনার কথা বলে আজকের প্রসঙ্গটি শুরু করতে চাই। আমার কন্যাসন্তানটির বয়স তখন তিন কিংবা চার বছর। অনিন্দ্য সুন্দর কন্যাশিশুটির মেধাদীপ্ত কথাবার্তা এবং চপল-চঞ্চল ছুটে চলার ছন্দে আমাদের পরিবারে তখন আনন্দের বন্যা বইছিল। আমরা তাকে কাছে ডাকা মাত্র সে কথার ফুলঝুরি ছোটাত এবং নিত্যনতুন অবাক করা কথাবার্তা বলে আমাদের চমকিত করে তুলত। আমরা যে সবাই তার কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি এবং তার বাকচাতুর্যের প্রশংসা করছি, সেটা সে বিলক্ষণ বুঝতে পারত। ফলে আমাদের প্রশংসা এবং হাততালি পাওয়ার জন্য সে হঠাৎ অভিনব আচরণ শুরু করে দিলো। সে বানিয়ে বানিয়ে বাহারি মিথ্যা কথা বলে আমাদের আরো অধিকমাত্রায় খুশি করার জন্য চেষ্টা চালাতে লাগল।

একটি তিন-চার বছরের শিশুর আধো আধো বোলের মিথ্যা ভাষণ অনেককে আনন্দিত করলেও আমি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। কারণ, আমি জানি সে মারণনেশা আফিমের মতো মিথ্যাচার ধীরে ধীরে মানুষকে এমনভাবে গ্রাস করে, যেখান থেকে আমৃত্যু বের হয়ে আসা যায় না। মানুষ যেমন প্রথম দিকে নেহায়েত কৌতূহলবশে বা আনন্দফুর্তির আড্ডাকে জমজমাট করার জন্য কৌতুকাচ্ছলে আফিম সেবন করে, তেমনি ঘটনার শুরুতে পৃথিবীর তাবৎ মিথ্যাবাদী কেবল রং ঢং করার জন্য মিথ্যাচার শুরু করে। দ্বিতীয় ধাপে তারা নিজেদের অতিমূল্যায়ন অথবা অন্যকে ছোট বড় করার জন্য মিথ্যাচার করে থাকে। নিজের দুর্বলতা ঢেকে রাখা, অহেতুক শক্তির বড়াই প্রদর্শন এবং অন্যকে অপমান করার জন্য মিথ্যাই হলো মিথ্যাবাদীদের প্রধান ঢাল। তৃতীয়পর্যায়ে এসে মিথ্যাবাদীরা মিথ্যার সিংহাসন বানায় এবং মিথ্যার তৈরী অস্ত্রশস্ত্র-সিপাহি, প্রহরী এবং উজির-নাজির তৈরি করে নেয়। তারপর সবাই মিলে শুরু করে মিথ্যা নামের ভয়ঙ্কর অত্যাচারের উল্লাসনৃত্য।

আমি যেহেতু উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো জানতাম, সেহেতু কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাকে অন্যভাবে ভাবতে হলো। আমি স্ত্রী মহোদয়াকে বললাম- আমাদের মেয়ে যে কথায় কথায় মিথ্যা বলে কৌতুক সৃষ্টি করছে, তা কি তুমি লক্ষ করেছ! তিনি বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যাতে মনে হলো আমি মস্তবড় কোনো ভুল করে ফেলেছি। এমনিতে আমি গৃহসুখ বজায় রাখার জন্য গৃহমধ্যে কথাবার্তা কম বলি, অহেতুক কৌতূহল প্রদর্শন এবং জ্ঞানগর্ভ বচন নিঃসরণ বন্ধ রাখি। কারণ তিনি অন্যসব স্ত্রীর মতোই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তার স্বামীপ্রবরের বুদ্ধিশুদ্ধির মান তেমন একটা ভালো নয়- যতটুকু আছে তাও পাগলামি আর উদ্ভট কর্মে পরিপূর্ণ। দুনিয়ার সব মানুষ তার স্বামীকে ঠকাতে সক্ষম। কেবল তার কারণেই লোকজন ঠকাতে পারছে না বলেই বিষয়-আশয়, সহায়-সম্পত্তি রক্ষা পেয়েছে। তিনি মারা গেলে আমি কতটা বিপদে পড়ব এমন কথা যেমন তার মুখস্থ, তেমনি তিনি ছাড়া অন্য কোনো মহিলা যে আমার সঙ্গে ঘর করতে পারত না এবং ভবিষ্যতেও পারবে না এমন দাবি শুনতে শুনতে আমি প্রায় তা বিশ্বাস করে ফেলেছি।

ঘর-সংসারের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি স্ত্রীর চোখের শাসনে বেমালুম চেপে গেলেও শিশুসন্তানের মিথ্যা বলার বিষয়টি এড়াতে পারলাম না। কারণ, আমি সবসময় স্বপ্ন দেখতাম একটি সত্যবাদী, চরিত্রবান, অনুগত সন্তানের- যে হবে একাধারে মেধাবী, সাহসী এবং পরিশ্রমী। যেকোনো অবস্থায়ই নাফরমান বা অবাধ্য হবে না এবং আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে কৃতজ্ঞচিত্তে সব কর্ম সম্পাদন করবে। কিন্তু আমার সেই স্বপ্নের সন্তান যদি জীবনের সব ক্ষেত্রে আমার কাক্সিক্ষত সব গুণাবলি অর্জন করে কেবল সত্যবাদিতা ছাড়া, সে ক্ষেত্রেও তার পতনের সম্ভাবনা শতভাগ নিশ্চিত। কারণ, মিথ্যাচার তার সব অর্জন, আমল এবং একিনকে ক্যান্সারের মতো নিঃশেষ করে ফেলবে অথবা রাক্ষুসের মতো গিলে ফেলবে। মিথ্যার ভয়াবহতা বলে শেষ করা যাবে না। এটি মানুষের তকদিরকে নষ্ট করে দেয়। চলার পথকে অন্ধকারময় এবং দুর্গম করে তোলে। মিথ্যাবাদী সব সময় দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ লাঞ্ছনা, অপমান ও দুর্গতির শিকার হয়। মিথ্যাবাদী তার দুনিয়ার জীবনে কোনো দিন আত্মিক শান্তি যেমন পায় না, তেমনি তার উপস্থিতি যেকোনো শান্তিময় পরিবেশ ও পরিস্থিতিকে মুহূর্তের মধ্যে অশান্তিময় করে তুলতে পারে।

মিথ্যাবাদী মানুষ সমাজ ও সংসারের জন্য মস্তবড় বোঝা। কোনো সমাজ কিংবা রাষ্ট্রে মিথ্যাবাদীদের সংখ্যা বেড়ে গেলে তা যেকোনো মহামারী এবং মারণব্যাধির চেয়েও মারাত্মক পরিণতি এবং দুর্গতি ডেকে নিয়ে আসে। পরিবারের প্রধান, সমাজপতি এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় যদি মিথ্যাবাদীরা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, তবে ধরে নেয়া হয় যে আসমানি অভিশাপ সংশ্লিষ্ট পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে গ্রাস করেছে। ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করা ছাড়া এসব পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। পৃথিবীর সর্বকালের তাবৎ ধর্মমত, সব সমাজের জ্ঞানীগুণী এবং পণ্ডিত ব্যক্তিরা মিথ্যাকে জঘন্য অপরাধ এবং নিকৃষ্টতম পাপাচার বলে বর্ণনা করেছেন। ইসলাম মিথ্যাকে কবিরা গুনাহ এবং সব গুনাহের মা বলে অভিহিত করেছে।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দর্শনে আমি মিথ্যার বহুরূপী কুফল এবং মিথ্যাবাদীর ভয়াবহ পরিণত দেখেছি। মিথ্যাবাদী লোকজনের আত্মমর্যাদাবোধ থাকে না। তারা যেমন নিজেদের সম্মান করতে জানে না, তেমনি অন্যকে সম্মান করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। তাদের মানসিক বৈকল্য এবং চিন্তায় দৈন্যতার কারণে তারা নিজেদের সবসময় অন্যের চেয়ে ধূর্ত, কৌশলী এবং পারদর্শী বলে মনে করে। তারা যার কাছে বা যাদের কাছে মিথ্যা কথা বলে তাদের সর্বদা বোকা, দুর্বল এবং অসহায় মনে করে। ঠগবাজি, প্রতারণা, লোভ-লালসা, বালখিল্য আচরণ, অতি মিষ্টভাষী বা অতি কটুবাক্য প্রয়োগ মিথ্যাবাদীদের সাধারণ অলঙ্কার রূপে বিবেচিত হয়। মিথ্যাবাদীরা হঠাৎ করে যেমন ধনসম্পত্তি, পদ-পদবি এবং ক্ষমতার মালিক বনে যায়, তেমনি একদিন হঠাৎ করেই লাঞ্ছিত, অপমানিত এবং ধিকৃত হয়ে সব কিছু হারিয়ে ফেলে।

মিথ্যার প্রাথমিক বুনিয়াদ শুরু হয় পরিবার থেকে। সমাজ-সংসারে তা বিভিন্ন স্তরে বেড়ে ওঠে এবং রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে তা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। পরিবার যদি অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের শিশুসন্তানের সত্যবাদী হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে পরিণত বয়সে ওইসব শিশু সমাজ ও রাষ্ট্রের মিথ্যাচার ও ভ্রষ্টাচারে আক্রান্ত হয় না। একটি পরিবারে সাধারণত দুটি কারণে শিশুর মধ্যে মিথ্যা বলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। প্রথমত, শিশুতোষ কৌতূহল এবং ক্রীড়া-কৌতুকের জন্য মিথ্যার প্রচলন হয়। দ্বিতীয়ত, পরিবারের প্রধানসহ অন্য সদস্যরা যদি মিথ্যাচার করে, তবে শিশুরা সঙ্গত কারণে মিত্যাশ্রয়ী হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় কারণটি জটিল ও কুটিল বিধায় আমরা প্রথম কারণটি নিয়েই আলোচনা করব। অর্থাৎ পরিবারের সবাই মোটামুটি সততার সাথে জীবনযাপন করে অথচ শিশুটি মিথ্যা বলার চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে পরিবার প্রধানের করণীয় কী হতে পারে তা আমার ব্যক্তিগত ঘটনাটি পর্যালোচনা করলে সম্মানিত পাঠক হয়তো কিছু একটা পেয়েও যেতে পারেন।

আমি যখন আমার শিশুসন্তানের মিথ্যা বলার অভ্যাস নিয়ে উৎকণ্ঠা বোধ করছিলাম, তখন অন্যরা আমার কাণ্ড দেখে প্রথমে হেসে গড়াগড়ি দেয়ার চেষ্টা করলেন। তারপর মৃৃদু ভর্ৎসনার ছলে বলতে শুরু করলেন, সব শিশুই ছোটকালে মিথ্যা বলে, এরা প্রচণ্ড স্বার্থপর ও নিকৃষ্ট প্রকৃতির হয়। তারা বিড়ালের লেজে আগুন ধরিয়ে দেয়া, পাখির বাসা খুঁজে পাখির ডিম ও বাচ্চা নষ্ট করার পাশাপাশি ঘরের মধ্যে টাকাপয়সা, গয়না বা কোনো আকর্ষণীয় শোপিস সরিয়ে রাখার মতো ছিচকে চুরি-চামারি অহরহ করে থাকে। এমনকি অন্যের বাসা থেকেও সুযোগ পেলে পেন্সিল-রাবার, খেলনা ইত্যাদি চুরি করে নিয়ে আসে। শিশুরা সুযোগ পেলেই নিজেদের মধ্যে মারামারি করে এবং স্বার্থপরের মতো সব খাবো। একা খাবো এবং ভালোটা খাবোর মতো কাজগুলো অহরহ করে থাকে। বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলা, লুকোচুরি খেলা, দস্যিপনা করা এবং দণ্ডভার নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শনও নাকি শিশুতোষ অভ্যাস বলে আমার আপনজনেরা আমাকে প্রবোধ দিতে লাগলেন এবং আমার কন্যা একটু বড় হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেন।

আমি আপনজনদের পরামর্শে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলাম এবং এতটুকু মেয়েকে কিভাবে মিথ্যা বলা বন্ধ করানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে লাগলাম। বিষয়টি আমার কাছে বেশ কঠিন ও নির্মম বলে মনে হতে লাগল। কারণ কন্যাটি আমার অত্যন্ত আদরের ছিল। অধিকন্তু তার আচরণে এমন কতগুলো মনোমুগ্ধকর বিষয়াদি ছিল, যা অতিক্রম করে তার মুখের ওপর মিথ্যা বলার অজুহাত তুলে তাকে শাসন করা সত্যিই স্নেহপরায়ণ পিতার জন্য কঠিন ছিল। তবুও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, সন্তানের চরিত্র গঠনে আমি এখন থেকেই তৎপর হবো। কারণ, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মিথ্যাচার আরো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। আমার একটু সামান্য চেষ্টাতেই কন্যার মিথ্যা বলার অভ্যাস মুহূর্তের মধ্যে নাটকীয়ভাবে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেই কাহিনী বলার আগে মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা শোনার পরিণাম সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলে নেই।

যারা মিথ্যা বলে এবং যারা এগুলো অনবরত শোনে, তারা উভয়ই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অর্থাৎ যদি মিথ্যাবাদীর মিথ্যায় বিভ্রান্ত হন তবে ধরে নেয়া হয়, আপনার বুদ্ধিমত্তায় কিছুটা হলেও ঘাটতি রয়েছে। অন্য দিকে সাধারণত লোভী এবং সুযোগসন্ধানী প্রকৃতির লোক মিথ্যার মাধ্যমে প্রলোভিত হয়ে থাকে। বোকারা মিথ্যার মাধ্যমে প্রতারিত হয় এবং ভীরু ও কাপুরুষেরা মিথ্যা দিয়ে পরিচালিত হয়। স্রষ্টা যে উদ্দেশ্য নিয়ে মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব এবং অন্যান্য মাখলুকাতের ওপর প্রভাব বিস্তার করার প্রাকৃতিক ক্ষমতা দিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্য চরমভাবে অপমানিত হয় মিথ্যাচারের মাধ্যমে। প্রকৃতির অন্য কোনো প্রাণী মিথ্যাচার করে না। এমনকি শয়তানও মানুষের মতো এত মিথ্যাচার করে বলে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

মিথ্যার সবচেয়ে ভয়াবহ কুফল তখনই প্রকট হয়ে ওঠে, যখন রাজা মিথ্যা কথা বলেন। শাসক-বিচারক এবং সেনাপতির মিত্যাচারে জমিন থরথর করে কাঁপতে থাকে। রাজার মিথ্যাচারের কারণে সুশাসন অরণ্যে বাসা বাঁধে, ন্যায়বিচার আসমানে চলে যায় এবং নিকৃষ্ট বন্য জানোয়ারের অসভ্য ও অশ্লীল কর্মগুলো বহুগুণ পাশবিক শক্তি নিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। মানুষ তার মানবিক গুণাবলি হারিয়ে ফেলে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক বন্ধন আলগা হয়ে যায়। মায়া-মমতা, দয়া-দাক্ষিণ্য, সৌজন্যতা এবং ভদ্রতাবোধ হারিয়ে যায়। ব্যক্তিগত হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্থিরতা পুরো রাজ্যে ভর করে। মানুষের আয়-রোজগার কমে যায় এবং দেশপ্রেম কমে যায়। মিথ্যাবাদী রাজার কারণে সাধারণ মানুষের মন বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাও কমে যায়।

মিথ্যার সব চেয়ে বর্জনশীল খামার হলো মিথ্যার মাহফিল বা মিথ্যুকের জনসভা। রাজা যখন মিথ্যুক হন, তখন রাজ্যের পথে-প্রান্তরে দিনে কিংবা রাতে বড় বড় মিথ্যার মাহফিল বসে। সাধারণ মানুষ সেসব মাহফিল থেকে মিথ্যার ফুলঝুরি শুনে একদিকে যেমন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন, অন্য দিকে মিথ্যায় আক্রান্ত হয়ে নিজেরাও মিথ্যাবাদীদের দলে শামিল হয়ে যান। মিথ্যাবাদী রাজা তার পছন্দের তালিকার শীর্ষ মিথ্যাবাদীদের বড় বড় রাজপদে বসিয়ে মিথ্যার রাজ্য বানানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে থাকেন। মিথ্যা যখন রাজকীয় ভাষায় পরিণত হয়ে যায়, তখন মিথ্যাবাদীরা নিজেদের প্রভু বানিয়ে সত্যাশ্রয়ীদের ওপর নির্যাতন চালানো শুরু করেন। অসহায় মানুষ তখন আশ্রয়ের জন্য আসমানের দিকে হাত বাড়িয়ে অশ্রুজলে আহাজারি শুরু করে দেয়। ফলে আসমানি সাহায্য যখন চলে আসে, তখন মিথ্যাবাদীদের বিরূপ পরিণতি হয় তার শত সহস্র উদাহরণ অনাদিকাল থেকে আজ অবধি পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে, শহর-জনপদ এবং পাহাড়-পর্বত-নদী-সমুদ্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মানবজাতিকে শিক্ষা দেয়ার জন্য।

সবশেষ কন্যাসন্তানের শৈশবের সেই কাহিনী। আমি একদিন স্নেহভরে কন্যার হাতটি চেপে ধরলাম। তারপর পরম মমতায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললাম- মাগো! তুমি আর মিথ্যা বলবে না। তোমার অমুক কথাগুলো মিথ্যা। তুমি যদি আবার মিথ্যা বলো তবে আমি তোমাকে একটুও আদর করব না। আমার কথা শুনে শিশুকন্যা অনেকটা বিদ্যুতায়িত হওয়ার মতো চমকে ওঠল এবং লজ্জা পেয়ে অন্য রুমে চলে গেল। সে কয়েক দিন মুখ ভার করে থাকল এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলো। এ ঘটনার পর আমি তাকে আর মিথ্যাচারে আসক্ত হতে দেখিনি।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫