ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রিমান্ডে নির্যাতন জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও রেকর্ড করা দরকার

শাহ আব্দুল হান্নান

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩৪ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৫০


শাহ্ আব্দুল হান্নান

শাহ্ আব্দুল হান্নান

প্রিন্ট

এর মধ্যে আলজাজিরাতে একটি লেখা পড়লাম। আমার কাছে মনে হয়েছে, লেখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে বলা হয়েছে, পুলিশের বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের রিমান্ডে বা তাদের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে ইন্টারোগেশনে তারা অনেক কিছু করতে বাধ্য করে।

আলজাজিরা বলছে যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলে যে, রিমান্ডের নামে মানুষকে অনেক কিছু বলতে বাধ্য করে এবং অনেক টর্চার করে বা অত্যাচার করে। এই লেখায় আরো বলা হচ্ছে, আমেরিকার কয়েকটি রাজ্যে যাকে তারা স্টেট বলে, আইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষের যেসব পুলিশ ইন্টারোগেশন করে বা করবে আসামি বা অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়ে, তা করতে হবে এমনভাবে যাতে সেখানে ভিডিও রেকর্ডিং হয়। এর মূল কারণ হচ্ছে, যেভাবে আমেরিকাতে পুলিশ বাহিনীকে ট্রেনিং দেয়া হয়েছে, তাতে তারা জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে।

এ ইতিহাস থেকে প্রমাণ হয়, অনেক লোক বাধ্য হয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, যার ভিত্তিতে এমন কি মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি হয়েছে কিংবা কারো কারো ১৫ বছর বা ২০ বছরের জেল হয়েছে। এসব কারণে যারা আইন নিয়ে গবেষণা করেন, মানবাধিকার নিয়ে গবেষণা করেন তাদের একটি অংশ মনে করেন, কেনো ইন্টারোগেশন করা যাবে না, জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না, করলে তা রিমান্ডে রেকর্ড করতে হবে। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, অত্যাচার-নির্যাতন কমে যাবে। এটা প্রতিরোধ করার প্রয়াসে যুক্তরাষ্ট্রে আইন করা হচ্ছে।

এই লেখাটা পড়ার পরে আমার মনে হলো, আমাদের বাংলাদেশেও এ রকম আইন করা উচিত। কারণ যত আইনের লোকের সাথে চলেছি তারা বলেছেন, পুলিশ রিমান্ডে সব ক্ষেত্রে অন্যায় করে থাকে। এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে টাকার জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর অনেক সিনিয়র লোকের সাথে আমার পরিচয় আছে। তারা বলছেন, অনেক সময় তাদের কথা শোনা হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, জবরদস্তিমূলক স্বীকারোক্তি বন্ধ করা দরকার। প্রথম কথা, সহজে রিমান্ডে না দেয়া। যেমন দেখলাম, কিছু লোককে আশুরার আগের দিন গ্রেফতার করা হলো। তারা নাকি মহররমের দিন গোলমাল করত। একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতার করা হলো। পুলিশ তাদের ২০ দিনের রিমান্ড চাইল। এটা একটা বানোয়াট মামলা মনে হয়। একটা রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা এটা করতে পারেন না। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটরাও জানেন, এটা বানোয়াট মামলা। তার পরও ম্যাজিস্ট্রেট ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে দিলেন। এর কারণ হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেটরা সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নন, তারা ডিসিদের নিয়ন্ত্রণে। আবার ডিসিরাও রাজনৈতিক চাপ সামাল দিতে পারেন না। সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, যাতে কোনো মানুষকে রিমান্ডে নেয়ার সময় থেকে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকে। সুপ্রিম কোর্ট সর্বদা ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর নজর রাখবে যেন তারা অহেতুক রিমান্ড মঞ্জুর করতে না পারেন।

এই বিধান কার্যকর হলে সবাই উপকৃত হবেন। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদেরও কাজে লাগবে এটা। সুতরাং এসব বিবেচনায় আইনটি করা জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের উচিত রিমান্ডের নীতিমালা প্রণয়ন করে দেয়া, যাতে নিরপরাধ কোনো মানুষের জীবনে রিমান্ডের নির্মম অত্যাচার নেমে না আসে। তাই আশা করি, সরকার ও অন্য সবাই এ বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন।
লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫