ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

আলোচনা

শতবর্ষে ফররুখ আহমদ : কয়েকটি প্রস্তাবনা

খুরশীদ আলম বাবু

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:০৯


প্রিন্ট

দেখতে দেখতে কবি ফররুখ আহমদের জন্ম শতবার্ষিকীও বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে। কবি তাঁর সব সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আমাদের হাতে সমর্পণ করে এখন মূল্যায়নের আশায় বসে আছেন। এ যেন একজন মহৎ কবির নিরন্তর অপেক্ষা। প্রত্যেক মহৎ কবি তাই করে থাকেন। ফররুখ আহমদই তার ব্যতিক্রম হবেন কেন? লক্ষণীয় বিষয় এই, ফররুখ আহমদ বাংলাদেশের কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ জননন্দিত কবি হলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁর ওপর গবেষণা কর্মের সংখ্যা হাতেগোনা। এমনকি শুনতে পাই, এই কবির কবিতা পড়ানো ও বোঝানোর মতো দক্ষ শিক্ষকও নেই। আমি প্রায়ই কৌতূহল বশবর্তী হয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি, কোন শিক্ষক ফররুখ আহমদ পড়ান? তারপর যে উত্তর পাই তাতে করে হাসি চেপে রাখার উপায় থাকে না। আমার এই মন্তব্য শুনে অনেকের মনে হতে পারে, আমি হয়তো সমালোচনার জন্য এ অযাচিত প্রসঙ্গগুলো উল্লেখ করলাম। আসলে তা নয়। আমরা ফররুখ আহমদের কবিতা আলোচনা করার সময় কিছুটা হলেও তাঁকে সরলীকরণ করে ফেলেছি। সেটা কেমন? আমি প্রায়ই সভা-সমিতিতে শুনতাম- ‘তিনি রেনেসাঁর কবি!’ কারণ তিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের জাগরণ কামনা করেছিলেন।

পরবর্তীকালে ফররুখ আহমদের কবিতা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ার পর বুঝলাম ব্যাপারটা সেইরকম নয়। তিনি ছিলেন বাঙালি মুসলমানদের আত্মনিয়ন্ত্রণকামী অধিকারের সমর্থনকারী কবি। কারণ তিনি ইংরেজদের হাতে বন্দী মুসলমানের দুঃখ নিরসন করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী একটি সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িকতায় বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। এ কারণে সমসাময়িক অন্যান্য মুসলমান কবির মতো পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে তিনিও জড়িয়ে গিয়েছিলেন। একটি উদাহরণ দেয়া যাক- তাঁর সমকালীন অন্য একজন বামধারার কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ পদাতিক কাব্য সঙ্কলনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে একটি কবিতাও রচনা করেননি। বরং দেখা গেল, জাপান যে চীনের উপর আক্রমণ করেছে, সেই চিন্তা তাকে বিভোর করেছে; সুযোগ পেলেই মহাত্মা গান্ধীকে ব্যঙ্গ করেছেন, পাশাপাশি কংগ্রেসি রাজনীতিকে উড়িয়ে দিয়েছেন এই বলে-
দুর্ঘটনার সম্ভবনাকে বাঁধবে না কেউ।
ফসলের এই পাকা বুকে আহা বন্যার ঢেউ
দস্যুর স্রোত বাঁধবার আগে সংহতি চাই
জাপ পুস্পর্কে জ্বলে ক্যানটন, জ্বলে সাংহাই।
(চীন-১৯৩৮, পদাতিক)
তার মানে এই তখনকার দুর্ভিক্ষ, স্বাধীনতা সংগ্রাম সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে তেমন কোনোভাবে স্পর্শই করেনি। যদিও সেই সময় ব্যক্তিবাদী কবি জীবনানন্দ দাশ বামপন্থীদের ক্রমাগত আক্রমণের তোড়ে অনেকখানি জনগণের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁর দীপ্র মননশীলতায় সেটা সাধারণ পাঠকদের পক্ষে বোঝা দুষ্কর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেই তুলনায় ফররুখ আহমদ তাঁর কবিতায় অনেকখানি সপ্রতিভ- আবেগমথিত কলস্বর- যা আজো আমাদের মানবিক চেতনাকে আঘাত করে বসে। যেমনÑ
এ নয় জোছনা-নারিকেল শাখে স্বপ্নের মর্মর
এ নয় পরীর দেশের ঝরকা নারঙ্গী বন্দর।
এবার তোমার রুদ্ধ কপাটে মানুষের হাহাকার
ক্ষুধিত শিশুর কান্নায় শেষ সেতারের ঝংকার।
আজকে তোমার পাল ওঠাতেই হবে
ছেঁড়া পালে আজ জুড়তেই হবে তালি,
ভাঙ্গা মাস্তুল দেখা দিক করতালি-
তবুও জাহাজ আজ ছোটাতেই হবে।
(সাত সাগরের মাঝি)
ফররুখ আহমদকে আমরা আজো কেনো স্মরণযোগ্য কবি বলে মনে করছি? একজন প্রখ্যাত সমালোচক একবার বলেছিলেন, পঞ্চাশ বছর পর একজন কবি যদি পাঠকহৃদয় আন্দোলিত করতে পারেন, তা হলেই তিনি বড় কবি। সেই অর্থে তিনি অবশ্যই বড় কবি। কোনো কোনো তরুণ কবি আমাকে প্রায়ই প্রশ্ন করে বসেন- কেনো তিনি এখনো স্মরণযোগ্য পর্যায়ে পড়েন? তাদের প্রশ্নের উত্তর বলছি সূত্রাকারে-
ফররুখ আহমদ ছিলেন সেই ধরনের প্রতিভাবান কবি, যিনি অল্প সময়ের মধ্যে অনুকারকের দল তৈরি করার ক্ষমতা রাখতেন। অন্তত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি মনোযোগসহকারে পড়লেই বোঝা যায়। এত স্মরণযোগ্য পঙক্তি তৈরি আসলে ওই দশকে কোনো কবি সৃজন করতে পারেননি। তিনি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রজ কবিদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। সেই কারণে পঞ্চাশের দশকে তরুণ কবিদের কাছে জীবনানন্দ দাশের পরে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে প্রভাবসঞ্চারী কবি। হুমায়ুন আজাদের মতো বামধারার কবি-সমালোচক স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, কবি শামসুর রাহমানের প্রাথমিক জীবনে কবি ফররুখ আহমদের প্রভাব ছিল। কবি শামসুর রাহমান তাঁর জীবনের প্রথম প্রবন্ধটি লিখেছিলেন ফররুখ আহমদের ওপর, যা তৎকালীন দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার ‘সাহিত্য পাতায়’ প্রকাশিত হয়েছিল।
ফররুখ আহমদ আপাদমস্তক ছিলেন একজন সৃজনশীল কবি, কিন্তু সারা জীবনের কাব্যসাধনায় কেবল কবিতা সৃজনেই দিনাতিপাত করেছেন এমনও নয়। তিনি অনুবাদ করেছেন মহাকাব্যধর্মী রচনাসহ (যা এখনো অনালোচিত থেকেই গেছে), নাটকও লিখেছেন, রয়েছে কাব্যনাটক ও ছোটগল্প। প্রত্যেকটি রচনায় দেখা গেছে, পরিবেশ সৃজনে যে কাব্যভাষা ব্যবহার করেছেন তা ছিল যথাযথ। তবে তাঁর আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার নিয়ে সমালোচকরা যে অভিযোগ তুলেছিলেন তারও খানিকটা সত্যতা আছে। তবে তা কতখানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছিল তা-ও নিষ্পন্ন হয়নি। কারণ ফররুখ আহমদ আরবি-ফারসি শব্দ প্রয়োগ ছাড়াও অনেক কবিতা সৃজন করেছেন। সেটা আমরা লক্ষ করি না। যেমন ধরা যাক এই সনেট কবিতাটিÑ
আমার হৃদয় স্তব্ধ, বোবা হয়ে আছে বেদনায়
যেমন পদ্মের কুঁড়ি নিরুত্তর থাকে হিম রাতে,
যেমন নিঃসঙ্গ পাখী একা আর ফেরে না বাসাতে
তেমনি আমার মন মুক্তি আর খোঁজে না কথায়।
যখন সকল সুর থেমে যায়, তারারা হারায়,
নিভে যায় অনুভূতি-আঘাতে, কঠিন প্রতিঘাতে;
নিস্পন্দ নিঃসাড় হয়ে থাকে পাখী, পায় না পাখাতে
সমুদ্র পারের ঝড় ক্ষিপ্রগতি নিশান্ত হাওয়ায়...
মুখ গুঁজে পড়ে আছে সে পাখীর মতো এ হৃদয়
রক্তক্ষরা। ভারগ্রস্ত এ জীবন আজ ফিরে চায়
প্রাণের মূর্ছনা আর নবতর সৃষ্টির বিস্ময়,
উদ্দাম অবাধ গতি, বজ্রবেগ প্রমুক্ত হাওয়ায়;
অথচ এখানে এই মৃত্যু-স্তব্ধ রাত্রির ছায়ায়
রুদ্ধ আবেষ্টনে আজ লুপ্ত হয় প্রাণের সঞ্চয়।
ফররুখ আহমদের অসামান্য এই সনেট কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল কবি কায়সুল হক সম্পাদিত অধুনায় বাংলা ১৩৬২ সালে। উল্লেখ্য এই সঙ্কলনে জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে, আবুল হোসেন, আহসান হাবীবের কবিতাও প্রকাশিত হয়েছিল। এই কবিতায় কি চেনা যাচ্ছে আমাদের বহুল-আলোচিত চেনা ফররুখ আহমদকে? এই কবিতায় একটি পঙক্তিতেও আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগ নেই। বলা বাহুল্য, এটা আমরা খেয়াল করি না যে, ফররুখ আহমদ বড় কবি বলেই দুই রীতিতে কবিতা সৃজনের দক্ষতা দেখিয়েছেন। তবে আবার এটাও স্বীকার করা ভালো যে, আদর্শ ও পরিবেশকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, সে ক্ষেত্রে সব সময় শব্দ প্রয়োগে সফল হয়েছেন তাও বলা যায় না।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তরুণরা কিভাবে উপকৃত হবে ফররুখ আহমদ পাঠে। ফররুখ আহমদ জানিয়ে গেলেন, কবিতা লিখতে গেলে জানতে হয় কবিতার প্রকরণশৈলী। তিনি তাঁর কবিতাকে ছন্দময় করতে চেয়েছিলেন। তার জন্য ছন্দে প্রখর জ্ঞান দরকার, তার পুরোটাই ফররুখ আহমদের ছিল। অথচ চল্লিশের দশকে তাঁর উত্থান হলেও গদ্যছন্দের দিকে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। তাঁর প্রথম কবিতাই সনেট, আর শেষ কবিতাও ছিল সনেট। অনুজ কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল সঠিকই লক্ষ করেছিলেন কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে বসবাসের পর থেকেই তিনি রোমান্টিকতার দিক বদলে ক্লাসিকতার দিকে ক্রমান্বয়ে ঝুঁকে পড়েছেন।
এ সময় তার প্রিয় কবি ছিলেন ইকবাল, এলিয়ট ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত। আর এলিয়ট থেকেই পেয়েছিলেন ঐতিহ্য চেতনার ব্যবহার, তিনি এ-ও বিশ্বাস করতেনÑ ঐতিহ্য চেতনা ছাড়া কবিতা শক্তিশালী হয় না। তিনি এলিয়টকে নিবিড়ভাবে পাঠ করেছিলেন। সে কারণে দেখা যায়, সমালোচক ও নজরুল গবেষক শাহাবুদ্দীন আহমদের একটি জীবনানন্দ দাশকেন্দ্রিক সমালোচনা পড়ে তাকে এলিয়ট পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, এলিয়টের কাব্যপ্রক্রিয়াকে তিনি অশান্ত মনে করতেন, সে জন্য ইসলামের দিকেই ধাবিত হয়ে শান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সামাজিক বৈষম্য তাকে ক্রমান্বয়ে ক্ষুব্ধ করেছিল। তিনি বিশ্বাসের উপর দীপ্রভাবে ভর করে কর্মসাধনা করে গেছেন। কবিতার সৃজনশীলতা দিয়েই বিপরীত আদর্শের অনুসারীদের কাছ থেকে শ্রদ্ধাবোধ আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরকম দ্বিতীয় উদাহরণ বাংলাদেশে আর একটিও নেই। এখনকার অনেক তরুণ কবি এই বিশ্বাসী কবিকে গ্রহণ করার জন্য মোটেও প্রস্তুত নয়। কারণটাও স্বাভাবিক, সেটা হলো- আমাদের সৃজনশক্তিমত্তা ও চিন্তাশীলতার দারুণ অভাব। আমাদের কবিতার বিবর্ণতার মূল কারণ জনবিচ্ছিন্নতা। যার ফলে কবিতা ক্রমান্বয়ে আক্রান্ত হচ্ছে আজগুবি দুর্বোধ্যতার জটাজালে। কারণ তরুণ কবির সামনে নেই কোনো বিশ্বাসের দীপ্র প্রান্তর। থরোথরো তামসি মন নিয়ে মহৎ কবিতা সৃজন করা অসম্ভব। আর তাই ফররুখ আহমদের কবিতার কাছে আমাদের বারবার ফিরে আসতে হবে। সেই বিশ্বাসের কথা ফররুখ আহমদ অনেক আগেই আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর একটি কবিতায়-
আর একবার তুমি খুলে দাও ঝরোকা তোমার,
আসুক তারার আলো চিন্তার জটিল উর্নাজালে,
যে মন বিক্ষত, আজ জাগ্রত তোমার ছন্দ তালে
এখানে সমস্যাকীর্ণ এ জগতে এসো একবার।
(কবিতার প্রতি : মুহূর্তের কবিতা)
আমাদের প্রস্তাবনা সমূহ-
ফররুখ আহমদকে ব্যাপক আলোচনার আওতায় আনতে গেলে ফররুখ রচনাসমগ্র অচিরেই প্রকাশ করা দরকার। একসময় কবি ও সমালোচক আবদুল মান্নান সৈয়দের সম্পাদিত বাংলা একাডেমি থেকে দুই খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হওয়ার পর বাকি খণ্ড কবে প্রকাশ হবে তা বলা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পুনঃপ্রকাশিত হওয়া দরকার আবদুল মান্নান সৈয়দ সম্পাদিত ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’। অনেক দিন যাবৎ অপ্রকাশের ধূসর জগতে অবস্থান করছে এই গ্রন্থটি। এ ব্যাপারে যথাশীঘ্র সম্ভব পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রকাশক হলেন মাড়োয়ারি জাতের ব্যবসায়ী। কেবল লাভের দিকে তাকিয়ে বই প্রকাশ করে থাকেন। শতবর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারকগ্রন্থ বের করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। নতুন আলোচনার পাশাপাশি পুরনো ক্লাসিক আলোচনাগুলো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সম্পাদনায় প্রকাশ করলে এখনকার পাঠক ও তরুণ কবিরা ফররুখকে বেশি করে জানার সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে ফররুখকেন্দ্রিক চর্চা তরুণদের মধ্যে ক্রমান্বয়ে কমে আসার প্রবণতা লক্ষ করছি। এর কারণও রয়েছে। ফররুখ আহমদ ছিলেন আপাদমস্তক ক্লাসিক ধাঁচের কবি, পাশাপাশি তরুণরা ইদানীং তথাকথিত মুক্তছন্দে কবিতা সৃজনের দিকে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সেই দিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের বিরোধ থেকেই যাচ্ছে। এ কথা আমাদের স্বীকার করা ভালো যে, ফররুখ আহমদ ছিলেন গদ্যছন্দের বিরোধী, কবি আবুল হোসেনের গদ্যছন্দকে ‘কোলকাতার চটকদারী ছন্দ’ বলে অ্যাখ্যায়িত করতে দ্বিধা করেননি। যদিও তাঁর সমসাময়িক কবিবন্ধু সৈয়দ আলী আহসান এই মতামতের বিরোধিতা করেছেন। ফররুখ আহমদের ক্লাসিকপ্রীতি ও আদর্শবাদিতা আমাদের কালের তরুণরা গ্রহণ করছেন কি না তাও আমাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আবার ফররুখের কবিতার মাহাত্ম্য বাড়ানো যাবে না। কারণ এখানে কবির কবিতার চেয়ে কবির জীবনধারাকে প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা কাজ করে। অথচ অনেক আগেই টি এস এলিয়ট স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এই বলে-
‘সৎ সমালোচনা ও সংবেদনশীল মূল্যায়ন হয় কবি নয়, কবিতাকে কেন্দ্র করে। আমরা যদি সংবাদপত্রের সমালোচকদের দ্বিধান্বিত মূল্যায়ন এবং পুনরাবৃত্ত জনপ্রিয় ধারার হইচই শুনি, তা হলে আমরা অনেক কবির নাম শুনতে পাব। কেতাবি জ্ঞানের মুখাপেক্ষী না হয়ে আমাদের কবিতা থেকে আনন্দ খুঁজতে হবে।’
আমি আগেই জানিয়েছি, ফররুখ আহমদ এলিয়ট ভক্তদের একজন। কিন্তু এলিয়টের কাব্যপ্রক্রিয়াকে তিনি অশান্ত মনে করতেন, তথাপি তিনি তাঁর সমালোচনার রীতির পক্ষপাতী ছিলেন। তাই নতুন করে ফররুখ আহমদকে আবিষ্কার করতে হলে তুলনামূলক সমালোচনার বড় দরকার। ফররুখ আহমদ এটাই চাইতেন। সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই। কারণ তিনি ছিলেন শিক্ষিত মেধাবী কবি। ইংরেজি সাহিত্য মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেছিলেন। বিশেষ করে ইংরেজ কবি জন কিটস-এর কবিতা। তার প্রভাব সুবিখ্যাত ‘ডাহুক’ কবিতায় পাওয়া যায়।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫