ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

ইউরোপ

অত্যাধুনিক রুশ যুদ্ধবিমান নিয়ে বিপাকে ভারত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:১২


প্রিন্ট
অত্যাধুনিক রুশ যুদ্ধবিমান নিয়ে বিপাকে ভারত

অত্যাধুনিক রুশ যুদ্ধবিমান নিয়ে বিপাকে ভারত

রাশিয়ার কাছ থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিপাকে পড়েছে ভারত। ভারতীয় বিমানবাহিনী চাচ্ছে না এই বিমান কিনতে, আবার না কিনলে খোদ রাশিয়ার নাখোশ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে আবার এই বিমানের পেছনে দুই দেশই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে।

ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে এখন একটি সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইন্দো-রুশ পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গিবিমানের (এফজিএফএ) পরিকল্পনা করা হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে এবং উভয় দেশ এর নকশা ও উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে।

ইন্দো-রুশিয়ান ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফটকে (এফজিএফএ) ভারতীয় বিমানবাহিনীর ভবিষ্যতের অংশ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনী এই প্রকল্প নিয়ে তাদের সংশয়ের কথা লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছে। এখন মোদি সরকারকেই বিষয়টির সুরাহা করতে হবে। সরকার কি বিমানবাহিনীর উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়ে কয়েক বছরে বিপুল ব্যয়ের পর প্রকল্পটি বন্ধ করে দেবে? বিষয়টি হবে খুবই কৌশলী। কারণ রাশিয়া এখনো ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র। ফলে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হলে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়নের সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে নিশ্চিতভাবেই চাপ আসবে। আবার প্রকল্পটি নিয়ে এগিয়ে গেলে ভারতীয় বিমান বাহিনী অসন্তুষ্ট হবে।

রুশদের তথ্যমতে, রাডার ক্রস-সেকশন সারফেস এরিয়া হবে ০.৫ বর্গমিটারের কম। কিন্তু ভারতীয় বিমান বাহিনী নিশ্চিত নয়, ঠিক এমনটা হবে কিনা। মনে করা হয়ে থাকে, এটা হওয়া উচিত ০.২ বর্গমিটার। আমেরিকার জঙ্গিবিমান এফ-৩৫-এ এমনটাই রয়েছে। ক্রস-সেকশন যত উঁচু হবে, রাডারে তার ধরা পড়ার আশঙ্কা তত বেশি। আর তাতে সেটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা তত সহজ হয়ে যায়। অর্থাৎ ক্রস সেকশন বেশি হলে বিমানটি নাজুক হয়ে যায়।

ইঞ্জিনের পারফরমেন্স নিয়েও ভারতীয় বিমান বাহিনী দৃশ্যত অসন্তুষ্ট। ইঞ্জিনে ‘মডুলার কনসেপ্ট’ অনুসরণ করা হলে তা রক্ষণাবেক্ষণ অনেক সহজ হয়। রুশ বিমানের ইঞ্জিন তেমন হবে বলে কোনো নিশ্চয়তা নেই।

রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আরো জটিলতা রয়েছে। রুশ বিমান অনেক সস্তা। তবে রক্ষণাবেক্ষণে এতে অনেক বেশি ব্যয় হয়। এফজিএফএ এমনিতেই ব্যয়বহুল বিমান হবে। তাছাড়া তৈরি করতেও সময় লাগবে। প্রথমে ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে ২০১৯ সালকে টার্গেট করা হয়। এখন মনে হচ্ছে, তখনো এর কাজ সম্পন্ন হবে না।

বর্তমানের প্রতিবেদনে পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দেওয়ার পর এই নোটটি প্রকাশ হলো। বিমান বাহিনী ছাড়াও ডিআরডিও, এডিএ এবং এইচএএলও এই সমীক্ষায় অংশ নেয়।

উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানাচ্ছে, এখন এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভারত ও রাশিয়া ঘনিষ্ঠ সামরিক কৌশলগত মিত্র। এই কর্মসূচিটি দুই দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কের সাথেও সংশ্লিষ্ট। কর্মকর্তারা প্রায়ই রাশিয়ার সরবরাহ করা পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিনের কথা বলে থাকেন। কিন্তু বিমান বাহিনী এই এফজিএফএ নিয়ে তেমন সন্তুষ্ট নয়।

এখন প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়া হবে কিনা তার সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে।

মিসাইল ধরার রাডার রাশিয়ার
রাশিয়া আগামী ২০১৯ সালের মধ্যেই মিসাইল ধরার রাডার নিয়ে আসছে। ভরোনেজ নামে সেই প্রযুক্তিটির নির্মাণকাজ চলছে বলে জানায় রাশিয়ার স্পেস ফোর্সের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল আলেক্সান্ডার গলোভকো।

বুধবার তিনি জানান, রাশিয়ার কোমি ও মুরমানস্ক অঞ্চলে পেণাস্ত্র সতর্কতা সঙ্কেতধারী এই প্রযুক্তি তৈরি হচ্ছে, যা ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটিকে রাশিয়ার স্পেস ফোর্স তাদের ‘টপ প্রায়োরিটি’ হিসেবে দেখছে।
এই প্রযুক্তি ডেভেলপ করা হলে খুব সফলতার সাথে যেকোনো ধরনের পেণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ ছাড়া পেণাস্ত্র বিধ্বংসী যেসব প্রযুক্তি বর্তমানে কার্যকর আছে তার আপডেটও জানান আলেক্সান্ডার।

৪ অক্টোবর বার্ষিক স্পেস ফোর্সেস ডে উদযাপন করেছে রাশিয়া। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ নিপে করেছিল। সেটাকে স্মরণ করে প্রতিবছর স্পেস ফোর্সেস ডে পালন করে দেশটি। এবারের উৎসবে ভরোনেজ প্রযুক্তিটির আপডেট ঘোষণা করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫