ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

২৭ বছর পর ইরাকে অবতরণ করলো সৌদি বাণিজ্যিক বিমান

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১২:২১


প্রিন্ট
২৭ বছর পর ইরাকে অবতরণ করলো সৌদি বাণিজ্যিক বিমান

২৭ বছর পর ইরাকে অবতরণ করলো সৌদি বাণিজ্যিক বিমান

সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক বিমান বুধবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবতরণ করেছে। গত ২৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো সৌদি বিমান ইরাকে অবতরণ করল। সৌদি আরব ইরাকের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হলো। ইরাকের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর সৌদি গ্যাজেটের।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম সৌদি বিমানকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এতে করে ২৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষ হলো। বাগদাদে অবতরণ করা বিমানটি সৌদি কোম্পানি ফ্লাইনাসের বিমান।

এক বিবৃতিতে ফ্লাইনাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব এবং ইরাকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব বহন করছে বিমানের এই ফ্লাইট।

ইরাকি কর্মকর্তারা বলেছেন, সৌদি কোম্পানি ফ্লাইনাস ইরাকের কয়েকটি শহরে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে কোম্পানিটি ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। আয় বৃদ্ধির জন্য কোম্পানিটি ইরাকে ফ্লাইট চালু করছে।

ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন ১৯৯০ সালে কুয়েত আক্রমণ করার পর থেকে প্রতিবেশি দেশ ইরাক ও সৌদি আরবের মধ্যে কোনো বিমান চলাচল করেনি।

সৌদি আরবের অনেকেই জিয়ারতের জন্য ইরাকের ধর্মীয় নগরীগুলো সফর করতে চান। এ কারণে সৌদি আরব কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না করলে বিমান সংস্থাটি অনেক যাত্রী পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ইরাকে তৎপর সন্ত্রাসীদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ গত বছর তৎকালীন সৌদি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছিল ইরাক সরকার।

কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ ইরাকি বাহিনীর হাতে, উদ্বিগ্ন ইসরাইল
ইরাকের তেল সমৃদ্ধ কিরকুকের ওপর থেকে কুর্দি পিশমার্গা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় ইহুদিবাদী ইসরাইল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কারণ এতদিন পর্যন্ত কিরকুকই ছিল ইসরাইলের তেলের প্রধান উৎস।

মঙ্গলবার লেবাননের আল-মানার টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, ইরাকের সেনাবাহিনী দেশটির আধা-স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরকুকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। কৌশলগত তেল ক্ষেত্রগুলোর ওপর থেকে কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণ হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ায় ইসরাইল এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, ইসরাইলের দু'টি টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, কিরকুকের যেসব তেল ক্ষেত্রগুলোর ওপর ইরাকি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে সেগুলো তুরস্কের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের প্রধান তেলের উৎস ছিল।

ইসরাইলের বিশেষজ্ঞ ইহুদ ইউরি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কিরকুক শহরটি ইরাকের তেলের প্রধান মজুদ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কোনো প্রকার যুদ্ধ ছাড়াই ইরাকি সেনাবাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তুরস্কের মধ্য দিয়ে কিরকুক থেকে ইসরাইলে তেল পৌঁছানো হতো। ইসরাইলের উদ্বিগ্ন হওয়ার মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, কুর্দিস্তান সরকার এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক কি মাত্রায় গভীর।’

এছাড়া, আল মানার টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে কিরকুকের তেল ক্ষেত্রগুলো থেকে উত্তোলন করা প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত তেল ইসরাইলে রপ্তানি করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০০,০০০ ব্যারেল তেল ইসরাইলে বিক্রি করা হয় বলে বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানির পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত একটি মার্কিন কোম্পানি জানিয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫