ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

ফুটবল

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সায় বিধ্বস্ত অলিম্পিয়াকোস

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০৬:২৮


প্রিন্ট
মেসির সেঞ্চুরি, বার্সায় বিধ্বস্ত অলিম্পিয়াকোস

মেসির সেঞ্চুরি, বার্সায় বিধ্বস্ত অলিম্পিয়াকোস

গোলের সেঞ্চুরি করলেন লিওনেল মেসি। বুধবার রাতে ইউরোপীয় ফুটবলে শততম গোল করলেন তিনি। দলের সেরা খেলোয়াড়ের এমন মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে বেশিরভাগ সময় একজন কম নিয়ে খেলেও অলিম্পিয়াকোসকে সহজেই হারিয়েছে বার্সেলোনা।

বুধবার রাতে কাম্প নউয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে এরনেস্তো ভালভেরদের দল। প্রথমার্ধে আত্মঘাতী গোলে স্বাগতিকরা এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল করার পাশাপাশি লুকাস দিনিয়ের গোলে অবদান রাখেন মেসি।

টানা তৃতীয় জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। ইউভেন্তুসকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা পরের ম্যাচে স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছিল। লাল কার্ড পাওয়ায় পিকেকে ছাড়াই খেলতে হয় মেসিদের।

ষষ্ঠ মিনিটে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটি পায় বার্সেলোনা। জেরার্দ দেউলোফেউয়ের কর্নারে সামুয়েল উমতিতির হেডে বল ছয় গজ বক্সে পান লুইস সুয়ারেস। ছুটে এসে উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার বলে পা লাগালেও তা লক্ষ্যে থাকেনি।

১৮তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে ডি-বক্সে মেসিকে লক্ষ্য করে দেউলোফেউয়ের ক্রস রুখতে গিয়ে নিজেদের জালে ঠেলে দেন গ্রিক ডিফেন্ডার দিমিত্রিস নিকোলাউ।

২৪তম মিনিটে পাওলিনিয়োর হেড লাগে ক্রসবারে। নয় মিনিট পর গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যর্থ হন সুয়ারেস, তার শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন সিলভিও প্রোতো।

৪২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দেউলোফেউয়ের ক্রস প্রোতো ঠেকানোর পর বল চলে যায় গোলমুখে ছুটে আসা পিকের কাছে। হাত দিয়ে বল জালে ঠেলে দিয়ে গোল তো পাননিই উল্টো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। চতুর্দশ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন স্পেনের এই ডিফেন্ডার।
৬১তম মিনিটে দারুণ ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ফুটবলে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। তার বাঁকানো শটে গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে বলে হাত লাগালেও ফেরাতে পারেননি।

এবারের আসরে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের এটা তৃতীয় গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার মোট গোল হলো ৯৭।

তিন মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন লুকাস দিনিয়ে। বাইলাইনের কাছে এক জনকে কাটিয়ে মেসির বাড়ানো কাটব্যাকে পা লাগাতে ব্যর্থ হন দুজন। কিন্তু ফাঁকায় বল পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ফরাসি ডিফেন্ডার।
৮৯তম মিনিটে সান্ত্বনার গোলটি করেন নিকোলাউ। হেডে বল জালে জড়ান শুরুতে আত্মঘাতী গোল করা এই ডিফেন্ডার।

‘ডি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্পোর্তিং লিসবনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইউভেন্তুস। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্পোর্তিং। অলিম্পিয়াকোসের পয়েন্ট শূন্য।

‘এ’ গ্রুপে পর্তুগালের আরেক দল বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে জোসে মরিনিয়োর দল। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় সিএসকে মস্কোর মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফেরা বাসেল।

কিলিয়ান এমবাপে, এদিনসন কাভানি ও নেইমারের নৈপুণ্যে আন্ডারলেখটের মাঠ থেকে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে ফেরা পিএসজি ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষেই আছে। নিজেদের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেল্টিককে ৩-০ গোলে হারানো বায়ার্ন মিউনিখ ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।

‘সি’ গ্রুপের দুটি ম্যাচই ড্র হয়েছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে রোমাঞ্চকর ম্যাচে রোমার সঙ্গে ৩-৩ ড্র করা চেলসি ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে ইতালির রোমা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

কারাবাখের মাঠে গোলশূন্য ড্র করা আতলেতিকো মাদ্রিদ ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে।

 

লোরিসের কাছে পয়েন্ট হারাতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে
দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষক হুগো লোরিসের দুটি অসাধারণ গোল বাঁচানোর কারনে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। গতকাল সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লীগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক রিয়াল।
দুটি দলই এবারের মৌসুমে এ পর্যন্ত অপারজিত ছিল ও নক আউট পর্বে যাবার জন্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছিল। গ্রুপ-এইচ’এ কালকের ড্রয়ের পরে তিন ম্যাচ শেষে দুই দলেরই সংগ্রহ সমান ৭ পয়েন্ট। প্রথমার্ধেই ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পেনাল্টির গোলে সমতায় ফিরেছিল মাদ্রিদ।
ম্যাচ শেষে স্পারস বস মরিসিও পচেত্তিনো বলেছেন, ‘হুগো আজ অসাধারণ খেলেছে। একটি বড় উপহার তার প্রাপ্য হয়ে গেল। সে তার জাত চিনিয়েছে। আজ আমরা সবাই দেখেছি কেন হুগো লোরিস বিশে^র অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। নিজের ওপর তার অগাধ আস্থা আছে। আজ সব খেলোয়াড়ই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।’


আগামী ১ নভেম্বর আবারো দুই দল গ্রুপের শীর্ষ পদ বেছে নিতে লড়াইয়ে নামবে। গ্রুপের অপর ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও এ্যাপোয়েল নিকোসিয়া ১-১ গোলে ড্র করায় জার্মান ও সাইপ্রাসের দুই দলই ৬ পয়েন্ট করে নিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান বলেছেন, ঘরের মাঠে জিততে না পারায় আমরা মোটেও খুশী নই। কিন্তু আজকের ম্যাচটি ছিল দারুন দুই গোলরক্ষকের। আমাদের হয়ে কেইলর নাভাস ও তাদের হয়ে লোরিস যা খেলেছে তাতে ম্যাচের ফলাফল মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নেই।


এই ম্যাচে রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগে অভিষেক হয়েছে ১৮ বছর বয়সী মরোক্কোর রাইট ব্যাক আচরাফ হাকিমির। প্রথম ১০ মিনিট উভয় দলই বেশ চাপে ছিল। তবে হ্যারি কেনের কল্যাণে এই সময়টা টটেনহ্যামই বেশী আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ইংলিশ এই ফরোয়ার্ডের দুর্দান্ত ফর্মে ম্যাচের আগেই জিদান বেশ শঙ্কা প্রকাশ করেছিল। বামদিক থেকে কেনের একটি আক্রমন নাভাস রুখে দেন। ফার্নান্দো লোরেন্তে গোল এরিয়ার মধ্যে কাসেমিরোকে ফেলে দিলেও পোলিশ রেফারী সিজমন মারিসিনাক তাতে কোন ইতিবাচক সাড়া দেননি। ২৮ মিনিটে সার্জি অরির ক্রস থেকে ভারানের পায়ে লেগে বল জালে জড়ালে আত্মঘাতি গোলের লজ্জা পায় মাদ্রিদ। অন্যদিকে এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। কিন্তু বিরতির আগে রিয়াল সমতায় ফেরার জন্য যা করেছে তাতে অনেকটাই প্রমানিত হয়েছে কেন তারা গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। ৪৩ মিনিটে টনি ক্রুসের আদায় করা পেনাল্টি থেকে রোনাল্ডো দলকে সমতায় ফেরান।


বিরতির পরে লোরিস দুইবার দারুনভাবে দলকে রক্ষা করেন। বেনজেমার শক্তিশালী হেড আটকে দেবার পরে রোনাল্ডোর হেডও দারুন দক্ষতায় রুখে দেন ফ্রেঞ্চ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে লোরিস বলেছেন, এই পর্যায়ে ড্র করাটা বেশ স্বস্তিদায়ক। তারা আমাদের ওপর প্রচনাড চাপ সৃষ্টি করেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা এক হয়ে ম্যাচটি ধরে রেখেছিলাম।
লোরেন্তের দারুন একটি পাস থেকে ম্যাচের শেষের দিকে কেন সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন। তবে এতে নাভাসের কৃতিত্বই বেশী।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫