ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকা

বোমা হামলার মামলা : শামীম ওসমানকে চূড়ান্ত সমন

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা

১৮ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৯:৪৬


প্রিন্ট
বোমা হামলার মামলা : শামীম ওসমানকে চূড়ান্ত সমন

বোমা হামলার মামলা : শামীম ওসমানকে চূড়ান্ত সমন

নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহতের ঘটনায় বারবার ধার্য তারিখেও সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও একাত্তরের জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীলসহ ৫৬ জনকে চূড়ান্ত সমন দেয়া হয়েছে। আগামী সাক্ষীর নির্ধারিত দিনে উপস্থিত না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হবে।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত প্রথম আদালতে নির্ধারিত সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। কিন্তু এদিন সাক্ষীরা না আসায় বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আগামী ১৩ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, ‘চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার দুটি মামলার (একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক) বিচারকাজ একসঙ্গে শুরু হয় ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রপক্ষে ৫৬ জন সাক্ষীর মধ্যে শুধু একজন ও মামলার বাদি খোকন সাহা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত অন্য সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম আগের অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে এ মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নানকে সিলেটে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের উপর বোমা হামলার একটি মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাছাড়া সাক্ষীদের কালক্ষেপণে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

পিপি আরো জানান, বুধবার নির্ধারিত সাক্ষ্য গ্রহণের দিন জামিনপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু উপস্থিত ছিলেন। এদিন আদালত মামলা ৫৬ জন সাক্ষীকে বুধবার আদালত চূড়ান্ত সমন জারি করেছেন। আগামী ১৩ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিনে তাঁরা উপস্থিত না হলে ওয়ারেন্ট জারি করা হবে। সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলার সভাপতি চন্দন শীল, আওয়ামী লীগ নেতা আনিছুর রহমান, লুৎফর রহমান, রতন দাসসহ ৫৬ জন যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ নেতা। বোমা হামলার সময়ে তারা সবাই আহত হয়েছিলেন।

২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামী লীগ অফিসে ভয়াবহ বোমা হামলায় ২০ জন নিহতের ঘটনায় বিস্ফোরক ও হত্যা আইনে দুটি মামলা হয়। কয়েক দফা তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন শেষে দুটি মামলায় ২০১৩ সালের ২ মে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটভুক্ত ছয়জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল ও হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান গ্রেফতার রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ওবায়দুল্লাহ রহমান। ভারতের দিল্লী কারাগারে আটক রয়েছেন সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিন। আর জামিন আছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।


নারায়ণগঞ্জে ডাবল মার্ডারের আসামি আবুল গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশীপুরে ডাবল মার্ডারের এজাহারভুক্ত আসামি আবুলকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বাবুরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে ।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, আবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এজাহারভুক্ত ১৯ নম্বর আসামি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এর আগে ১৭ অক্টোবর ডাবল মার্ডারের এজাহার নামীয় আসামি রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া ১৫ অক্টোবর সকালে কাশিপুর খিল মার্কেট এলাকা থেকে মামলার ১০নং আসামি মো. মোজাম্মেল হক রাজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নিহত পরিবারগুলোর পক্ষে মামলা না হওয়ায় ১৪ অক্টোবর শনিবার দুপুরে ফতুল্ল মডেল থানার এস আই মোজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। ১২ অক্টোবর রাতে কাশীপুরের হোসাইনি নগর এলাকাতে একটি রিকশার গ্যারেজে সশস্ত্র হামলাকারীরা কুপিয়ে তুহিন হাওলাদার মিল্টন (৪০) ও পারভেজ আহমেদ (৩৫) নামে দু'জনকে হত্যা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন এক নং বাবুরাইলের শুক্কুর মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাহাঙ্গীর বেপারী (৪০), ১নং বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে বাপ্পী (২৮), রবিন (৩০), রকি (২৮), ভূইয়াপাড়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে আমান (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার খোকা মিয়ার ছেলে শহিদ (৩০), বাবুরাইল তারা মসজিদ এলাকার আসলাম (৫০), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার মৃত জাকিরের ছেলে মাহাবুব (৩০), বিএনপি নেতা হাসান আহমেদের ভাতিজা শিপলু (৩০) ও রাসেল (৩৩), বাবুরাইল এলাকার মুক্তা (২৮), পাইকপাড়া জিমখানা ডিমের দোকান এলাকার শরীফ (৩৩), বাবুরাইলের রানা (২৮), বাবুরাইলের কিরণ (৩০), মানিক (৩০), বাবুরাইলের আবদুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল (২৬), বন্দর এলাকার রাব্বি (৩০), ১নং বাবুরাইলের নিলু সরদারের ছেলে সোহাগ (৩২), বাবুরাইল শেষমাথা এলাকার রাকিব (২৭), বাবুরাইল ঋষিপাড়া এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে রাজন (৩০), বাবুরাইল এলাকার রিক্সা আবুল (৩৫), একই এলাকার ফরহাদসহ (৫২) অজ্ঞাত আরো ১ শ' থেকে ১২৫ জন। মামলার আসামিরা সকলেই বিএনপি নেতা মজিদ ও হাসান বাহিনীর লোক হিসেবে পরিচিত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫