ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

অস্ত্রের ব্যবসায় শীর্ষ চার কোম্পানি

সফেদ শিশির

১৮ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৫:৪৩


প্রিন্ট
অস্ত্রের ব্যবসায় শীর্ষ চার কোম্পানি

অস্ত্রের ব্যবসায় শীর্ষ চার কোম্পানি

 লকহেড মার্টিন
লকহীড মার্টিন (Lockheed Martin) একটি মার্কিন অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রতিরক্ষা, তথ্য নিরাপত্তা কোম্পানি। কোম্পানির ধরণ পাবলিক। লকহেড মার্টিন ২০১৫ সালে ৩৬ বিলিয়ন ইউএস ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে। তন্মধ্যে মুনাফা হয় ৩.৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০১১ সালে আয় ছিল ৪৬.৪৯৯ বিলিয়ন ইউএস ডলার, বিক্রয় আয় ছিল ৩.৯৮০ বিলিয়ন ইউএস ডলার, মুনাফা ছিল ২.৬৫৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার। ২০১৭ সালের অক্টোবরে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ এ কোম্পানিটির মোট বাজার দর ছিল ৯১ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

আরেক হিসাবে কোম্পানিটির রাজস্ব ৪৫.৬বিলিয়ন ইউএস ডলার। এর প্রডাক্টসমূহ হচ্ছে- সি-১৩০ হারকিউলিস, সি-ফাইভ গ্যালাক্সি, এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, পি-৩ অরিয়ন, এফ-২২ র্যা প্টর, এ-৪ এআর ফাইটিং হক, ডিএসসিএস-৩ উপগ্রহ, ট্রাইডেন্ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং ফিফথ জেনারেশন এফ-৩৫ লাইটেনিং ২ স্টিলথ ফাইটার এগুলো এ প্রতিষ্ঠানের এয়ারক্রাফট| কোম্পানির স্লোগান হচ্ছে- "We never forget who we're working for." ওয়েবসাইট হচ্ছে http://www.lockheedmartin.com.

পিএসি-৩ এবং থাড সিস্টেমস উৎপাদনকারী হিসেবে বিখ্যাত| আমেরিকা ও পৃথিবীব্যাপী এ প্রতিষ্ঠান বিখ্যাত অস্ত্র উৎপাদনকারী হিসেবে এবং পেন্টাগন এর বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পরিচিত | পণ্যসমূহের মধ্যে আরো রয়েছে- এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মিসাইল ডিফেস অ্যাজেন্সি, মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট, জঙ্গিবিমান, রাডার, স্যাটেলাইট, অ্যাটলাস রকেট, স্পেসক্রাফট
১৯৯৪ সালের মার্চে লকহীড কর্পোরেশন ও মার্টিন ম্যারিয়েট্টা কোম্পানির সংযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চে লকহীড কর্পোরেশন ও মার্টিন ম্যারিয়েট্টা কোম্পানির সংযুক্তির মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর ম্যারিল্যান্ডে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরের হিসাবে কোম্পানিটিতে ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ কাজ করে। লকহীড মার্টিন বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ অস্ত্র বিক্রেতা। এটি পাঁচটি অংশের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। ১৯৯৪ সালের মার্চে লকহীড কর্পোরেশন ও মার্টিন ম্যারিয়েট্টা কোম্পানির সংযুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ সংযুক্তি চূড়ান্ত হয়। এর সদরদপ্তর হচ্ছে ম্যারিল্যান্ড।
সূত্র : আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া

বোয়িং কোম্পানি
বোয়িং কোম্পানি (The Boeing Company) একটি বহুজাতিক মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। ১৯১৬ সালে উইলিয়াম ই. বোয়িং ওয়াশিংটনের সিয়াটলে এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। ১৯৯৭ সালে বিমান নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটি আরেকটি বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনেল ডগলাস এর সাথে একত্রীভূত হয়। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি ২৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে, ৫.২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের মুনাফা করে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট সদর দপ্তর আমেরিকার শিকাগোতে স্থাপন করা হয়। বোয়িং কোম্পানি ৬টি বিশেষ ইউনিটে বিভক্ত। বোয়িং বাণিজ্যিক বিমান (বিসিএ), বোয়িং সামরিক, মহাকাশ ও নিরাপত্তা, প্রকৌশল, পরিচালনা ও প্রযুক্তি, বোয়িং ক্যাপিটাল ও বোয়িং শেয়ারড সার্ভিসেস গ্রুপ। কোম্পানিটির এফ-১৫, এফ-১৮ এবং এফ-২২ এয়ারক্রাফটসহ অস্ত্র বিক্রিই মোট ব্যবসার ২৯ ভাগ।
বোয়িং কোম্পানির ধরণ পাবলিক। শিল্প হচ্ছে- খেয়াযান, সামরিক। কোম্পানির পণ্যসমূহ হচ্ছে-বাণিজ্যিক বিমান বহর, সামরিক বিমান, মহাকাশ গবেষণা, কম্পিউটার সার্ভিসেস। ২০১০ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ৬৪.৩০৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার, বিক্রয় আয় ছিল ৫.০২৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার, মুনাফা ছিল ৩.৩০৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার, মোট সম্পদ ছিল ৬৮.৫৬৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার, মোট ইকুইটি ছিল ২.৭৭৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল কর্মীসংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪ হাজার ৪৯৫ জন। বিভাগসমূহ হচ্ছে-বোয়িং কমার্সিয়াল এয়ারপ্লেনস, বোয়িং ডিফেন্স-স্পেস এন্ড সিকিউরিটি। অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- Aviall, Inc. CDG, Jeppesen, Boeing Aircraft Holding Company, Boeing Australia, Boeing Canada, Boeing Defence UK, Boeing Store, Narus ওয়েবসাইট http://www.boeing.com

সূত্র : আলজাজিরা ও উইকিপিডিয়া

ব্রিটেনের বিএই সিস্টেম
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএই সিস্টেম একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি যার হেডকোয়ার্টার ব্রিটেনের লন্ডনে। কোম্পানিটি এরোস্পেস, সিকিউরিটি এবং ডিফেন্স বিভাগগুলোতে বিশেষ দক্ষ। প্রধান সার্ভিসগুলো হচ্ছে সিভিল ও মিলিটারি এরোস্পেস, ডিফেন্স ইলেক্ত্রনিক, নাভাল ভেসেল, এবং ল্যান্ড ওয়ারফেয়ার সিস্টেম। এর বড় অপারেশনগুলো যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক। এফটিএসই ১০০ নিয়ে কোম্পানিটি গঠিত এবং এর স্টক লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেড করা হয়।

ব্রিটিশ এই কোম্পানি ২০০৮ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র বিক্রি করে বলে জানায় সুইডেনভিত্তিক গবেষণাসংস্থা 'স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (এসআইপিআরআই)। ২০০৮ সালে বিএই সিস্টেম সবচেয়ে বেশি অস্ত্র উৎপাদন করে এবং তিন হাজার ২৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে। ২০০৮ সালে ২০০৭ সালের চেয়ে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ১১ শতাংশ বেশি এবং উৎপাদিত অস্ত্রের ৫৯ শতাংশ বিক্রি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে।

সূত্র : এএফপি, দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

এয়ারবাস

এয়ারবাস গ্রুপের অধীন একটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির মূল অফিস ফ্রান্সের ব্লাগন্যাকে অবস্থিত এবং এর উৎপাদন ব্যবস্থা ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থিত। এয়ারবাসের শুরু হয় মহাকাশযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস ইন্ডাসট্রি-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে।  ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একত্রীকরণের ফলে একটি যৌথ কারবারী প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। এর মালিকানার ৮০% ইএডিএস এবং ২০% বিএই সিস্টেমসের ছিল। পরবর্তিতে বিএই ২০০৬ এর অক্টোবরে তার শেয়ার ইএডিএস-এর কাছে বিক্রয় করে।

চারটি দেশের ১৬টি শহরজুড়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৮২ কর্মচারী এয়ারবাসে চাকরি করে। এদেশগুলো হল ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য। তবে বিমানের বিভিন্ন অংশ চূড়ান্ত পর্যায়ে একত্রীকরণের ব্যবস্থা ফ্রান্সের তোলুস, জার্মানির হামবুর্গ এবং স্পেনের সেভিলেতে অবস্থিত। ২০০৯ সালে চীনের তিয়ানজিনেও এয়ারবাস এরকম একটি কারখানা স্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এবং ভারতে এয়ারবাসের সহযোগী সংস্থা রয়েছে।

এয়ারবাস বিশ্বের প্রথম ফ্লাই-বাই-ওয়্যার বিমান এয়ারবাস এ৩২০ তৈরি করেছে। এছাড়া এয়ারবাস বিশ্বের সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহী বিমান এ৩৮০ তৈরি ও বাজারজাত করছে। ২০১৩ সালে এয়ারবাস ৬২৬টি বিমান তৈরি করেছিল। এয়ারবাসের সূচনা হয় কয়েকটি ইউরোপীয় বিমান নির্মাণ সংস্থার একত্রীকরণের ফলে। এর উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন বিমান নির্মাণকারী বোয়িং, ম্যাকডোনেল ডগলাস এবং লকহিড-এর সাথে প্রতিযোগিতা করা। যদিও অনেক ইউরোপীয় বিমান কৌশলের দিক থেকে সৃজনশীল ও উন্নত ছিল, কিন্তু তাদের উৎপাদন ছিল কম। ১৯৯১ সালে জিয়ান পিয়ারসন, এয়ারবাসের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কিন বিমান নির্মাণ কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত প্রভাবের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র্বের বিশাল ভূ-খন্ডের কারণে সেদেশে বিমান পরিবহন অনেক বেশি এবং ফলে বিমান উৎপাদনও বেশি। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি লাভজনক, শক্তিশালী এবং কাঠামোগত বিমান নির্মাণ শিল্প গড়ে উঠে।

১৯৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় বিমান কোম্পানিগুলোর পরস্পরের সমন্বেয়ের ক্ষেত্রে তারা একটি মীমাংশে উপনিত হয়। কোম্পানিগুলো এধরণের একটি অবস্থার ধারণা আগেই পেয়েছিল। ১৯৫৯ সালে হওকার সিডলি আর্মস্ট্রং হুইটওয়ার্থ বিমানটির একটি এয়ারবাস সংস্করণ প্রদর্শণ করে। এই সংস্করণটি একত্রে ১২৬ জন যাত্রী পরিবহণে সক্ষম। ইউরোপীয় বিমান নির্মাতারা এধরণের একটি চ্যালাঞ্জের ব্যাপারে আগে থেকে সচেতন ছিল এবং তারা অনুধাবন করেছিল যে মার্কিন শক্তিশালী বিমান নির্মাতাগুলির সাথে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য পারস্পারিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।

বিমান নির্মাণের এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭০ (এয়ারবাস ইন্ডাস্ট্রি)। প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন-বার্নাড ল্যাথিয়ের, রজার বেটেলি, হেনরি জিগলার। সদরদপ্তর হচ্ছে- তোলুস, ফ্রান্স। ২০১৭ সালের মার্চ পর্য ন্ত ১০,৩৪৪ টি এয়ারক্র্যাফট, ১২ হাজার হেলিকপ্টার বিক্রি করেছে। সরাসরি সাপ্লাইয়ারস হচ্ছেন ১২ হাজার, যারা ১৮০টি সাপ্লাই সেন্টারের মাধ্যমে পণ্য সাপ্লাই দেয়। ২০১৬ সালে আয় €৬৬.৬ বিলিয়ন, অর্ডার পেয়েছে €১,০৬০ বিলিয়ন মূল্যের পণ্যের। পণ্যসমূহ- বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমান। ২০১১ সালে আয় ছিল €৩৩.১০ বিলিয়ন, ২০০৮ সালে নীট আয় ছিল €১.৫৯৭ বিলিয়ন। মূল প্রতিষ্ঠান- এয়ারবাস গ্রুপ, অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান- এয়ারবাস কর্পোরেট জেট, ওয়েবসাইট- www.airbus.com 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫