পরিযায়ী পাখি আসার মওসুম শুরু
পরিযায়ী পাখি আসার মওসুম শুরু
বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস আজ

পরিযায়ী পাখি আসার মওসুম শুরু

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

হেমন্তের শুরুতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি আসার মওসুম শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন স্পটে এরা চলে আসবে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে খঞ্জন, সুইচোরা, চ্যাগা ও চা পাখি, চখাচাখী মানিকজোড়, গেওলা ও গুলিন্দা পাখি।


পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার সমতল ও সুন্দরবনকে লক্ষ্য করে প্রায় আটটি পথ ধরে পাখিরা এখানে আসে। দেশের হাওর এলাকা ও বিস্তৃত সুন্দরবন এলাকা পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম আকর্ষণ।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. নূর জাহান সরকার নয়া দিগন্তকে জানান, এ সময়ে পাখি আসতে শুরু করে, তবে এবার আবহাওয়া এখনো গরম অনুভূত হচ্ছে। তাই আরো পরে আসবে পরিযায়ী পাখিরা।


তবে নদী পানি পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপচিালক ম. ইনামুল হক বলেন, বৈশাখ থেকে চৈত্র বাংলার পঞ্জিকাকে ঘিরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছয় ঋতুর জলবায়ু বিদ্যমান। বর্তমান বাংলা পঞ্জিকায় কার্তিক মাস থেকে যে হেমন্তকালের সূচনা। এ সময় থেকেই শীতের পাখি তথা অতিথি পাখিরা এখানে আসা শুরু করে। তিনি বলেন, আমরা চাই তারা এখনই আসুক। আমরা তাদের বিচরণক্ষেত্র ফিরিয়ে দিতে চাই। হেমন্তের শুরুতে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিযায়ী পাখি ও পরিবেশসংক্রান্ত বিশ্বের নানা সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে ১৮ অক্টোবর এ দিবসটি নির্দিষ্ট করেছি। এ দিনটি ঐতিহ্যবাহী বাংলা পঞ্জিকায় ১ কার্তিক, বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকায় ৩ কার্তিক। আমরা এ দিনটি পালনের ব্যাপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মনিপুরের পরিবেশবাদীদের সমর্থন পেয়েছি বলে ইনামুল হক নয়া দিগন্তকে জানান। তিনি জানান, হেমন্তের শুরুতে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে। পশ্চিমবঙ্গ ও মনিপুর এ দিবসটি পালন করে আসছে কয়েক বছর ধরে।


পরিযায়ী পাখি আসার মওসুমকে ধরে রাখতে আজ পালিত হতে যাচ্ছে পরিযায়ী পাখি দিবস। দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে সচেতনতা বাড়াতে এ দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে।
কোথায় আসবে পরিযায়ী পাখি : বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে শীতের পাখি সবার আগে আসে কাশ্মির ও হিমাচল থেকে। এর কিছুটা উত্তর-পূর্বে লাদাখ, সিংনকিয়াং ও তিব্বত থেকে আসে পরিযায়ী পাখি। তবে দূরবর্তী পূর্ব ইউরোপ এবং সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকেও পরিযায়ী পাখি আসে। এ ছাড়া হিমালয় পর্বত ডিঙিয়ে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে আসে জানা অজানা এসব পাখি।

ম. ইনামুল হক জানান, দেশের তিনটি স্থানে এ সময়ে পরিযায়ী পাখি আসা শুরু করে। এগুলো হলো : টাঙ্গুয়ার, হাকালুকি ও হাইল হাওরে। অপর দিকে চাঁপাইনবাগঞ্জের বিল ভাটিয়া অভয়াশ্রম ও নোয়াখালী সমুদ্রতটস্থ এলাকায় পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করে যথাসময়ে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক পাখি আসা শুরু করেছে। এ দিকে দিবসটি উপলক্ষে জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পরিযায়ী পাখিদের বরণ করে নিতে এবং এদের রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে র্যালি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘বিশ্ব পরিযায়ী পাখী দিবস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে সংগঠনটির কার্যালয়ে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.