ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত

প্রধান বিচারপতি ফিরে এসে কাজে যোগ দিতে পারবেন

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৮ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০০:১২


প্রিন্ট

দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বলেছেন, ‘চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যখনই দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন, তখনই নিতে পারবেন। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত। তিনি যদি কাল সকালে আবার দায়িত্ব নিতে চান আমার ধারণা, তাতে কোনো সমস্যা হবে না।’
গত সোমবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস কাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। বিবিসি ও বাংলা ট্রিবিউন।
এর আগে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি আবার দায়িত্ব নেবেন, সেই সম্ভাবনা ‘সুদূর পরাহত’। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আপিল বেঞ্চের পাঁচজন বিচারপতি যেখানে তার সাথে এক বেঞ্চে বসতে রাজি নন, সেখানে তার দায়িত্বে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তবে হাইকমিশনার মোয়াজ্জেম আলী ভিন্ন সুরেই কথা বললেন। তিনি বোঝাতে চাইলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে হটিয়ে দিয়েছে, বিষয়টা আসলে এমন নয়।
বাংলাদেশী হাইকমিশনারের কাছে প্রধান বিচারপতি সিনহার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল ওয়াইওন নিউজ। জি নিউজ নেটওয়ার্কের এই টিভি চ্যানেলটি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে বিতর্কের খবর ফলাও করে প্রচার করছে।
জবাবে মোয়াজ্জেম আলী প্রথমে রসিকতা করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে আমি দুটো জিনিস সব সময় এড়িয়ে চলি। এক, নিজের শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কখনো প্রকাশ্যে কথা বলি না। কারণ তাতে আমার বাড়ির দরজা আমার জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দুই, আদালত বা বিচারপতিদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকি। কারণ কী বলতে কী বলব, আর আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাস কোর্টে চরকির মতো ঘুরতে হবে। এটা আমি ভয় পাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে ছুটির আবেদন করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছেন। আগে থেকেই তিনি ক্যান্সারে ভুগছেন, কাজেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে চিকিৎসা করাতে চান। এ জন্য লম্বা ছুটি প্রয়োজন। স্বভাবতই রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুরও করেছেন। এখন যদি তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন কিংবা পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও কাজে যোগ দিতে চান, তবে তিনি আবার কাজে যোগ দেবেন। এই তো ব্যাপার।’
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে
এদিকে রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিবিসিকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সঙ্গে যেহেতু ভারতের সরাসরি কোনো সীমান্ত নেই, তাই এ ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
ভারত রোহিঙ্গাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করলেও বাংলাদেশ যে এটিকে মূলত মানবিক সঙ্কট হিসেবেই দেখছে সেটিও তিনি বলছেন।
সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, ভারতে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হলে সেটা তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না।
গত ৯ সেপ্টেম্বর খানিকটা হঠাৎ করেই দিল্লির সাউথ ব্লকে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছিলেন হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।
মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে রাজি হয়, সে ব্যাপারে তাদের ওপর প্রভাব খাটাতে ভারতকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি ও অং সান সু চির বৈঠকের পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লিখিত না হওয়ায় বাংলাদেশ যে হতাশ, সেটাও গোপন করেননি রাষ্ট্রদূত।
ওই বৈঠকের পর সে রাতেই ভারত এই সঙ্কট নিয়ে নিজেদের অবস্থান কিছুটা পরিমার্জন করে নতুন বিবৃতি দিয়েছিল।
তবে তার প্রায় সোয়া মাস পর আলী মনে করছেন, আসলে রোহিঙ্গা সঙ্কটকে ভারত ও বাংলাদেশের একই দৃষ্টিতে দেখা বোধহয় সম্ভবও নয়।
বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছিলেন, ‘এখানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে মনে হচ্ছে একটা সহজ কারণেÑ রাখাইন অঞ্চলটা ভারতের লাগোয়া নয়। রাখাইন যদি ভারতের লাগোয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মতো ভারতকেও একই পরিণাম ভুগতে হতো।’
‘হ্যাঁ, ঠিক আছে এখনকার মতো আপনারা বেঁচে গেছেন। কিন্তু কতদিন? রাখাইনে প্রাকৃতিক সম্পদ, বন্দরের সুবিধা ইত্যাদি কত কিছু নিয়েই তো কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা না থাকলে তো এসব কিছুই থাকবে না!’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫