ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

আরো খবর

খালে পড়ে যাওয়া শিশুটি উদ্ধার হয়নি ৩ দিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০০:১২


প্রিন্ট

রাজধানীর মুগদা থানার মাণ্ডার মদিনাবাগে জিরানী খালে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পরও উদ্ধার হয়নি তিন বছরের শিশু হৃদয়। গত রোববার বিকেল ৫টায় মাণ্ডার মদিনাবাগে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে ওই খালে পড়ে যায় শিশুটি। এরপর থেকেই উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। কিন্তু খালের স্রোত, বাঁশ, ময়লার কারণে এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি তারা। এ দিকে এখনো হৃদয়ের খোঁজ না মেলায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি উদ্ধার কাজ করছে এলাকাবাসী।
গতকাল সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, খালে অতিরিক্ত ময়লা জমে থাকার কারণে উদ্ধারকাজে আমাদের ডুবুরি দলের প্রথম থেকেই অসুবিধা হচ্ছে। আমরা প্রথম দিন থেকেই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার কাছে খালটির ময়লা পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কয়েকজন লোক ছাড়া কোনো সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করা হয়নি। আমাদের ডুবুরিরা ধারণা করছে শিশুটির লাশ স্যুয়ারেজ লাইনে অথবা খালের কোথাও ময়লার স্তূপে আটকে আছে।
অপর দিকে শিশু হৃদয়ের খোঁজ না মিলায় ওই এলাকায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিন অপেক্ষার পরে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন। সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন কোমরে রশি বেঁধে স্যুয়ারেজ গেট পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই খালের দীর্ঘ দিনের জটলা বাঁধা ময়লা পরিষ্কার করছেন। তাদের সাথে অব্যাহত রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের কাজ।
ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, সোমবার রাতে উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত করার পর মঙ্গলবার সকালে আবার চালু করা হয়েছে। আমাদের সাথে পুলিশ ও এলাকাবাসী কাজ করছে। তবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সহযোগিতা পেলে ভালো হতো। শিশুটির খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
মুগদা থানার ওসি মো: এনামুল হক জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের অভিযোগের কথা বললে ওসি বলেন, সরু জায়গার কারণে সেখানে ভারী কোনো সরঞ্জাম নেয়ার সুযোগ নেই। সুযোগ থাকলে অবশ্যই নেয়া হতো।
হৃদয়ের বাবা কামাল হোসেন ও মা রোজি বেগম রাস্তায় কাগজ কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ওই খালের পাড়েই টংঘরে বাবা-মায়ের সাথে থাকত হৃদয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫