ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

নগর মহানগর

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা- ২০১৭ চূড়ান্ত

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

১৮ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০০:১২


প্রিন্ট

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো হাসপাতাল বা কিনিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের আর্থিক অবস্থায় বিবেচনায় এনে চিকিৎসাসেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনায় আহতকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে কাছের হাতপাতাল বা কিনিকে পাঠাতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া গেলে পুলিশকে গাড়ি দিয়ে সহায়তা করতে হবে। আর এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ‘জরুরি স্বাস্ব্যসেবা নীতিমালা, ২০১৭ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ নীতিমালার আলোকে নতুন চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের সেবা নিশ্চিত করার শর্ত দেয়া হয়েছে। একই সাথে বিদ্যমান চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স নবায়নের সময় এ শর্তটি পরিপালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো হাসপাতাল অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হাতপাতাল বা কিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় কোনো কোনো দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অন্যান্য হাসপাতাল বা কিনিক সড়কে আহতের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রায়শই অপারগতা প্রকাশ করে থাকে।
সূত্র জানায়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাছের হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে। আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। আইনি জটিলতার সম্ভাবনা বিবেচনায় চিকিৎসা প্রদানে দেরি করা যাবে না এবং আহত ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে তাকে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। গুরুতর আহত ব্যক্তির প্রাথমিক স্ক্রিনিং করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা সুবিধা বা সক্ষমতা না থাকলে রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ করে উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধাসংবলিত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদানে সক্ষমতা সম্পন্ন হাসপাতাল কোনো অবস্থাই রোগীর চিকিৎসা দেয়া ছাড়া ফেরত বা স্থানান্তর করতে পারবে না।
সূত্র জানায়, নীতিমালায় বলা হয়েছে, আহত ব্যক্তির জরুরি শল্যচিকিৎসা প্রয়োজন হলে উপযুক্ত অভিভাবক বা আত্মীয়ের অনুপস্থিতিতে তাদের সম্মতি ছাড়াই প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসার প্রস্তুতি গ্রহণ সাপেক্ষে চিকিৎসা দেয়া যাবে এবং জরুরি শল্যচিকিৎসার ফলে আহত ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা থাকলে বা জীবনহানি ঘটলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না। জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো হাসপাতাল অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন/লাইসেন্স/অনুমতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নীতিমালায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে জরুরি চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো ব্যক্তির করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ওই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তাকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের আগে কোনোরূপ হয়রানি বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে কোনো পুলিশ স্টেশনে প্রেরণ বা আনা যাবে না। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার আগে আহত ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পুলিশ কর্মকর্তা আহত ব্যক্তির জখমের প্রকৃতি এবং আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ প্রদানের জন্য কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিকে কোনো বল প্রয়োগ করতে পারবেন না।
নীতিমালায়, আহত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাসংবলিত হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপযুক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করবেন।
সূত্র জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন বিবেচনায় জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি, ২০১১-এ জরুরি চিকিৎসাসেবাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের আদেশে ‘গুড সামারিটান’ নীতি অনুসরণ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নীতিমালায় হাসপাতাল বলতে কোনো সরকারি বা সরকার অনুমোদিত কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, কিনিক, নার্সিং হোম, মেডিক্যাল সেন্টার অথবা চিকিৎসা সেবাপ্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত কোনো মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান, তা যে নামেই হোক না কেন তা বোঝাবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তি বলতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অধীনে নিবন্ধিত চিকিৎসক, মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মিডওয়াইফ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিক্যাল বা নার্স ছাত্রছাত্রী ও চিকিৎসা সহায়তাকারী অথবা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫