ঢাকা, সোমবার,১৭ জুন ২০১৯

নগর মহানগর

বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

৪০ টাকায় প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ বন্ধ করা গেলেও বাংলাদেশে ৩১ শতাংশ মা মারা যান এ জটিলতায়

হামিম উল কবির

২৮ মে ২০১৫,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

বেশির ভাগ মাতৃমৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য হলেও এখনো জন্মদানের জটিলতায় মারা যাচ্ছেন মায়েরা। এখনো অ্যাকলাম্পশিয়ায় মারা যাচ্ছেন অনেক মা। জন্মদানের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেও মারা যাচ্ছেন তারা। যদিও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায় মাত্র ৪০ টাকার দুটো ট্যাবলেটে। এত অল্প টাকায় তা বন্ধ করা গেলেও বাংলাদেশে ৩১ শতাংশ মা-ই মারা যান জন্মের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে না পারায়। এটা হয়ে থাকে ঘরে অদক্ষ দাইয়ের হাতে পড়লে।
অপর দিকে মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ মারা যান অ্যাকলাম্পশিয়ায়। বাংলাদেশ ম্যাটারনাল মর্টালিটি সার্ভে (বিএমএমএস-২০১০) অনুযায়ী এ দেশে এক বছরে প্রতি এক লাখে ৯৪ জন মা মারা যাচ্ছেন। সে অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর ছয় হাজার ৮৪৮ জন মা মারা যাচ্ছেন। কারণ এখানে ৭১ শতাংশ জন্মই হয়ে থাকে বাড়িতে অদক্ষ দাইয়ের হাতে। এ অবস্থায়ই আজ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’।
সাধারণত মাতৃমৃত্যু ঘটে গর্ভধারণের সময় নানা জটিলতায়, ডেলিভারীর সময় ও জন্মদানের ছয় সপ্তাহের মধ্যে। মাতৃমৃত্যু হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নবজাতকও মারা যায় ও বেশির ভাগ মৃত্যুই হয়ে থাকে ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
বিএমএমএস অনুসারে মাতৃমৃত্যু ঘটে থাকে ৭ শতাংশ প্রসব দেরি হওয়ায়, ১ শতাংশ গর্ভপাতের সময়, অন্যান্য সরাসরি জটিলতায় মারা যায় ৫ শতাংশ, সরাসরি নয় (ইনডাইরেক্ট) এমন কারণে মারা যায় ৩৫ শতাংশ এবং চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না এমন মৃত্যু হয়ে থাকে ১ শতাংশ।
গর্ভবতী হলে কী করতে হবে তা অনেক মায়েরাই জানেন না। এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে সরকারি স্বাস্থ্য সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সুদৃশ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে কিন্তু সেবা প্রদানকারী নেই। সরকারের বাইরে অনেক এনজিওরা কাজ করে। কিন্তু এনজিওরা ইচ্ছা করলেই সব স্থানে পৌঁছতে পারে না। ফলে গর্ভবতী মায়েরা সঠিক সেবা পান না।
হবিগঞ্জ জেলায় মা-মনি এইচএসএস পপুলেশন বেজড সার্ভে অনুসারে হবিগঞ্জে পাস করা সেবা প্রদানকারীদের কাছ থেকে ৭৪ শতাংশ গর্ভবতী মায়েরা প্রসব পূর্ব সেবা (এএনসি) নিয়েছেন। ৭৪ শতাংশ স্কিল্ড বার্থ অ্যাটেনডেন্টের কাছে সেবা নিয়েছেন। প্রসবের পর রক্তক্ষরণ বন্ধের ওষুধ মিজোপ্রোস্টাল নিয়েছেন ৩৭.৭ শতাংশ এবং নিয়েছেন প্রসবের পর নবজাতক সেবা (পিএনসি)। তারপরেও হবিগঞ্জ জেলায় ২০১৪ সালে প্রসবজনিত জটিলতায় ৯৫ জন মা মারা গেছেন। তাদের ৩৯ শতাংশই ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সে মারা গেছেন।
বিএমএমএস অনুসারে, গর্ভকালীন অ্যাকলাম্পশিয়ায় মারা যায় মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ। অ্যাকলাম্পশিয়া হলোÑ গর্ভকালীন উচ্চরক্তচাপের ফলে সংঘটিত খিঁচুনি। এ সময় খিঁচুনি হলে কিডনি, হৃৎপিণ্ড, যকৃত ও মস্তিষ্ক ও জরায়ুর মারাত্মক তি হয়ে থাকে। এ অঙ্গগুলো আক্রান্ত হলে এর জটিলতায় মায়ের মৃত্যুও হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট গাইনিকোলজিস্ট অধ্যাপক ডা: ফেরদৌসি বেগম। এ ছাড়া অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণেও অনেক রকম সমস্যা হতে পারে যেমন হার্ট ফেইলিউর, মস্তিষ্কে রক্তরণ।
বাংলাদেশে হাজার বছর ধরে এ আপ্তবাক্য সমাজে চালু রয়েছেÑ ‘যে সংসারে মা আছেন সেখানে সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে চলে। কিন্তু যেখানে মা নেই প্রাচুর্য থাকলেও সে সংসার অথবা এর সদস্যরা খুব ভালো থাকে না।’ একটু চেষ্টা করলেই মাতৃমৃত্যু রোধ করা যায় কারণ প্রসবজনিত সব জটিলতা প্রতিরোধযোগ্য ও খুব স্বল্প ব্যয়েই তা প্রতিরোধ করা যায়।

 

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫