ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

বরিশাল

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ : যুবতী গ্রেফতার

পিরোজপুর সংবাদদাতা

১৭ অক্টোবর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:৩০


প্রিন্ট
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ : যুবতী গ্রেফতার

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ : যুবতী গ্রেফতার

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরীর বাবা দু'জনকে আসামি করে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত উত্তর শংকরপাশা গ্রামের আনসার মুন্সির ছেলে নাসির মুন্সি (৬০) পলাতক রয়েছেন। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী (১৪) সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের উত্তর শংকরপাশা গ্রামের এক দিনমজুরের কন্যা।

কিশোরীর বাবা জানান, সোমবার বিকেলে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে বাড়ির পাশে এক ঘরে টিভি দেখতে যায়। পরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাবুল আকনের মেয়ে তামান্না আক্তার (১৮) নামের এক তরুণী তার মেয়েকে তাদের প্রতিবেশী নাসির মুন্সির ঘরে নিয়ে যায়। সেই ঘরে আটকে নাসির মুন্সি তার মেয়েকে ধর্ষণ করে।

সন্ধ্যার দিকে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় তিনি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি তদন্ত হাসনাইন পারভেজ জানান, এ ঘটনায় নাসির মুন্সী ও ধর্ষণ কাজে সাহায্যকারী তামান্নাকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তামান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইলিশ রক্ষায় একদিকে অভিযান, অন্যদিকে নিধন

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

সাগর উপকুলীয় এলাকাগুলোতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। একাধিক পন্থা অবলম্বন করে স্থানীয় নদ-নদীগুলোতে চলছে ইলিশ নিধনের মহাযজ্ঞ। ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মৎস্য সম্পদ রক্ষণ অভিযান। ১ অক্টোবর থেকে ইলিশ নিধন রোধে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। অবরোধের শুরু থেকে ১৫ দিনের মাথায় পটুয়াখালী জেলায় ২২০ অভিযানে ২৭ জেলেকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে জেলেদের পৃষ্ঠপোষকতা না করা, নৌপথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসিনতা এবং মৎস্য বিভাগের যথাযথ প্রচার-প্রচারণা না থাকার কারণে ইলিশ নিধনের কর্মযজ্ঞ চলমান বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্টরা।


পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২২০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্য মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে ১০২টি। জব্দ করা হয়েছে ৯০১ মেঃটঃ ইলিশ। জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬.৭৪ লক্ষ মিটার জাল, যার আনুমানিক মুল্য ১ কোটি টাকা বেশি। ৪৬ জেলের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৯২ জেলেকে এবং ২৭ জনকে জেল দেয়া হয়েছে।


এরমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৫টি অভিযান পরিচালনা করে ১৫টি মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলায় মোবাইল ৩৬টি অভিযানে ১০টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২ জনকে জেল, ৫ জনকে জরিমানা, করা হয়েছে। বাউফল উপজেলায় ১৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১০টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৮ জেলেকে কারাদন্ড এ ৫১ জেলেকে জরিমানা করা হয়েছে। গলাচিপা উপজেলায় ২৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২ জেলেকে কারাদণ্ড এবং ১০ জেলেকে জরিমানা করা হয়েছে। মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৯ অভিযান পরিচালনা করে ১৩টি মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। তবে এ উপজেলায় কোন জেল-জরিমানা করা হয়নি।


দশমিনা উপজেলায় ৩১টি অভিযান পরিচালনা করে ১৫টি মোবাইল কোর্ট করে ৬ জেলেকে জরিমানা এবং ৪ জেলেকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। দুমকী উপজেলায় ২০টি অভিযান চালিয়ে ১৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০ জেলেকে জরিমানা এবং ১ জেলেকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৩৩টি অভিযান পরিচালনা করে একটি মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু এই অবরোধ নিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য অফিসারে বিরুদ্ধে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ। ৩৩টি অভিযান হলেও হয়নি কোনো জেল-জরিমানা। স্ব-স্ব উপজেলার নির্বাহী অফিসার এ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নৌপথে ইলিশ নিধন অভিযান এবং মৎস্য বিভাগের নজরদারী থাকা সত্বেও বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ নিধনের কর্মযজ্ঞ। নদীর এক প্রান্তে অভিযান অপর প্রান্তে ইলিশ নিধন। ১৫ অক্টোবর দুপুরের দিকে বঙ্গোপসগার সংলগ্ন সোনাচর এলাকায় থেকে ইলিশ নিধনের একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। রাতের আধারে এবং নানা কৌশলে শিকার করা হচ্ছে ইলিশ। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র প্রকাশ করে, পটুয়াখালী জেলার ইলিশের অভয়ারন্য তেতুলিয়া, আগুনমূখা, পায়রা, দারছিরা, বুড়াগৌরঙ্গ, রামনাবাদসহ একাধিক নদীতে চলছে ইলিশ শিকার।


বিভিন্ন ডুবো চরগুলোতে সব সময়ই পাতা থাকে খুটা জাল। জালগুলো এমনভাবে পাতা হয় যা শেষ ভাটায়ও তলিয়ে থাকায় সহজে চোখে পরে না। অসাধু প্রভাবশালী জেলেদের একটা অপকৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাগর পারের একাধিক জেলেরা। ভাষান ও ধরা জাল পাতা হয় রাতের আধারে। মাছ ধরে দেশের কোথাও চালান না করে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে। সাময়িক সময়ের মাছগুলো লবণ দিয়ে মজুদ করে রাখা হচ্ছে। আগ থেকেই জেলেদের দাদন দিয়ে মাছ পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।


এছাড়াও সাগর উপকুলীয় একাধিক জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, “তারা ইলিশ না ধরলেও সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধ হয়নি। ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জল সীমানায় প্রবেশ করে ইলিশ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে এবং তা নানা কৌশলে নৌ পথেই কেনা-বেচা হচ্ছে। নৌ পথ থেকেই পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। নৌপথে দায়িতরত্ব আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী অনেক সময়ে কিংকর্তব্য বিমূখের ভূমিকায় থাকেন। জেলেরা আরো অভিযোগ করেন, অবরোধ চলাকালিন সময়ে অসাধু মৎস্য কর্মকর্তা ও নৌপথের আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা সাগর-নদীতে চলে ইলিশ নিধন। তারা অভিযানে বেড় হওয়া পূর্বেই অসাধু জেলেদের সংকেত দিয়ে সর্তক করে দেন। ফলে হরহামেসায় চলে ইলিশ নিধণের কাজ।


জেলেরা আরো জানান, টানা ২২ দিনের ইলিশ নিধন অবরোধে সরকার কর্তৃক জেলেদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে অবৈধভাবে সাগর-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ করা সম্ভব হতো। কারণ অনেক জেলেরা পরিবারের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে ইলিশ শিকার নেমে থাকেন। যে কারণে মৎস্য সম্পদ রক্ষণের এই মহাঅভিযান ভেস্তে যাওয়া সম্ভবনা অনেকটাই। সঠিক জেলেদের নির্নয় করে তাদের সাহায্য প্রদান করলে সরকারের মৎস্য সম্পদ রক্ষন অভিযান শত ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসার ড. মোঃ আবুল হাসানাত জানান, মৎস্য বিভাগ কর্তৃক নদ-নদী এবং সাগর উপকুলীয় এলাকাগুলো সঠিকভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রচারণা চালানো হয়নি এমন অভিযোগ ভৌতিক বলে দাবী করে তিনি বলেন অবরোধ উপলক্ষে জেলেদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫