ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

স্বাস্থ্য

যে দাঁত ফেলে দেয়াই ভালো

অধ্যাপক ডা: কে এ জলিল

১৭ অক্টোবর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:৫২


প্রিন্ট
যে দাঁত ফেলে দেয়াই ভালো

যে দাঁত ফেলে দেয়াই ভালো

মানুষের মাঢ়িতে দুই ধরনের দাঁত গজায়। শিশুর বয়স যখন পাঁচ থেকে ছয় মাস তখন থেকে দাঁত গজানো শুরু হয় এবং আড়াই বছর বয়সে শেষ হয়। এ দাঁতের সংখ্যা মোট ২০টি। এগুলোকে বলা হয় দুধ দাঁত। শিশুর ৬ বছর বয়স থেকে দুধ দাঁতগুলো আস্তে আস্তে পড়তে থাকে। এরপর ওই স্থানে পর্যায়ক্রমে দুধ দাঁতের পরিবর্তে নতুন স্থায়ী দাঁত গজাতে থাকে। এগুলোকে ভাতের দাঁত বা স্থায়ী দাঁত বলা হয়।

সাধারণত ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে নতুন দাঁত গজানো শেষ হয়। এর সংখ্যা মোট ৩২টি। এ দাঁতগুলোই স্থায়ী দাঁত। সচরাচর দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে মোট ৩২টি দাঁতের ২৮টি উঠে যায়। বাকি থাকে ৪টি দাঁত। এগুলো হচ্ছে- মাঢ়ির শেষ দাঁত। এগুলো উঠতে বেশ সময় লাগে। এই চারটি দাঁতকেই বলা হয় ‘আক্কেল দাঁত’।

অনেক সময় দেখা গেছে, এই আক্কেল দাঁত ৪টি বিনাব্যথায় এবং কষ্ট ছাড়াই মনের অজান্তে আস্তে আস্তে গজায়। আবার অনেক সময় ‘আক্কেল দাঁত’ উঠার সময় অনেক দিন লেগে যায়। আক্কেল দাঁত গজানোর সময় (বিশেষ করে নিচের মাঢ়ির আক্কেল দাঁত) প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলা এবং শরীরে জ্বর অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী হাঁ পর্যন্ত করতে পারে না। যার ফলে রোগীর খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি হলে বিলম্ব না করে একজন অভিজ্ঞ দন্ত বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীকে নিতে হবে। তিনি (ডাক্তার) পরীক্ষা করে রোগীকে ANTIBIOTIC এবং ANTI-INFLAMMATORY জাতীয় ওষুধ দেবেন। ফোলা এবং ব্যথা কমে গেলে X-RAY করে দেখতে হবে দাঁতে পজিশন কেমন আছে। দাঁতের পজিশন ঠিক থাকলে দাঁতের উপরি ভাগের মাংসটি ডাক্তার সাহেব কেটে দেবেন। এটাকে বলা হয় অপারেশন। এই অপারেশনের নাম হচ্ছে OPERCULECTOMY। যদি দাঁতের POSITION ঠিক না থাকে এবং রোগী ক’দিন পরপর কষ্ট পায় তা হলে ওই দাঁতটি ফেলে দেয়াই ভালো। তবে দাঁত ফেলতে হলে অবশ্যই দাঁতের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ফেলতে হবে। কারণ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে দাঁতের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ দাঁত দিয়ে শক্ত খাবার চিবিয়ে হজমের উপযোগী করা হয়। কাজেই দাঁত দিয়ে অবহেলা করা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়।

লক্ষণীয় বিষয় এই যে, আক্কেল দাঁত ফেলার সময় এবং ফেলার পর অনেক রকমের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্যই অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া এ দাঁত ফেলা ঠিক হবে না।
দাঁতে ব্যথা হওয়ার সময় দন্ত চিকিৎসক না পাওয়া গেলে নিম্নে উল্লিখিত উপদেশগুলো পালন করলে এবং উল্লিখিত ওষুধগুলো খেলে সাময়িক আরাম পাওয়া যাবে।

উপদেশ : গরম পানিতে লবণ দিয়ে দিনে কমপক্ষে তিনবার কুলি করে ক্ষতস্থানটিকে পরিষ্কার রাখতে হবে, খাদ্যকণা যেন ওখানে জমে থাকতে না পারে। দাঁত ওঠার সময় উপরের মাংসটা ছিদ্র করে আস্তে আস্তে (দাঁত) উপরের দিকে ওঠে এবং ওখানে একটি পকেট সৃষ্টি হয়। ছিদ্র দিয়ে খাদ্যকণা পকেটের ভেতরে গিয়ে পচে। যার ফলে Infection হয়। Infection হয় বলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়। এটাকে বলা হয় Pericoronitis. এই অবস্থায় রোগী একেবারেই খেতে চাইবে না। অথবা মুখ খুলতে না পারার জন্য খেতে পারবে না। কিন্তু রোগীকে এ সময় নরম এবং তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। তা না হলে রোগী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। আবার খালি পেটে ওষুধ খাওয়ালে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ওষুধ : Cap. Amoxicillin (250mg) ১টা করে দিনে তিনবার পাঁচ দিন। Tab. Paracetamol একটা করে তিনবার (ব্যথা না কমা পর্যন্ত)। Tab. Diclofenac Sodium (50 mg) একটা করে দিনে তিনবার তিন দিন (ভরা পেটে) Tab. Ranitidin (150 mg) একটা করে দিনে দুইবার পাঁচ দিন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫