ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি

আমেরিকা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে : ইরানের প্রেসিডেন্ট

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, তার দেশের পরমাণু সমঝোতার ক্ষতি করতে গিয়ে আমেরিকা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে। মার্কিন সরকারের এই অসহায় অবস্থা ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

হাসান রুহানি তেহরানে ইরানি আলেমদের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতে আরো বলেছেন, ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন এবং সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনায় পরমাণু সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।

এই সমঝোতার মাধ্যমে অর্জিত সফলতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া, ক্রমান্বয়ে বহির্বিশ্বের সাথে ব্যাংকিং লেনদেনের বাধাগুলো অপসারণ এবং ইরানে বিশ্বের বহু দেশের হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ- এসবই সম্ভব হয়েছে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

রাজনৈতিক দিক দিয়ে এই সমঝোতার ক্ষতি করতে গিয়ে আমেরিকা একা হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন রুহানি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এই সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী সবগুলো দেশ অভিন্ন কণ্ঠে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।

প্রেসিডেন্ট রুহানি ইসলাম ও প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে ইরানের দুটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ দুটিকে ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনী (রহ.)’র রেখে যাওয়া মূল্যবান অবদান বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন হিসেবে এদেশের সরকার গঠিত হয়েছে যেটি ইসলামি অনুশাসন বাস্তবায়নকে নিজের প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করেন।

ইরানের পাশে ইউরোপ
২০১৫ সালে ইরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি রক্ষার অঙ্গীকার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি প্রত্যয়ন না করার ঘোষণা দেয়ার পর গতকাল সোমবার ইইউ এই ঘোষণা দিয়েছে। তারা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে।

বৈদেশিক নীতিতে নিকটতম মিত্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কড়াভাবে সতর্ক করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স। তারা বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া প্রতিরোধের এই চুক্তির কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হলে ব্যাপকভাবে শান্তি বিঘ্নিত হবে।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে ইউরোপীয়রা উদ্বিগ্ন এবং এর ফলে ইরানের সাথে আমাদের আবার সামরিক সংঘাতে ফিরে যেতে হতে পারে।’

২০১৫ সালে চুক্তির সময় চূড়ান্ত পর্যায়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইইউ বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি। এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মোকাবেলা করার বিষয়ে ২৮ জাতির গোষ্ঠীটি কিভাবে এগিয়ে আসবে আলোচনা করেন এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়েও মন্ত্রীরা আলোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এরকম খারাপ চুক্তি আর কখনো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণবিক সংস্থার (আইএইএ) কাছে অভিযোগ করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে ফেডেরিকা মোঘেরিনি জোর দিয়ে বলেছেন এই চুক্তিতে কাজ হচ্ছে। তেমনি আইএইএ বলেছে, ইরান এই চুক্তি মেনে চলছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.