ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

স্ত্রীর ভয়ে যা করলেন বৃদ্ধ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ অক্টোবর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১১:১৪


প্রিন্ট
ম্যালকম অ্যাপলগেট

ম্যালকম অ্যাপলগেট

উত্তম স্ত্রী যার সমস্ত সুখ তার। স্ত্রীর প্রতি একে অপরের ভালোবাসা বোঝাপড়া জগৎকে আরো রঙিন করে তোলা যায়। তাইতো বিশ্ববিখ্যাত সম্রাট জাহাঙ্গীর তার স্ত্রীকে নিয়ে গড়েছেন ভুবনমোহন তাজমহল। ‘তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখেছ কি তার প্রাণ, ভেতরে তার মমতাজ নারী বাহিরেতে শাহজাহান।’ জগৎজুড়ে কত যে আজব ঘটনা ঘটে চলেছে তার কোনো অন্ত নেই। এমনই এক আশ্চর্য ঘটনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক নাগরিক।

তিনি এক বছর বা দুই বছর নয়, বউয়ের জ্বালা আর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পালিয়ে ১০ বছর জঙ্গলে কাটিয়েছেন!

স্বামী আর স্ত্রীর সম্পর্ক যদি ভালো হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু যদি খারাপ হয় তাহলে ওই সম্পর্কে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই থাকে না। কিন্তু তাই বলে স্ত্রীর কাছ থেকে পালিয়ে যেয়ে ১০ বছর জঙ্গলে কাটিয়ে দেয়া! এমনটা এর আগে হয়তো কেউ শোনেননি।

যুক্তরাজ্যের ওই ব্যক্তি বিয়ে করলেন। আর বিয়ের পরই তার জীবন নাকি তার স্ত্রী নাজেহাল করে ছাড়েন। ম্যালকম অ্যাপলগেট নামে ওই ব্যক্তি বউয়ের জ্বালায় শেষ পর্যন্ত জঙ্গলে পালিয়ে যান কাউকে কিছু না বলে। আর সেখানেই কাটিয়ে দেন পুরো ১০টি বছর।

ম্যালকমের বয়স এখন ৬২। তিনি পেশায় একজন মালি। সম্প্রতি তিনি তার জীবনের কাহিনীটি লন্ডনের ইমাউজ গ্রিনউইচ নামে এক সংস্থাকে জানিয়েছেন। এই সংস্থার কাজ, যারা বাস্তুহীন তাদের সংস্থাটি আশ্রয় দিয়ে থাকে।

১০ বছর ধরে ম্যালকমকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যারা ধরেই নিয়েছিল তিনি আর এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু হঠাৎ ১০ বছর পরে ম্যালকম তার বোনকে ফোন করে বসেন। আর বোন ফোন পেয়ে বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে তার ভাইয়ের সাথে এত বছর পর সে কথা বলতে পারছে।

ম্যালকম জানান, বিয়ের পর তার স্ত্রী চাইতেন না সে বাসার বাইরে থাকুক। বেশি কাজ করলেও তার স্ত্রী রেগে যেত। আর তার আমার ওপর প্রভাব দিন দিন বেড়েই চলছিল। ইন্টারনেট।

বিয়ে টিকছে না বংশগত কারণে!
কথায় মিলছে না। দুইয়ে দুইয়ে চারও হচ্ছে না। কথায় কথায় ঝগড়া। একসময় একে অপরের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। দম্পতি সিদ্ধান্ত নেয় বিচ্ছেদের।

সামাজিক কারণেই বিয়ে টেকে না মানুষের। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে অন্য কথা। বিয়ে না টেকার পেছনে আছে জিনগত সমস্যা!

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া বেশির ভাগ বাবা-মায়ের সন্তানরাও একই পথে হাঁটে। সুইডেনের লুনড বিশ্ববিদ্যালয় ও ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া যায়।

বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া মানুষ নিয়ে গবেষণা করছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়। এসব দম্পতির ইতিহাস পর্যালোচনা করেছে গবেষণায়। দেখা গেছে, যেসব পুরুষ বা নারীর বাবা ও মায়ের বিচ্ছেদ হয়েছে, তাদের মধ্যেই বিচ্ছেদের প্রবণতা বেশি।

গবেষকদের একজন ড. জেসিকা সালভাতর বলেন, ‘আমরা মৌলিক প্রশ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। সেটা হচ্ছে কেন পরিবারে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে?’

গবেষকেরা জানান, ওই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দম্পতির পরিবারের ইতিহাস দেখা হয়েছে। কেননা এর ওপর ভিত্তি করে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। যেন তারা ওই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

তবে তা যদি জিনগত সমস্যা হয়ে থাকে তবে পরামর্শের মতো বিষয়গুলো কাজ নাও করতে পারে। সালভাতরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন ড. কেনেথ কেন্ডলার। তিনি গবেষণার প্রাপ্তিকে বলছেন ‘গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার’ হিসেবে। ইন্টারনেট।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫