ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

রাজশাহী

১৭ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি ঈশ্বরদীর বায়তুশ শরফ মাদরাসা

ঈশ্বরদী সংবাদদাতা

১৬ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৮:৫১


প্রিন্ট
১৭ বছরেও এমপিও  ভুক্ত হয়নি ঈশ্বরদীর বায়তুশ শরফ মাদরাসা

১৭ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি ঈশ্বরদীর বায়তুশ শরফ মাদরাসা

ঈশ্বরদী বায়তুশ শরফ দাখিল মাদরাসা ১৭ বছরেও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষক কর্মচারীরা। র্দীঘদিন বেতন না হওয়ায় মাদরাসার সুপার মাওলানা মাহবুবুর রহমান অভিমান করে বলেন, তিন তলা (বহুতলা) ভবন আর ছাত্র-ছাত্রীরাই আমাদের জীবনের কাল হয়ে দাড়িয়েছে। কেন যে, শিক্ষকতা করতে এসেছিলাম? যার কারণে এই জায়গা ছেড়ে যেতে পারছি না। বার বার মাদরাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও মাদরাসার ভবিষৎ আর ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের কথা ভেবে নিজের জীবনের কথা ভুলে আর যাওয়া হয় না। কিন্তু আর কতদিন এভাবে চলতে হবে সেটা ভাবতেই দম বন্ধের উপক্রম হয়।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার রেজওয়ান নগরে (ভেলুপাড়া) এক মনোরম পরিবেশে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ মাদরাসাটি। যা শহরের একমাত্র দাখিল মাদরাসা। সুপার সাহেব জানান, এলাকাবাসি দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ঐ এলাকার বাসিন্দা ঢাকা অবস্থানরত ইসলাম দরদী আলহাজ্ব এ কে এম সায়কাতুল ইসলাম কে জানালে তিনি তার পৈত্রিক জমিতে প্রথমে মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করে দেন। পরে মক্তবকে দাখিল মাদরাসা সিদ্ধান্ত করে সরকারী বিধি মোতাবেক একটি কমিটি করে দিলে পর্যায়ক্রমে মাদরাসা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ি দাখিল খোলার অনুমতি ও স্বীকৃতি পায় মাদরাসাটি। মাদরাসার বর্তমান কর্মরত শিক্ষদের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় পাবলিক পরিক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক হওয়াতে তিনি নিজস্থ অর্থায়নে শিক্ষার সুন্দর গড়ে তোলার জন্য ভূর্গভে ও উপরে মিলনায়াতন, লাইবেরী, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক সেনিটেশন ও কমন রুমসহ মোট তিন তলা ভবন করে দেন।

প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এ কে এম সায়কাতুল ইসলাম তার সর্বপ্রকার সহযোগিতা আর শিক্ষদের সঠিক পাঠদানে ছাত্রদের ভালো ফলাফল দেখা গেলেও কালের আবর্তে এসে মুখ থুবরে পড়ার উপক্রম হয়েছে মাদরাসাটি। সুপার আরো জানান, সরকারী সকল শর্ত মনে ২০০৩ সালে পাঠ দান আর ২০০৫ সালে স্বীকৃতি লাভ করে সফলতার সাথে অদ্যবধি বিনা বেতনে পাঠ দান করে আসছে দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষকাগণ। আমাদের অবকাঠামো শিক্ষক-কর্মচারী ছাত্র-ছাত্রী সব কিছুই সন্তোষজনক; কিন্তু এমপিও না হওয়ায় আমরা খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছি। বিগত জোট সরকারের বিদায়ের পর ভেবেছিলাম এবার এমপিও ভূক্ত হবো কিন্তু বর্তমান সরকারের দু’টি শাসন আমল শেষ হতে চললেও আমাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না। তিনি বলেন একদিকে সরকারী শর্ত পূরণ করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে, অন্যদিকে সংসার চালাতে বেকায়দায় পড়ছি। প্রতিদিন আমার শিক্ষকদের কারো না কারো দুঃখের গল্প শুনতে হয়।

মাদরাসা সহসুপার মাওলানা ফজলুল হক জানান, আমাদের কে দিনের বেশির ভাগ সময় মাদরাসায় পাঠ দানে ব্যয় করতে হচ্ছে, অথচ ১৫/১৬ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছি। আমরা সকলেই পরিবারের প্রধান তাই উপার্জনের দায় ভার আমাদের উপর এজন্য কষ্টটা আরো বেশি তিনি জানান, মাদরাসা বোর্ড থেকে কামিল (এম.এ) পাস করে অনেক আশা করে শিক্ষকতা করতে এসেছিলাম একটি মহান পেশা হিসাবে। কিন্তু আমাদের মত শিক্ষকরা সমাজের সবচেয়ে বিপদগ্রস্থ।

অপর শিক্ষক এনামুল হক রফি জানান, মাদরাসার তিন তলা ভবনে উঠতে আর ভালো লাগে না, আর কতদিন এভাবে চলবো। না পারছি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের চাহিদা পূরণ করতে, না পারছি সংসারের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে, কবে এমপিও হবে তা জানি না।

সুপার মাওলানা মাহবুবুর রহমান জানান, আমাদের খেলার মাঠ, পাঠাগার ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক সেনিটেশন, কমনরুম এবং শ্রেণিকক্ষ যা আছে; আমরা শুধু দাখিল মাদরাসা নয়, ফাজিল মাদরাসা পরিচালনা করতে সক্ষম। কিন্তু মাদরাসা এমপিও না হলে বিশাল তিন তলা ভবন, আসবাব পত্র অযত্নে-অব্যবহারে একদিন নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমি যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন করছি সম্ভাবনাময় এই মাদরাসাটি এমপিওভূক্ত করে দেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষার অফিসার সেলিম আক্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদরাসাটির সব কিছুই সন্তষজনক রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তাবনা উপরে পাঠিয়েছি, আর এমপিও বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

মাদরাসার পরিচালনার সদস্য আবু সাঈদ বিশ্বাস জানান, আমরা মাননীয় ভূমি মন্ত্রী শামসুল রহমান শরীফ মহোদয়ের নিকট গিয়েছিলাম। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সরকার কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করলে মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত করা হবে। এছাড়া মাদরাসার বহুতল ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও তিনি মাদরাসা এমপিও ভুক্ত করার আশ্বাস দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫