অধরের কথা

ফাহমিদা জাবীন

ঠোঁট ফাটা খুব সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে শীতে অনেককেই এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। সঠিক পরিচর্যা করলে এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন নয়। কিভাবে ঠোঁটের যতœ নেবেন, জানুন সে বিষয়ে।

ঠোঁট ভেজাবেন না : শুষ্ক হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজান। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্য দিলেও এর থেকে ঠোঁটে বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ঠোঁট থেকে আর্দ্রতা দ্রুত চলে যায়। ফলে ঠোঁট আরো শুকনো হয়ে ওঠে।

লিপবাম ব্যবহার করুন : লিপবাম ঠোঁটের ত্বকের ওপর এক ধরনের প্রতিরক্ষা তৈরি করে, যা ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন।

সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করুন : সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাবে ত্বকের মতো ঠোঁটেরও ক্ষতি হয়। তাই সূর্যের আলো থেকে ঠোঁট রক্ষা করুন। এ জন্য সানস্ক্রিনসমৃদ্ধ লিপজেল বা লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন।

লিপস্টিক ব্যবহার করুন : লিপস্টিক শুধু সাজের উপকরণ হিসেবে নয়, ঠোঁটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। শুধু সূর্যের আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য নয়, ঠোঁট আর্দ্র রাখতেও ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে লিপস্টিক।

টুথপেস্টের বিষয়ে সতর্ক হোন : আপনার টুথপেস্ট বা মাউথওয়াশ থেকে যদি অ্যালার্জি হওয়ার ভয় থাকে তাহলে প্রথমেই আক্রান্ত হবে আপনার ঠোঁট। তাই টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করার সময় লক্ষ রাখুন এ থেকে আপনার কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।

খাবারের বিষয়ে সতর্ক হোন : ঠোঁটের ত্বক খুবই সেনসেটিভ হয়। তাই খাবারে সমস্যা থাকলে তার থেকে সহজেই ঠোঁটে সমস্যা হতে পারে। মরিচ, মাস্টার্ড, বারবি কিউ সস, অরেঞ্জ জুস প্রভৃতি খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।

মধু : ঠোঁট আর্দ্র রাখতে মধুর বিকল্প নেই। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠোঁটে মধু মেখে নিন। এতে আপনার ঠোঁট পরিষ্কার হবে। ঠোঁটে কোনো ধরনের দাগ থাকলে সেটি তুলতেও মধু ভালো কাজ করে।

ঘি : মধুর মতোই কাজ করে ঘি। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোঁটা ঘি নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। মসৃণ নরম ঠোঁট পেতে ঘি অনন্য।

গ্রিন টি ব্যাগ : উপকরণটি বহুকাল আগে থেকেই ঠোঁটের পরিচর্যায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই এটি ব্যবহার করেন। ব্যবহারের পর টি ব্যাগটি পাঁচ মিনিট আপনার ঠোঁটের ওপর রাখুন। তারপর সরিয়ে নিন। ঠোঁট সুন্দর রাখতে প্রতিদিন এটি ব্যবহার করতে হবে। যাদের ঠোঁটে ফেটে যায় তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

 

লেবুর রস : সেনসেটিভ স্কিনে পুষ্টি জুগিয়ে ত্বককে সজীব করে তোলে লেবুর রস। এক চা চামচ দুধের মধ্যে ১০ ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে নেবেন। সবচেয়ে ভালো হবে যদি সারা রাত লাগিয়ে রাখেন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যবহার করুন।

গ্লিসারিন ও গোলাপজল : ত্বকের মতো ঠোঁটের সুরক্ষায়ও গ্লিসারিন ও গোলাপজল চমৎকার উপকরণ। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক যেমন উজ্জ্বল পেলব হয়ে ওঠে, একইভাবে ঠোঁটও হয়ে ওঠে নরম, চকচকে। সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে বোতলে ভরে রাখুন। প্রতিদিন কয়েকবার ব্যবহার করুন।

জোজোবা অয়েল : ঠোঁট ফাটার প্রবণতা রুখতে জোজোবা অয়েল খুবই কার্যকর। কয়েক ফোঁটা জোজোবা অয়েল ঠোঁটে মেখে রেখে দিন ১৫ মিনিট। এরপর তুলোর সাহায্যে তুলে নিতে পারেন। এটি ঠোঁটের ফাটা সারাতে দ্রুত কাজ করে। ঠোঁটে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে ও পুষ্টি জোগায়। নতুন কোষ সৃষ্টি করতেও সাহায্য করে।

শসা : শসা কুরিয়ে এর রস বের করে নিন। এই রস ঠোঁটে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.