ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

কর্পোরেট দিগন্ত

১৩০ বছরেও কাক্সিক্ষত গতি পায়নি চট্টগ্রাম বন্দর

আবু সাহাফ মাহমুদ

১৬ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ২৩:৩৯


প্রিন্ট

বলতে গেলে দেশের একমাত্র সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। দেশের মোট আমদানি-রফতানির ৯৭ শতাংশই সম্পন্ন হয় এ বন্দর দিয়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ১৩০ বছরেও কাক্সিক্ষত গতি পায়নি চট্টগ্রাম বন্দর। দীর্ঘ এ সময়ে একাধিক দেশভাগ এবং অসংখ্য সরকার পরিবর্তন হলেও বন্দরের ভাগ্যের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। উন্নত যন্ত্রপাতির অভাবে অনৈকটা খুঁড়িয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। ফলে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৮ টিইইউএস। ২০১৬ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭১ টিইইউএস। অর্থাৎ বছরের প্রথম ৯ মাসে কনটেইনার ওঠানামা বেড়েছে মাত্র এক লাখ ৪৪ হাজার ২০৭টি। শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ। অথচ ২০১৬ সালেও প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ টিইইউএস কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ টিইইউএস।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গত প্রায় ১০ বছরেও চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কোনো অবকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে বহির্নোঙরে ব্যাপক জাহাজজট, জেটিতে কনটেইনার জাহাজজট, ইয়ার্ডে উপচেপড়া কনটেইনার ও যন্ত্রপাতির স্বল্পতা নিয়ে প্রতিনিয়ত বন্দর ব্যবহারকারীদের তোপের মুখে পড়ছে কর্তৃপক্ষ। কনটেইনার ওঠানামায় কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হওয়ার পেছনে মূলত এসব সঙ্কটকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, অগ্রাধিকার বিবেচনায় সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি না করাতেই আজ বন্দরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেটি, ইয়ার্ড, যন্ত্রপাতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে সঙ্কট। যার ফলে বন্দর কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল স্থাপনায় বর্তমানে জেটি রয়েছে ১৯টি। এর মধ্যে বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো ও নামানোর জন্য মাত্র ১৩টি জেটি রয়েছে। বাকি ছয়টি জেটি কনটেইনারবিহীন জাহাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। জেটি ও ইয়ার্ডে বর্তমানে মোট চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। ২০০৭ সালে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালুর পর এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো টার্মিনাল নির্মিত হয়নি। ব্যবহার বৃদ্ধির ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে তিন বছর পরপর একটি জেটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও গত ১০ বছরে কোনো নতুন জেটি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে একেকটি কন্টেইনারকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্দরে আটকে থাকতে হয়। মালিকদের গুনতে হয় উল্টো মোটা অঙ্কের জরিমানা।
নিজেদের অক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত থাকলেও বরাদ্দ না থাকায় এত দিন কিছুই করা যায়নি বলে বন্দর কর্তৃপক্ষও হতাশ। তবে সামনে এ বন্দরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো: ওমর ফারুক এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে বলেন, অথচ সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের ৯৭ শতাংশই আনা-নেয়া করা হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। বাকি ৩ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন হয় মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে। সঙ্কট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগ্রসর হলে ২০২১ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের প্রথম সারির বন্দরে রূপান্তরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫