ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ট্রাম্প এবার পর্নো পত্রিকায়, তথ্য দিলেই কোটি ডলার

বিবিসি

১৫ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৫:১৯ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৫:৪০


প্রিন্ট
ট্রাম্প এবার পর্নো পত্রিকা, পুরস্কার কোটি ডলার

ট্রাম্প এবার পর্নো পত্রিকা, পুরস্কার কোটি ডলার

যারা ওয়াশিংটন পোষ্ট পড়েন না আজ তাদের অনেকেই সেটি নেড়েচেড়ে দেখছেন। বিজ্ঞাপনটিতে কোনো ছবি নেই। আছে বড় বড় অক্ষরে লেখা কিছু বার্তা।

বিজ্ঞাপনদাতা মাসিক পর্নোগ্রাফি ম্যাগাজিন হাসলারের প্রকাশক ল্যারি ফ্লিন্ট।
তিনি বলেছেন, দেরি হওয়ার আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানো দরকার। আর তা করা সকল মার্কিন নাগরিকের দায়িত্ব। এর আগেও তিনি এমন বিজ্ঞাপন ছেপেছেন।
কিন্তু এবারের বিজ্ঞাপনটি ব্যতিক্রমধর্মী এই কারণে যে তাতে তিনি বিশাল অর্থের পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।

বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেউ যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে নোংরা কোনো তথ্য দিতে পারেন তাহলে তাকে এক কোটি ডলার পুরস্কার দেয়া হবে।
সে এমন তথ্য হতে হবে যা প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অভিশংসনের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথেষ্ট হবে। সেখানেই ক্ষান্ত হননি ল্যারি ফ্লিন্ট।
বিজ্ঞাপনে এমন তথ্য দেয়ার জন্য একটি হটলাইন ফোন নাম্বার এবং ইমেইল অ্যাড্রেসও দিয়েছেন তিনি।
ল্যারি ফ্লিন্ট সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনের অপর প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক।

বিজ্ঞাপনটিতে পাতাজুড়ে বলার চেষ্টা করা হয়েছে কী কারণে ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করা উচিত।
কয়েকটি কারণেরর মধ্যে রয়েছে বিদেশি শক্তির সাথে হাত মেলানো, বর্ণবাদী গোষ্ঠীদের উস্কানি দিয়ে সংঘাতের সৃষ্টি করা, মিথ্যে কথা বলা, স্বজনপ্রীতি করা ইত্যাদি কয়েকটি অভিযোগ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, চূড়ান্তভাবে এ চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাবেন তিনি। বিশ্বের সব দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মতামতকে উপেক্ষা করেই ট্রাম্প একতরফাভাবে এ ঘোষণা দিলেন।

পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি ট্রাম্পের

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হোয়াইট হাউজ থেকে শুক্রবার দেয়া এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ কথা বলতে পছন্দ করবেন না যে, ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ইরান। ট্রাম্পের এ বক্তব্য মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ইরানের সাথে অনেক বেশি সঙ্ঘাতপূর্ণ অবস্থান নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।


ট্রাম্প তার বক্তৃতায় বলেছেন, তার লক্ষ্য হচ্ছে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, “আমরা এমন পথে হাঁটা অব্যাহত রাখব না, যে পথের সম্ভাব্য পরিণতি হচ্ছে আরো বেশি সহিংসতা, আরো বেশি সন্ত্রাস এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করবে।”


আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ যখন বার বার বলছে এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনেও প্রতিষ্ঠানটি ইরানের পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার কথা বলেছ তখন ট্রাম্প এ বক্তব্য দিলেন।
মার্কিন আইন অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতি ৯০ দিন পর পর মার্কিন কংগ্রেসকে জানাতে হয়, ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে কিনা। যদি ট্রাম্প বলেন, ইরান এ সমঝোতা মেনে চলছে না তাহলে আন্তর্জাতিক এ সমঝোতা থেকে আমেরিকার বের হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়ে যাবে।


শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প যদিও সরাসরি এ সমঝোতা থেকে তার দেশকে প্রত্যাহার করে নেননি তবে তিনি ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা তা বিবেচনা করার জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে দুই মাস সময় দিয়েছেন। ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা অনুসারে ইরানের ওপর থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল।
বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।


ট্রাম্প তার ভাষায় অভিযোগ করেন, আইআরজিসি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে এবং এ কারণে এর সাথে জড়িত কর্মকর্তা, এজেন্ট ও অন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুমতি দেয়া হয়েছে।


হুমকি দিয়ে ইরানের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না : জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ফাঁপা বুলি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “মিথ্যা অভিযোগ, হুমকি ও কটুক্তি করে কখনোই ইরানি জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না।”
তিনি শুক্রবার রাতে ট্রাম্পের ইরান বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, একথা সবার জানা যে, ট্রাম্পের বন্ধুত্ব শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা তার পণ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে রাজি হয়।


মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেন, ট্রাম্পও তার পূর্বসুরিদের মতো একদিন উপলব্ধি করবেন যে, হুমকি, মিথ্যা অভিযোগ ও কটুক্তি করে ইরানি জাতিকে আপোষ করতে বাধ্য করা যায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে তার পূর্ব পরিকল্পিত ইরান বিদ্বেষী বক্তব্য রাখেন। তিনি ইরানকে পরমাণু সমঝোতার ‘চেতনা’ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে দাবি করেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ চুক্তি এবং তিনি যখনই প্রয়োজন মনে করবেন তখনই এটি বাতিল করে দেবেন। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫