ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

হকি

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কাল

বাসস

১৪ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১৮:৫১


প্রিন্ট
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কাল

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কাল

এশিয়া কাপ হকিতে আগামীকাল মাঠে নামছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত ও পাকিস্তান। এশিয়া কাপ দিয়ে দেশের হকিতে জাগরণ তোলার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। কিন্তু নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে। শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিমিদের হারের ব্যবধান সমান ৭-০ গোলের।

বাংলাদেশকে নিয়ে এশিয়া কাপে আর কোনো স্বপ্ন অবশিষ্ট নেই আসলে কারো। যদিও এই দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় প্রত্যাশিত ছিল না। চাওয়া ছিল লড়াইয়ের। আর সেখানে যখন বাজেভাবে ব্যর্থ স্বাগতিকরা, তখন বাংলাদেশে এশিয়া কাপটা রোমাঞ্চের স্রোতে ভাসিয়ে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত ও পাকিস্তানের। আগামীকাল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুখোমুখি হবে প্রতিবেশি দেশ দুটি।

১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল ভারত ও পাকিস্তান। সে ম্যাচ এখনো রূপকথার গল্পের মতো ছবি হয়ে আছে ঢাকার হকির পুরোনো দর্শকদের মনে। সেদিন ভারত-পাকিস্তানের ১০০ মিনিটের ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়া কাপের পর্দা নেমেছিল ঠিক। আসলে একই সঙ্গে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল হকির জোয়ার। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সেই ম্যাচ। এই পাকিস্তান গোল করে তো এই ভারত। প্রথমে গোল করে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৭০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ভারত গোল পরিশোধ করে। অতিরিক্ত সময়ে প্রথম গোল করে পাকিস্তান। সেই গোল হজমের চার মিনিট পরই তা পরিশোধ করে ভারত। খেলা শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ৩-২ গোল জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

সেই ম্যাচের স্মৃতি বুকে নিয়েই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সাক্ষি হওয়ার অপেক্ষায় জিরো পয়েন্টের ঐতিহ্যের ভাসানী স্টেডিয়াম। এশিয়ার হকির সবচেয়ে বড় দুই পরাশক্তির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ভারতকে এগিয়ে রাখছে বেশ। দু’দলের র‌্যাঙ্কিংয়েও ব্যবধান অবশ্য বেশ। ভারত যেখানে ছয় নম্বরে, পাকিস্তান সেখানে ১৪। জুনে ওয়ার্ল্ড হকি লিগের সেমি ফাইনাল রাউন্ডে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ভারত সেখানে জয় পায় যথাক্রমে ৭-১ ও ৬-১ গোলে। দশম এশিয়া কাপেও দুটি করে ম্যাচ শেষে এগিয়ে ভারতই। ‘এ’ গ্রুপে ভারত নিজেদের প্রথম ম্যাচে যে জাপানকে হারিয়েছে ৫-১ গোলে, সেই দলের সঙ্গে পাকিস্তান ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই দলের জয়ের ব্যবধান অবশ্য সমান ৭-০।

তবে ঢাকায় পাকিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়ার উপায় নেই ভারতেরও। দলটির অধিনায়ক মানপ্রিত সিং বরং শ্রদ্ধা করছেন, লন্ডনে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা জিতেছি ঠিক। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপট আর বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ঐ সময় পাকিস্তানের ম্যানেজমেন্ট আর এখন ম্যানেজমেন্ট এক নয়। সেই দলের থেকে এই দলের খেলোয়াড়ও পরিবর্তন হয়েছে অনেক। এই দলে অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় রয়েছে।

আমরাও জানি, সমর্থকদের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা ও প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু আমরা নিজেদের খেলার স্টাইলের উপরই মনোযোগ রাখছি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপ ও ২০১০ সালের এসএ গেমসে ঢাকায় ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান।

ভারতীয় অধিনায়ক মানপ্রিত আজ ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলে গেলেন সেইসব হারের প্রতিশোধের কথা তাদের মাথায় নেই। তারা ভালো খেলাই উপহার দিতে চান। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বা র‌্যাঙ্কিং, সবকিছু পাকিস্তানকে পিছিয়ে রাখবে ঠিক। তবে এশিয়া কাপের ইতিহাস কিন্তু কথা বলে পাকিস্তানের পক্ষে। এশিয়া কাপে দুই দল এ পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ছয় ম্যাচে। যেখানে মাত্র একটিতে জয় ভারতের। পাকিস্তান জিতেছে পাঁচবার। সব মিলিয়ে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়েও বেশ এগিয়ে পাকিস্তান।

এ পর্যন্ত ১৬৯ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। যেখানে পাকিস্তানের জয় ৮২ ম্যাচে। ভারত জিতেছে ৫৭টি। এশিয়া কাপে শিরোপার দিক দিয়েও এগিয়ে পাকিস্তান। পাকিস্তান শিরোপা জিতেছে তিন বার, ভারত দুই বার। সর্বোচ্চ চারবারের চ্যাম্পিয়ন অবশ্য কোরিয়া। এসব কারণেই বুঝি পাকিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ ইরফান ভারত ম্যাচ নিয়ে আলাদা চাপ নিতে চান না, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা চাপ অনুভব করছি না। ভারতের বিপক্ষে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি। সুপার ফোরে যাওয়ার জন্য কালকের ম্যাচটি আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের বিপক্ষে জয় পেতেই হবে। আমরা ভারতের কাছে হারলে ও জাপান (বাংলাদেশের বিপক্ষে) জিতলে আমরা সমস্যায় পড়ব। বিষয়টি নিয়ে সকল খেলোয়াড়ই সচেতন আছে। ভারত নিঃসন্দেহে ভালো দল। স্কিল, ফিটনেস অনেক কিছুতেই তারা দুর্দান্ত। তাদের বিদেশি কোচ রয়েছে। এশিয়ান কোচের চেয়ে ইউরোপিয়ান কোচের মানগত পার্থক্য রয়েছে। তারা এদিক থেকেও এগিয়ে। এর পরেও বিশ্বাস করছি আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারব। এবং সুপার ফোরে খেলব।
ফল যেটিই হোক একটা উত্তেজনার ম্যাচ চায় সবাই। একই সঙ্গে এশিয়া কাপটার উত্তেজনার রেণু উড়ুক ঢাকার আকাশে, সেটিই চাওয়া হকিপ্রেমীদের।


জাপানের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ
এশিয়া কাপ হকির গ্রুপ পর্বে জাপানের বিপক্ষে জিতে টানা দুই বড় হারের ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে চায় বাংলাদেশ। কোচ মাহবুব হারুন জানিয়েছেন তিন পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য তাদের। ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলামও জানালেন, প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানকে হারানোর আত্মবিশ্বাস তাদেরকে জোগাচ্ছে বাড়তি অনুপ্রেরণা। মাওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে কাল মুখোমুখি হবে দুই দল।

পাকিস্তানের কাছে ৭-০ গোলে হারের পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও ভারতের কাছে একই ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারা জাপান দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ২-২ ড্র করে। তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের পয়েন্ট এক। বাংলাদেশ এখনও কোনো পয়েন্ট পায়নি। হারুন জানালেন জাপানকে হারানোই তার লক্ষ্য। আগের দুই ম্যাচের মতো যদি আমরা মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকি, তাহলে তো সম্ভব না। তারপরও আমি আশাবাদী। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলব, আর যে কয়েক ঘণ্টা হাতে আছে, তাদের সঙ্গে আলাপ করব। ভিডিও দেখব। এ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। আমরা তিন পয়েন্টের জন্যই নামব-বাকিটা যা হয়। চোট সমস্যার কারণে সেরা একাদশ সাজানো নিয়ে অবশ্য দুর্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। হারুন জানালেন, ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন।

মাঝ মাঠের সমস্যাও দল কাটিয়ে উঠবে বলে আশাবাদী কোচ। পিন্টু-খোরশেদ-জিমির চোট আছে। আজ তিনজন অনুশীলন করেনি। দেখি ফিজিও তাদের নিয়ে কি বলে। পিন্টু পায়ের গোঁড়ালিতে ব্যাথা পেয়েছে। জিমিরও একই সমস্যা। খোরশেদের ওপর কালকের ম্যাচে চাপ গেছে। তবে সে খেলতে পারবে। এশিয়া কাপে খেলা আট দলের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাস্তবতা মেনে হারুনও জানালেন, গ্রুপ পর্ব নয়, অবস্থান নির্ধারণী ম্যাচের ফলের দিকে মনোযোগ বেশি তার। দেখুন আমরা শুরু থেকে বলে আসছি-এই টুর্নামেন্টে আমরা আট নম্বর দল। গ্রুপ পর্ব নিয়ে আমরা ভাবছি না। এরপর যে পজিশন ম্যাচ-আমাদের ভাবনা সেগুলো নিয়ে। সেগুলোর দিকে যদি আমরা দৃষ্টি দিতে পারি, ভালো খেলতে পারি, তাহলে ফল ভালো হবে। ওখানে যদি আমরা খারাপ করি, তাহলে আপনারা বলতে পারেন, আমরা খারাপ করেছি।

ডিফেন্ডার আশরাফুল ইসলামও জানালেন ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা নিয়ে খেলতে নামবেন তারা। প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারানোর আত্মবিশ্বাস এ ম্যাচে কাজে লাগাতে চান তিনি। জাপানের বিপক্ষে আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে ভালো খেলা। ভালো ফল পাওয়ারও আশা থাকবে। যদি আমরা আমাদের ভালো খেলাটা খেলতে পারি, ইনশাল্লাহ আমরা ইতিবাচক ফল পাব। প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানের বিপক্ষের জয়টা এ ম্যাচে আমাদের মানসিকভাবে সমর্থন দেবে। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, ওই ভুলগুলো শুধরানোর চেষ্টা করব। পেনাল্টি কর্নার আসলে আমাদের শক্তির জায়গা। আশা করি, জাপানের বিপক্ষে আমরা পেনাল্টি কর্নার পাব।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫