ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি ট্রাম্পের

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১১:৪৭ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১১:৫৩


প্রিন্ট
হোয়াইট হাউজে বক্তৃতা দিচ্ছেন ট্রাম্প

হোয়াইট হাউজে বক্তৃতা দিচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, চূড়ান্তভাবে এ চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাবেন তিনি। বিশ্বের সব দেশ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মতামতকে উপেক্ষা করেই ট্রাম্প একতরফাভাবে এ ঘোষণা দিলেন।

হোয়াইট হাউজ থেকে শুক্রবার দেয়া এক বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি এ কথা বলতে পছন্দ করবেন না যে, ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ইরান। ট্রাম্পের এ বক্তব্য মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ইরানের সাথে অনেক বেশি সঙ্ঘাতপূর্ণ অবস্থান নিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প তার বক্তৃতায় বলেছেন, তার লক্ষ্য হচ্ছে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, “আমরা এমন পথে হাঁটা অব্যাহত রাখব না, যে পথের সম্ভাব্য পরিণতি হচ্ছে আরো বেশি সহিংসতা, আরো বেশি সন্ত্রাস এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করবে।”

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ যখন বার বার বলছে এবং সর্বশেষ প্রতিবেদনেও প্রতিষ্ঠানটি ইরানের পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার কথা বলেছ তখন ট্রাম্প এ বক্তব্য দিলেন।

মার্কিন আইন অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রতি ৯০ দিন পর পর মার্কিন কংগ্রেসকে জানাতে হয়, ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে কিনা। যদি ট্রাম্প বলেন, ইরান এ সমঝোতা মেনে চলছে না তাহলে আন্তর্জাতিক এ সমঝোতা থেকে আমেরিকার বের হয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হয়ে যাবে।

শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প যদিও সরাসরি এ সমঝোতা থেকে তার দেশকে প্রত্যাহার করে নেননি তবে তিনি ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে কিনা তা বিবেচনা করার জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে দুই মাস সময় দিয়েছেন। ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা অনুসারে ইরানের ওপর থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিল।

বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প তার ভাষায় অভিযোগ করেন, আইআরজিসি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করছে এবং এ কারণে এর সাথে জড়িত কর্মকর্তা, এজেন্ট ও অন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

হুমকি দিয়ে ইরানের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না : জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ফাঁপা বুলি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, “মিথ্যা অভিযোগ, হুমকি ও কটুক্তি করে কখনোই ইরানি জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না।”

তিনি শুক্রবার রাতে ট্রাম্পের ইরান বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, একথা সবার জানা যে, ট্রাম্পের বন্ধুত্ব শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা তার পণ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে রাজি হয়।

মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেন, ট্রাম্পও তার পূর্বসুরিদের মতো একদিন উপলব্ধি করবেন যে, হুমকি, মিথ্যা অভিযোগ ও কটুক্তি করে ইরানি জাতিকে আপোষ করতে বাধ্য করা যায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে তার পূর্ব পরিকল্পিত ইরান বিদ্বেষী বক্তব্য রাখেন। তিনি ইরানকে পরমাণু সমঝোতার ‘চেতনা’ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে দাবি করেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে খারাপ চুক্তি এবং তিনি যখনই প্রয়োজন মনে করবেন তখনই এটি বাতিল করে দেবেন। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫