ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রিয়জন

প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

১৪ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মিসির হাছনাইন
হলুদ বিকালের মাঠে

অল্প ভাঙ্গা জীবনের হলুদ বিকালের মাঠে
শুয়ে আছে খুব নীরবে নষ্ট হওয়া হৃদয়
আকাশের নীল রঙে নেমে আসা মেয়ে;
যার চোখে চোখ রাখতেই চলে গেছি---
প্রেয়সী দুপুর হয়ে হলুদ বিকালের মাঠে।
ডাকাতিয়া মন আমার ঘুরেফিরে, হঠাৎ
শূন্য হয়ে যায় জীবনের প্রিয় রঙগুলো;
তোমার নিখাঁদ হাসিতে কত গীতিকবিতা;
নিয়ন আকাশের সন্ধ্যাতারা, জেগে ওঠে মনে।
শিশির ভেজা ঘাসে জমে আছে জীবনের রঙ
বহুদিনের পুরনো সেই বন্ধ জানালায় চোখ,
ভাঙ্গা জীবনের হলুদ বিকালের মাঠে
তোমায় দেখতে থাকি...তুমি দেখো না আমায়...
জাবি

সুমন আহমেদ
মেঘবালিকা

শ্রাবণের বারিধারায় নিত্য তোমার আনাগোনা;
কখনো সুখের বৃষ্টি হয়ে অঝোরে ঝরে পড়ো,
কখনো অভিমান বুকে নিয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখো।
তুমি অভিমান করলে সমস্ত পৃথিবী ঢেকে যায় ঘনান্ধকারে;
সব রাগ অভিমান ভুলে নীলাম্বরীর অবয়ব ভেদ করে
যখন বৃষ্টি হয়ে বেরিয়ে আসো পৃথিবীর পথে,
তখন তোমার স্পর্শে পৃথ্বী ফিরে পায় নতুন করে বাঁচার সাধ।
জানো মেঘবালিকা;আমি চাতক হয়ে কতশত প্রহর কাটিয়েছি
শুধু তোমার-ই প্রতীক্ষায়,
তোমার ভেজা শাড়ির আচলে আমাকে জড়িয়ে নেবে বলে।
প্রিয়জন, ব্রাহ্মনবাড়িয়া

তাসনীম মোহাম্মাদ
পুঞ্জময় প্রত্যাশা

এখানে কুয়াশায় ঢেকে যাওয়া আকাশে
দেখি না অনেক দিন নীল, দেখি না কুসুম চাঁদ;
দেখি না প্রবারণ পূর্ণিমা’র জোছনা বিলাস।
এ-কি ক্রমশ ক্ষয় হয়ে যাওয়া দৃষ্টির
বার্ধক্য প্রণয়; নাকি
সানুনয় সময়ের পরিবর্তনে দমকা হাওয়া?
এখানে এখন অমাবস্যা’রা আঁতিপাঁতি খায়
সকাল-সাঁঝ। এখানে এখন
বেওয়ারিশ লাশের গন্ধ ভাসে বাতাসে যখন-তখন!
এখানে গুমোট নিঃশ্বাস পুড়িয়ে দিতে চায় রোদ্দুর।
এখানে ফাণি মনসা; কাল ফণি
ঘাড় উঁচু করে দাঁড়িয়ে।...
অথচ; পুঞ্জময় জীবনের কামনায়
চাষাবাদ হয়েছে পৃথিবী।-- সেই সমস্ত
ঘামে ভেঁজা-রক্তমাখা শরীরগুলো আজ কোথায়?
কবরের গভীর থেকে তোমাদের পবিত্র আত্মাসমূহকে
পাঠিয়ে দাও ঘুণ পোকায় খাওয়া
চেতনার হালে পাল তুলতে।
কেননা, কাশফুলের শীষগুলো অনেক বেশি নরম;
যেন শিশুর মুষ্ঠির মতো।
শিশু’রা অনেক বেশি সহজ; অনেক বেশি সরল,
তথাপি এক সমুদ্র অশ্রু চোখে শিশু!...
এ নিপীড়ন; এ পাশা খেলার গন্তব্য কোথায়?
এ-কি জন্মমাত্র মানুষ সেজেছে সভ্যতা?
আমি তীরন্দাজ! একটি জোছনা রাত
একটি নীল আকাশ; একটি কাব্যিক চাষাবাদের প্রত্যাশা।...

লুৎফর রহমান ঝিনুক
অজান্তেই

অজান্তেই আপন করে নিয়েছি তোমায়
তুমি কি ভাবো আপন আমায়?
আমার চোখে তাকিয়ে দেখোÑ
তোমাকে দেখতে পাবে চোখের পাতায়।
আমার বুকে তোমার মাথাটা রাখোÑ
হৃদস্পন্দন কী বলে শোনÑ
এই মন ভেসে যেতে চায়
তোমার শীতল ভালোবাসায়।
বিশ্বাস করো,
তোমার চোখের ভাষা আমি পড়তে পারি।
হ্যাঁ সত্যিই পড়তে পারি।
তুমি যখন বুকে ব্যথা চোখে জল নিয়ে হাসোÑ
তখন মনে হয় তুমি নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক
সদ্য ফোটা তাজা রক্ত গোলাপ।
তখন খুব ইচ্ছে করে গভীর ভালোবাসায়
জড়িয়ে ধরে ও দু’টি চোখ ছুঁয়ে দেই।
তোমার প্রতি আমার মায়া আছেÑ
প্রেম আছে কিন্তু কামনা নেই।
খুব ইচ্ছে হয় তোমার ও দু’টি চোখে
তাকিয়ে থাকি সারাজীবন
যে চোখে স্বপ্ন ঝরে অনুক্ষণ।
যে নিষ্পাপ চোখ দু’টি
বারংবার নির্যাতিত হয়েছে
বাস্তবতার নির্মম থাবায়।
আমি ও চোখে রঙিন স্বপ্ন বুনতে চাই
নিবিড় ভালোবাসায়।
ধরো, এ দু’টি হাত শক্ত করে
আমি তোমার সন্ধ্যা বাতি হবোÑ
বুকেতে জড়িয়ে রাখবো দিবস রাতি।
ঢাকা

ঊষার মাহমুদ
ফুলপ্রেমিকা

শাড়ির লাল রঙে বসন্ত নামে না এখন;
নোলকে ফুল ফুটেনা পাখিচোখে
স্বপ্ন যত থেমেগেছে; যেন,মধ্যদুপুরের স্তব্ধতা এক।
বেহায়া ইচ্ছেরা নিষিদ্ধ পথে ফেয়ারি হয়
প্রকৃতির প্রশ্রয়ে ফুল পাখি নদীর টানে!
বারন্তি লতার আগার মতো উইপোকা খেয়ে ফেলেছে
ভালোবাসার এগিয়ে যাওয়ার পথ।
চঞ্চলা-ফুলপ্রেমিকা আমার,
অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াও ভুল দুর্বাঘাসে...
ঝাপসার দখলে জোড়াচোখের আলো
চঞ্চলা, এই চোখ কিছুই দেখতে পায় না,
তোমার লালশাড়ি আর নাকের নোলক ছাড়া।
অথচ, তোমার নষ্টচোখ কতকিছু দেখে,
শুধু দেখতে পায়না আমায়...

প্রিয়জন,নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ
আমরা নষ্ট হয়ে গেছি

দিখণ্ডী হয়ে যাই সন্ধ্যের আলোয়
এই বিশুদ্ধ সন্ধ্যাকাল আমাদের জন্য নয়,
গৃহপালিত চাঁদ; সে-ও বড় পরশ্রীকাতর;
আমরা একে অপরের বাহু ছিঁড়ে খাই।
ওরা বলে হোমোসাপিয়ানস’রা বিকারগ্রস্ত।
প্রাগৈতিহাসিক কুকুরের লেজ দেখে হেসে ফেলি;
সময়ের বর্ণহীনতা পড়ে না চোখে এ খেলাঘর
বড় অদ্ভুত; মৃতদের গা ছুঁয়ে দেখি বাস্তবিক প্ররোচনার
চেয়ে সঙ্কীর্ণ মৌনতা বেশ ভালো রেখেছে ওদের;
ওরা ভালো আছে।
আমরা নষ্ট হয়ে গেছি;
আমাদের ভালো থাকতে নেই
এই তো অচিরেই উড়ে যাবে
আমাদের শৌখিন পরিচয়।
প্রিয়জন, সিরাজগঞ্জ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫