দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জোট আসিয়ানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রভাবশালী দেশ। মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জোট আসিয়ানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রভাবশালী দেশ। মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য।
রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে চীন ও রাশিয়া যাবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও আইওএম প্রধান ঢাকা আসছেন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার জন্য মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি সংক্ষিপ্ত সফরে আগামীকাল শনিবার ঢাকা আসছেন। একই উদ্দেশে রোববার আসবেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রধান লেসি সুইং। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টেস স্টাইলিয়ানিডিস তিনদিনের সফরে ৩০ অক্টোবর ঢাকা আসবেন।

মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে বিশেষ বিমানে ঢাকা এসে পৌঁছাবেন। এর পরপরই রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তিনি কক্সবাজার যাবেন। একইদিন ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন। রাতেই তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর জোট আসিয়ানে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রভাবশালী দেশ। মিয়ানমারও আসিয়ানের সদস্য। বাংলাদেশ বেশ আগে থেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ানকে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলাপ করেছেন। এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশ আসিয়ানসহ ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) আরো জোরালো ভূমিকা চায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলো এবং জাতিসঙ্ঘ রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু চীন ও রাশিয়া জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

এদিকে নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য চীন ও রাশিয়াকে সম্মত করাতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসাবে বেইজিং ও মস্কো যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তার সফরসূচি চূড়ান্ত হবে।

এছাড়া মিয়ানমার সরকারের আমন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তিনদিনের সফরে আগামী ২৩ অক্টোবর নেপিডো যাবেন। তার সফরসঙ্গির মধ্যে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। এ সময় নাফ নদীর সীমারেখা নির্ধারণ, সীমান্ত লিয়াজো অফিস স্থাপন এবং নিয়মিত নিরাপত্তা সংলাপের একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের চেষ্টা করা হবে। মিয়ানমার থেকে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরে এলে মিয়ানমার সফরে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। এই দুই মন্ত্রীকেই নেপিডো সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। গত ২ অক্টোবর সোয়ে ঢাকা সফরকালে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হন। তবে তিনি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষ অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘের অন্তর্ভূক্তির বিরোধীতা করেন। এছাড়া প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালের বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ঘোষণার নীতি অবলম্বনের কথা বলেন। তবে ঢাকা নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ১৯৯২ সালের যৌথ ঘোষণাকে ভিত্তি ধরে এর সাথে কয়েকটি বিষয়ক সংযুক্ত করে চুক্তির একটি খসড়া সোয়েকে দিয়েছে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও আইওএমের ভূমিকা চেয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেপিডো সফরে আলোচনা হবে।

আইওএমের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী গত ২৫ আগস্টের পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পারি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার এসেছে ১৪ হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশমুখী রোহিঙ্গাদের ঢল এখনো অব্যাহত রয়েছে। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে নয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.