ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

ব্যাংকক হতে কত দিন লাগবে?

হারুন-আর-রশিদ

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:১৯


হারুন-আর-রশিদ

হারুন-আর-রশিদ

প্রিন্ট

আমার বড় জামাতা কানাডা থেকে এসে জানায়, তাকে থাইল্যান্ড যেতে হবে ব্যক্তিগত কাজে। সে আমাদের সফরসঙ্গী করতে চাইলে রাজি হয়ে গেলাম। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ২৪ দিন ভারতের চারটি রাজ্য ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম অসুস্থ বেয়াইকে নিয়ে। ঘাতক ক্যান্সার তাকে বাঁচতে দেয়নি। অসুস্থ অবস্থায়ও নামাজ কাজা করেননি। বিমানেও নামাজ পড়েছেন। যা হোক, মানুষের সাথে না মিশলে ও দেশ ভ্রমণ না করলে জ্ঞানের পরিপূর্ণতা আসে না।

এবার থাইল্যান্ড সফরে সফরসঙ্গী ছিল স্ত্রী, মেয়ের জামাই ও কনিষ্ঠ মেয়ে- মোট চারজন। বড় মেয়ে সন্তানের পড়াশোনার জন্য কানাডা থেকে আসতে পারেনি। ৩ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের প্রসিদ্ধ তিনটি স্থান ঘুরে দেখেছি। মনে হচ্ছিল যেন শহরগুলোকে প্রতিদিন সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখে। নিত্যদিন নতুন সাজে সজ্জিত ব্যাংকক, ফুকেট ও পাতং। তিনটি সিটিতে কোথাও আবর্জনার স্তূপ দেখিনি। বিশ্বের বড় বড় শহরে আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ ২৪ ঘণ্টাই চলে বিরতিহীনভাবে। মধ্যরাতেও ব্যাংকক সিটির সিলম সড়কে এ কাজ করতে দেখেছি। ওই সড়কে siri sathorn ফোর স্টার হোটেলের নবম তলায় ১২০০ স্কয়ার ফিটের স্যুটে ছিলাম আমরা; বাংলাদেশের ফাইভ স্টার হোটেলেও অত সুবিধা আছে কি না সন্দেহ। ফিটনেস সেন্টার, সুইমিংপুল থেকে শুরু করে সব কিছুই ওই হোটেলে রয়েছে। ৭০ থেকে ১৬৪ ডলার এক দিন থাকার জন্য দিতে হয়। এক ডলারে ৩১ থেকে ৩২ থাই বাথ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় তিন টাকা সমান এক থাই বাথ। হোটেলের পাশেই লুমফিনি পার্ক। ৩৬০ একরের পার্কটিতে খেলার মাঠ, কৃত্রিম লেকে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। পার্কে ঘাসগুলো যেন সদ্য গজিয়েছে; একেবারে তরতাজা। বসুন্ধরা সিটির দ্বিগুণ বড় দু’টি শপিং মলে ঘুরতে গেলাম। হোটেল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে ট্যাক্সি ভাড়া নিলো ১৫০ বাথ। সে হিসেবে ঢাকার ভাড়া আরো বেশি। মোহাম্মদপুর থেকে বিমানবন্দরে যেতে (১২ কিলোমিটার) প্রাইভেট কার ভাড়া চেয়েছে দুই হাজার টাকা। অবশেষে ১৫০০ টাকায় রাজি করালাম। থাইল্যান্ডে ভাড়া মিটার অনুযায়ী। সিঙ্গাপুরেও একই নিয়মে চলছে ট্যাক্সি ক্যাবগুলো।

থাইল্যান্ডে ১৯৩২ সালে রক্তপাতহীনভাবে শাসনতান্ত্রিক রাজতন্ত্র কায়েম হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থাইল্যান্ড জাপানের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবদ্ধ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন মৈত্রী বন্ধনের অনুগামী হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে দেশটি বেশির ভাগ সময় মিলিটারি শাসনে চলছিল। থাইল্যান্ডের ভূখণ্ড পাঁচ লাখ ১০ হাজার ৮৯০ বর্গকিলোমিটার। এর সাথে দুই হাজার ২৩০ বর্গকিলোমিটার পানিবেষ্টিত এলাকা। দেশটি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড়। জনসংখ্যা ২০১৭ সালে ছয় কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৭ জন। থাইল্যান্ডের ভূখণ্ড বাড়ছে আর আমাদের ভূখণ্ড কমছে। ব্যাংককের লুমফিনি পার্কে অশীতিপর যে মহিলা ক্লিনারের কাজ করছে তার মুখে হাসি দেখে ভাবলাম, এত পরিশ্রমের কাজ করছে এই বয়সে, তারপরও কিভাবে মুখে হাসি আসে? How are you. উত্তরে বলল I am fine. I Love my Country. ব্যাংকক ও ফুকেট সিটিতে কোথাও ‘ফকিরি ব্যবসা’ দেখিনি। দু-একজন মানুষ শার্ট-প্যান্ট পরে বেহালা বাজাচ্ছে, কিন্তু সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছে না। মানুষ তাকে থাই বাথ দিচ্ছে। বাদকের মুখেও অকৃত্রিম হাসি।

সবাই কাজপাগল মানুষ। কাজ করলে অর্থ আসবে, দেশ উন্নত হবে- এ মনোভাব নিয়ে থাইল্যান্ডের মানুষ দিন গুজরান করছে। আমরা যেভাবে কাজ ফাঁকি দেই, বিশ্বের খুব কম দেশে এ আচরণ লক্ষণীয়। থাইল্যান্ডের যে তিনটি শহরে আমরা ঘুরে দেখেছিলাম কোথাও মোড়ে মোড়ে স্কুল, কলেজ, কিন্ডারগার্টেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ব্যাংক ও বীমা বাংলাদেশের মতো এত দেখা যায়নি। এ কারণে ব্যাংকক সিটিতে ডলার ভাঙাতে ট্যাক্সি নিতে হয়েছে। থাইল্যান্ডে ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। চার দশমিক ৯ শতাংশ মুসলিম, ১ দশমিক ২ শতাংশ খ্রিষ্টান, দশমিক ১ শতাংশ ধর্ম মানে না বা নাস্তিক। আমরা ব্যাংককে উড়াল ট্রেনে উঠেছি। ব্যয়বহুল ট্রেন, যার যত্ন সরকার নয়, জনগণই নিচ্ছে। কেউ কিছু ফেলছে না, দাগ দিচ্ছে না; পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। মনে হচ্ছে, মাত্র গতকাল ট্রেনটি চালু করেছে। অথচ এর বয়স ১০ থেকে ১৫ বছর হতে চলেছে।

থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা ২০১৬ সালে সিংহাসনে বসেছেন। রাজার ছবি বিশেষ স্থান ছাড়া যত্রতত্র নেই। কয়েক স্থানে সুন্দর পরিপাটি পোশাকে মার্জিতভাবে খোদাই করা হয়েছে। আমাদের দেশে যেভাবে বড় নেতা, পাতি নেতার ছবি রাস্তার মোড়ে মোড়ে, দেয়ালে সেঁটে দেয়া হয় এবং বিলবোর্ড আকারে লাগানো হয়; তেমনটি ব্যাংককে দেখলাম না। তারা মনে করে, এটা অপচয় ও সৌন্দর্যের পরিপন্থী। ভালো লেগেছে ব্যাংকক সি লাইফ ওসান ওয়ার্ল্ড। সমুদ্রের নানা প্রকার মাছ; ছোট-বড় প্রায় দুই মণ ওজনের মাছও দেখেছি, সবই এই বিশাল আকৃতির অ্যাকুরিয়ামে কিভাবে যে যতœ করে রেখেছে, তা চিন্তার বিষয়। ফুকেট শহরে বোটানিক্যাল গার্ডেন, নানা জাতের পাখির বিচরণ, এরপর ডলফিনের নৃত্য, সিল মাছের নৃত্য ও কথা বলা দেখে অবাক হতে হয়। ফুকেটে গিয়ে অরণ্যের বিস্তৃতি দেখে ভাবলাম, ঢাকা শহরে এর চার ভাগের এক ভাগ গাছও নেই। ফুকেটে দোতলা-তিনতলার বেশি কোনো বাড়ি চোখে পড়েনি। গাছপালাÑ বিশেষ করে নারিকেলগাছ, কলাগাছÑ যার দৈর্ঘ্য মাত্র এক হাত থেকে দেড় হাত, থোকায় থোকায় ডাব ও কলা ঝুলছে। যানজট নেই, বৃষ্টি হলেও পানি জমে থাকতে দেখিনি। বাড়িঘরের ছাদ টালি দিয়ে তৈরি করা।

ব্যাংকক সিটির আয়তন ১৫৬৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৯৬ লাখ ১৭ হাজার। দেশের মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ বাস করে ব্যাংককে। এখানে জাপান, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীনের মানুষও স্থায়ীভাবে বাস করছে। বিশ্বে ব্যাংকক ৫৮তম ঘনবসতিপূর্ণ শহর। অন্য দিকে ঢাকা তৃতীয় বৃহত্তম ঘনবসতিপূর্ণ। অথচ ঢাকা মেট্রোপলিন সিটির আয়তন মাত্র ২৭০ বর্গকিলোমিটার। ঢাকা ব্যাংকক সিটির চেয়ে অনেক ছোট। ঢাকার সৌন্দর্য কিভাবে রক্ষা করবেন? এত মানুষের প্রতিদিনের বর্জ্য-আবর্জনা কোথায় ফেলবেন? বুড়িগঙ্গা অনেক আগেই শত বছরের বুড়ি হয়ে গেছে। আশপাশের নদীগুলো দখল হয়ে গেছে বহু আগেই। ব্যাংকক সিটির মধ্যে প্রবহমান নদী অনেকটা লেকের মতো, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। স্বচ্ছ পানি দেখে ভাবছিলাম, আমাদের ওয়াসার পানির চেয়ে এ নদীর পানি অনেক বিশুদ্ধ। ঢাকায় ৩৪ হাজার ২০০ জন মানুষ প্রতি কিলোমিটারে বাস করে, যার আয়তন মাত্র ২৭০ বর্গকিলোমিটার। ঢাকার চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বড় শহর ব্যাংকক, সেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র পাঁচ হাজার ৩০০ মানুষ বাস করে। তবু থাই সরকার বলছে, ব্যাংকক সিটি এত জনবহুল হলো কেন? ভাবছে ব্যবস্থা নেয়া দরকার, অন্যথায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যাবে। সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য।

থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর শহর ফুকেট। ৪ সেপ্টেম্বর আমরা বিমানে ফুকেটে যাই। সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেয়ে ছোট নয়। বিশাল টার্মিনাল। ঝকঝক তকতকে। ঢাকা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় জেট এয়ারওয়েজে দিল্লি যাই। প্রায় আড়াই ঘণ্টায় দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করি। দুই ঘণ্টার বিরতি। এর মধ্যে দিল্লি শহরটিকে তাকিয়ে যতটুকু দৃষ্টি যায় দেখলাম, এয়ারপোর্ট আধুনিক ও সুসজ্জিত। যাদের হাঁটতে চলতে অসুবিধা তাদের জন্য রয়েছে খোলা চার চাকার বেবিট্যাক্সির মতো গাড়ি। টার্মিনালের অভ্যন্তরে এ রকম সিস্টেম প্রথম আমার নজরে এলো। এ দিনই জেট এয়ারওয়েজ প্লেনে ব্যাংকক যেতে সময় লাগল প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা। চার টার্মিনাল সংযুক্ত বহুতলবিশিষ্ট, যার পরিধি প্রায় দু-তিন বর্গকিলোমিটার। সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিতে সাজানো ব্যাংকক বিমানবন্দর। আমার দেখা এশিয়ার আটটি বিমানবন্দরের মধ্যে দুবাই বিমানবন্দরকে প্রথম স্থান দিতে হয়। এরপর সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি ও ব্যাংককের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দিল্লি ও চেন্নাই বিমানবন্দর দু’টি একই রকম মনে হয়েছে। দুঃখ লাগে, ঢাকা বিমানবন্দরটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কোনো ভালো অবস্থানে নেই। দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককে বিমান থেকে নেমে বেশিক্ষণ হাঁটার প্রয়োজন হয় না। যন্ত্র আপনাকে গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাবে; এর নামই আধুনিক প্রযুক্তি।

থাইল্যান্ডের ফুকেট শহর একেবারে নিরিবিলি। চার দিকে সমুদ্র। সমুদ্রের মাঝে দেখা যাবে পাথরের পাহাড়, সেখানে বানর দেখেছি, নানা জাতের মাছ দেখেছি। ফুকেট শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে একেবারে সমুদ্রবেষ্টিত পাহাড়ি ঢালে, নিঝুম পল্লীর মতো দেখতে মে রিসোর্ট। দুই কক্ষবিশিষ্ট দু’টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলাম। ফুকেট সিটির মতো এত বৃক্ষ ও ফলের গাছ এর আগে আমি কোথাও দেখিনি।

২০১৬ সালের এপ্রিলে ভারতের ভেলোর শহরে গিয়ে যে ‘ধাক্কা’টি খেয়েছিলাম, ফুকেটে এসে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। গাইড বা দোভাষী থাই ও ইংরেজি ভাষায় পণ্ডিত। তিনি ৫০-এর অধিক দেশের যাত্রী নিয়ে বড় সাইজের স্পিডবোটে সমুদ্রবেষ্টিত পাঁচটি মনোরম সমুদ্রসৈকত ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। আমাকে বললেন, What's your country's Name? আমি বললাম, বাংলাদেশ। তার কথা, It is in India। আমি বললাম, No- It is an Independent country. I Fought for my Country during 1971. আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিয়ে বললেন, I understand। সবাইকে দেশের নাম জিজ্ঞেস করা একটি প্রচলিত নিয়ম, যেটা গাইডাররা মেনে চলেন। ঘটনা ঘটেছে যে রিসোর্টটি চার দিনের জন্য ভাড়া নিয়েছি সেখানেই। খাবার পরিবেশন কর্মকর্তার জাতিগত পরিচয় থাই, তিনিও বাংলাদেশের নাম শোনেননি। এই প্রথম শুনলেন। অথচ বাংলাদেশের বয়স ৪৭ বছর। পত্রিকায় দেখেছিলাম, ইউরোপের একটি বড় দেশে মানুষ বাংলাদেশ নাম শুনে থমকে যায়; বলে Is it a flower? এসব শুনলে মনটা বিগড়ে যায়। আমরা কি ভিনগ্রহের মানুষ? না হলে এ রকম অবাস্তব প্রশ্ন কেন? দেশকে দুনিয়ায় তুলে ধরায় এই ব্যর্থতার দায়ভার তাদের, যারা গত ৪৭ বছর দেশটি শাসন করেছেন। ফুকেট রাজ্যটি ৫৭৬ বর্গকিলোমিটার। এই রাজ্যে পাতং বিচ টাউনে লোকসমাগম বেশি। পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট। এখানে ভারতীয় ও পশ্চিমা বিশ্বের পর্যটকদের আড্ডা বেশি। আমরা বিখ্যাত সাতটি বিচ ঘুরেছি। স্কিম বিচ, প্রচুর বানর সমুদ্রবেষ্টিত পাহাড়ে থাকে। আমাদের স্পিডবোটে লাফিয়ে অনেক বানর খাবার নিতে এসেছিল। হলিউডের বহু ছবির শুটিং এসব সমুদ্রবেষ্টিত পাথরের পাহাড়ে হয়েছিল। এখনো হয়। জেমস বন্ড সিরিজটির অনেক শুটিং এসব পাহাড়ে হয়েছিল বলে গাইড সূত্রে জানা যায়। আল্লাহর সৃষ্টি জগতের সৌন্দর্য এই পৃথিবীতে যা রয়েছে তার কিয়দংশও আমরা এখনো দেখিনি।

যারা ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা করাতে যান; তাদের বাংলাদেশের বড় হাসপাতালগুলোর মতো বাইরের দেশে বেশি অর্থ খরচ করে বড় হাসপাতালে না দেখানোই উত্তম। এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। জেনে বুঝে বলছি, বিদেশে সরকারি হাসপাতাল ও মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত হাসপাতালগুলোর ট্রিটমেন্ট অনেক ভালো এবং খরচ কম। ফুকেট সিটিতে আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনেই চেকআপ করিয়েছি। ব্যাংককের বামরুনগ্রাদে খরচের দ্বিগুণ; কিন্তু চিকিৎসা একই রকম। ভারতে ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মিশনারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ভালো ও খরচ কম। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে উন্নতমানের চিকিৎসা করা হয়। অর্থের অপচয় রোধ করতে চাইলে ওইসব হাসপাতালে গেলে সেবা পাবেন। খরচ কম পড়বে। 

লেখক : গ্রন্থকার
Em.harunrashidar@gmail.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫