ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

ঢাকা

স্ত্রীকে নিয়ে উধাও চেয়ারম্যান : মৃত্যু প্রবাসীর

৪ দিন পর মামলা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৫:৪২ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৬:০৭


প্রিন্ট
স্ত্রীকে নিয়ে উধাও চেয়ারম্যান : মৃত্যু প্রবাসীর

স্ত্রীকে নিয়ে উধাও চেয়ারম্যান : মৃত্যু প্রবাসীর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক প্রবাসির স্ত্রীকে নিয়ে মো: সাইদ আনোয়ার (৪২) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শালিসের নামে একটি চক্র স্বামী আবুল হোসেন (৪৫) নামে ওই প্রবাসীকে আইনের আশ্রয় না নেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে নানা অপবাদ দিলে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় চার দিন পর অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ।

গত সোমবার মির্জাপুর উপজেলার ১২নং তরফপুর ইউনিয়নে তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার চার দিন পর আজ শুক্রবার আবুল হোসেনের বড় তোফাজ্জল বাদী হয়ে মাতাব্বর ও চেয়ারম্যানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

প্রতারক চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীসহ মাতব্বরদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে আবুল হোসেনের পরিবার ও এলাকাবাসী।

আজ শুক্রবার এলাকাবাসী জানায়, তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসি আবুল হোসেনের স্ত্রী রোজিনা বেগম স্বামীর অবর্তমানে ১২নং তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক শালিসও হয়েছে বলে জানা গেছে। স্ত্রী রোজিনা বেগমের এমন অনৈতিক ঘটনা জানতে পেরে আবুল হোসেন সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন।

ফিরে এসে আবুল হোসেন মৃত্যুর আগে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান সাইদ আনোয়ার তার স্ত্রীর কাছ থেকে নানা কৌশলে অন্তত ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোজিনা বেগম দুই সন্তানের মধ্যে এক সন্তানকে নিয়ে টাঙ্গাইল শহরে কেনাকাটা করতে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হয়। মার্কেট করতে গিয়ে রোজিনা বেগম আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরে আবুল হোসেন জানতে পারে রোজিনা এক সন্তানসহ চেয়ারম্যান মো: সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

এদিকে স্ত্রী ও সন্তান ফিরে পাবার দাবীতে আবুল হোসেন মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আবুল হোসেনকে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মির্জাপুর থানায় মামলা করতে দেয়নি বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে গত ৮ অক্টোবর তরফপুর মধ্যপাড়া গ্রামের তারা মোল্লার বাড়িতে এ নিয়ে এক গ্রাম্য শালিস বসে।  শালিসের মাতব্বর হবি, ফরহাদ, শেরু, ইলিয়াজ, শাহ আলম, আরজুসহ চেয়ারম্যানের লোকজন গৃহবধূর স্বামী আবুল হোসেনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি দেখালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।  আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঐ দিন রাতে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে।  হাসপাতালে তিনি মারা যান।

আবুল হোসেন মারা যাওয়ার পর তার পরিবার মির্জাপুর থানায় মামলা করতে এলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন।  একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পুলিশকে ম্যানেজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে আজ শুক্রবার আবুলের ভাই বাদী হয়ে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখিত আসামিদের নাম উল্লেখ করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে আজ শুক্রবার টাঙ্গাইল থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো: সাইদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাকে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫