ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

৩ টাকার ডিম নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৪:৪২


প্রিন্ট
বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার আগে ভিড়ের চাপে ভেঙে যায় কাউন্টারে রাখা বেশ কিছু ডিম

বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার আগে ভিড়ের চাপে ভেঙে যায় কাউন্টারে রাখা বেশ কিছু ডিম

বিশ্ব ডিম দিবসে ৩ টাকায় ডিম বিক্রি কর্মসূচি ঘিরে ঘটে গেল লঙ্কাকাণ্ড। জনসমুদ্র এক সময় হয়ে দাঁড়ায় মহা হাঙ্গামার বিষয়।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ঘোষণা দিয়েছিল আজ শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবসে ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে ডিম বিক্রি হবে। জনপ্রতি কেনা যাবে সর্বোচ্চ ৯০টি ডিম।

বাজারে যা আট টাকার কমে পাওয়া যায় না, সেই ডিম পাওয়া যাবে তিন টাকায় এ আশায় সকাল ৮টার মধ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ৯টার দিকে ক্রেতাদের লাইন বিজয় সরণি পার হয়ে যায়।

নানা বয়সের, নানা পেশার মানুষ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম কিনতে জড়ো হয়েছিলেন খামার বাড়িতে। কেউ সঙ্গে এনেছিলেন বালতি; কারও হাতে ছিল ডিম রাখার খালি খাঁচি।

কিন্তু ভিড়ের চাপ আর অব্যবস্থাপনার কারণে বিশৃঙ্খলা, পুলিশ আর স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিপেটা আর বিক্ষোভের মধ্যে সকাল ১০টার আগেই পণ্ড হয়ে গেছে তিন টাকায় ডিম বিক্রির প্রচারাভিযান।

ক্রেতাদের ধাক্কাধাক্কিতে কেআইবি মিলনায়তনের বাইরে খালি জায়গায় ডিম বিক্রির জন্য বানানো প্যান্ডেল ভেঙে যায়। ভিড়ের চাপে ভেঙে যায় কাউন্টারে রাখা বেশ কিছু ডিম।

আয়োজকদের মুখপাত্র বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সদস্য বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য এক লাখ ডিম এনেছিলেন তারা। সকাল ১০টায় বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও মানুষের ভিড় দেখে ৯টার দিকেই বিক্রি শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু এত মানুষের চাপে আধা ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে ১০টা বাজার আগেই ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

পরে কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমান ফেইসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, “ডিম দিবস উপলক্ষে আমরা সাধারণ মানুষকে একটি বার্তাই দিতে চেয়েছি- তা হল ডিম একটি পুষ্টিকর খাদ্য এবং সকলেরই ডিম খাওয়া দরকার। আমরা চেয়েছিলাম সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষরা যেন কম দামে পরিবারের জন্য এক মাসের ডিম কিনে নিয়ে যেতে পারেন।”

‘বিশৃঙ্খলার কারণে’ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিম বিক্রি করতে না পারলেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মসিউর। তিনি বলেছেন, আগামীতে আলোচনা সাপেক্ষে আবারও কম দামে ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

এই ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ পরিস্থিতির জন্য আয়োজকরা ‘আন্তরিকভাবে দুঃখিত’ বলে দায় সারতে চাইলেও খালি হাতে বাড়ি ফেরার আগে খামারবাড়ি মোড় থেকে ফার্মগেইট পর্যন্ত সড়কে এলোমেলো অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের সামনের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ট্রাফিক পুলিশ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫