ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

অন্যান্য

'এক্সট্রা অর্ডিনারি ফ্যামিলি'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৪:০৬ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৪:২২


প্রিন্ট
ফ্যামিলি অব সিক্স

ফ্যামিলি অব সিক্স

অন্যদের চেয়ে তারা একটু আলাদা। না, তারা ভিনগ্রহের কেউ নন। তবে তাদের দেখলেই বোঝা যায়, তারা ব্যতিক্রম। কী কারণে তারা আলাদা? উপরের ছবিটির দিকে একটু ভালো করে লক্ষ করুন তো। কী বুঝতে পেরেছেন? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, তাদের হাতের আঙুল পাঁচটা নয়, ছয়টা! দুই হাতেই তাদের ছয়টা করে আঙুল! শুধু হাত নয়, তাদের পায়ের আঙুলও ছয়টি করে!

আরো অবাক হবেন, এটা জেনে যে এই পরিবারের সব সদস্যের আঙুলের সংখ্যাই একই। অর্থাৎ, সবার দুই হাত-পায়ের আঙুল ছয়টা করে ১২টা।

কিছু দিন আগেই এই পরিবারে নতুন এক সদস্যের আগমন হয়েছে। নিশ্চিয়ই প্রশ্ন জাগছে, তার হাত-পায়ের আঙুল কয়টি?

 

হ্যাঁ, সেও ২৪ আঙুলের অধিকারী। পরিবারের 'ঐতিহ্য' ধরে রেখেছে সে।

তাকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী পরিবারের সদস্যের সংখ্যা ১৫ জন।

তাদের বসবাস ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায়। পরিচিত 'এক্সট্রা অর্ডিনারি ডি সিলভা ফ্যামিলি' নামে।

জেনেটিক অস্বাভাবিকতার কারণেই এই অতিরিক্ত আঙুলের সৃষ্টি হয়। তবে এ নিয়ে কোনো আফসোস নেই ডি সিলভা পরিবারের। তারা উল্টো খুশি।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, 'ভিড়ের মাঝেও তারা নজর কেড়ে নেয় এই অতিরিক্ত আঙুলের কারণেই।"

 

পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য ভিনিসিয়াসের বাবা আলেক্সান্দ্রোর হাতের আঙুল ছয়টি করে হলেও মা কাটিয়ার এক হাতের আঙুল ছয়টি, অপর হাতে পাঁচটি।

তবে এই দম্পতির প্রথম সন্তান গুলহারম কিন্তু জন্ম নিয়েছে পরিবারের মতোই ছয় আঙুল নিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় সন্তান ভিনিসিয়াসের জন্মের আগে তারা একটু চিন্তিত ছিল যে, পরিবারের সদস্যদের মতো তার হাত-পায়ের আঙুল কি ছয়টি করে হবে কিনা?

তারা 'নিরাশ' হননি। পরিবারের অন্যদের মতোই হয়েছে ভিনিসিয়াস।

বাবা আলেক্সান্দ্রো গর্ব করে বলেন, 'এই অতিরিক্ত আঙুলের কারণেই আমরা অন্যদের চেয়ে আলাদা। অন্য কোনো পরিবারের আমাদের মতো এই বিশেষত্ব নেই।'

চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাত-পায়ের এই অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্ম নেয়াটাকে 'পলিডেকটিলি' বলে। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, এক হাজার জনের মধ্যে মাত্র একজনের এমনটা হয়।

 

জেনেটিক সায়েন্টিস্ট ড. লোরা লেটিস জানান, যদি মা-বাবা যে কোনো একজনের হাত-পায়ের ছযটি করে আঙুল থাকে, তবে সন্তানের ছয়টি করে আঙুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৫০ শতাংশ।

ডি সিলভা পরিবারের কথা জানা ছিল তার। তাই বলেন, অনেকে এই অতিরিক্ত আঙুলটি লুকিয়ে রাখতে চায়। আসলে এটি নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কিছু নয়, এটিকে সম্পদ ভাবতে হবে। যেমনটা ভেবেছে এই 'ফ্যামিলি অব সিক্স।'

সিলভা পরিবারের সদস্য গুলহারম তার সাথে একমত। সে জানায়, ছয় আঙুল থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, একসাথে অনেক কিছু ধরে রাখা যায়।

তার চাচাত বোন মারিয়া যোগ করলো, আমার জন্য সবচেয়ে ভালো দিক হলো, হাতের অতিরিক্ত আঙুলের কারণে আমি পিয়ানোর কি-গুলো বেশি ব্যবহার করতে পারি!

 

এই পরিবারের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য আলেক্সান্দ্রোর দাদার আমল থেকেই এই 'ঐতিহ্যের' শুরু। তিনি জোয়াও অ্যাসিস। পেশায় ফুটবলার ছিলেন। অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে তিনি গোলরক্ষকের কাজটি খুব ভালোভাবেই করতে পেরেছেন।

বলেন, 'আমি যা করতে পারতাম, অন্যরা তা পারত না। আমি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি বল ধরতে পারতাম।'

উল্লেখ্য, আলেক্সান্দ্রোর দাদা অ্যাসিস ছয় আঙুলের বিশেষত্ব নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন। তার হাতের ছবি দিয়ে বইটির কভার করা হয়েছিল।

সূত্র : মিরর

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫