ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

৩০টি সামরিক যান নিয়ে সিরিয়ায় ঢুকেছে তুর্কি সেনাবাহিনী

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১১:১১ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১১:১৮


প্রিন্ট
৩০টি সামরিক যান নিয়ে সিরিয়ায় ঢুকেছে তুর্কি সেনাবাহিনী

৩০টি সামরিক যান নিয়ে সিরিয়ায় ঢুকেছে তুর্কি সেনাবাহিনী

তুরস্কের সেনাবাহিনীর প্রথম বহর সিরিয়ার ইদলিব নগরীতে ঢুকেছে। উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি অঞ্চল কার্যকর করার জন্য এ বাহিনী ইদলিবে ঢোকে। ইরান এবং রাশিয়ার সাথে চুক্তির অংশ হিসেবে এ অঞ্চল গঠন করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় ৩০টি সামরিক যান রয়েছে তুর্কি সেনাবহরে। বহরটি বাব আল-হাওয়া সীমান্তের কাছ দিয়ে সিরিয়ায় ঢুকেছে।

বহরটি শেখ বারকার টিলার শীর্ষের দিকে এগিয়ে গেছে। এখান থেকে সন্ত্রাসী এবং কুর্দি পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রিত আফরিন অঞ্চলের ওপর নজর রাখা যায়।

ইদলিবের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে হায়াত তাহরির আশ-শাম বা এইচটিএস। আল-কায়েদার সাথে সম্পর্কিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আন-নুসরা গত বছর নাম বদল করে জাবহাত ফতেহ আশ-শাম নাম নিয়েছে। এইচটিএসের নেতৃত্ব দিচ্ছে এ গোষ্ঠী।

কাজাখিস্তানের রাজধানী আস্তানায় সিরিয়া নিয়ে চতুর্থ দফা আলোচনার সময়ে সিরিয়ায় চারটি যুদ্ধবিরতি এলাকা গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছিল রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্ক।

তুরস্ক কেন রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে?
তুরস্ক রাশিয়ার কাছে থেকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে।

দুই দেশের সরকারই নিশ্চিত করেছে এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্য হয়েও রাশিয়ার সাথে এই অস্ত্র কেনার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র একবারেই ভালো চোখে দেখছে না।
ইস্তাম্বুলে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে তুর্কি সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একইসাথে এর মাধ্যমে ন্যাটোকে পরিষ্কারভাবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর অস্ত্র ব্যবস্থার সাথে কাজ করবে না, এই যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এগুলো না কেনার জন্য এতদিন তুরস্কের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি তুরস্ক থেকে তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নিয়েছিল।

৩০০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়ার পর থেকে তারা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে তুরস্ক ভালোভাবে দেখছে না।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে নিয়েও মার্কিন-তুর্কি সম্পর্কে তিক্ততা চলছে। তুরস্ক মনে করে গত বছরের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে আছেন ফেতুল্লা গুলেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তাকে তুরস্কে এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাকে ফেরত পাঠাতে চাইছে না।

কূটনৈতিক বিতর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক ভালো : ম্যাটিস
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন চলা সত্ত্বেও ন্যাটোর অংশীদার এ দুই দেশের সামরিক বাহিনী ভালোভাবেই একসাথে কাজ করে যাচ্ছে। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস এ কথা বলেন।

ফ্লোরিডায় একটি সামরিক সদর দফতর পরিদর্শনকালে ম্যাটিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা, ভালো যোগাযোগ ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা বজায় রেখেছি। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক বিরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা তুরস্কের সামরিক বাহিনীর সাথে ভালোভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

গত বছরের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে অভিযুক্ত গ্রুপের সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে আমেরিকান কনস্যুলেটে চাকরি করা এক তুর্কি নাগরিককে গ্রেফতার করায় গত সপ্তাহে এ দুই দেশ কূটনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কে তাদের মিশনে অভিবাসী নন এমন ব্যক্তির ভিসা ইস্যু করা বন্ধ করে দেয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রে তুরস্কের মিশন এ ব্যাপারে অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসওগলু পারস্পরিক বিতর্কিত ভিসা সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন এ সঙ্কট ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে দেখা দেয়ার পর থেকে এই প্রথম তারা কথা বললেন। মঙ্গলবার পেন্টাগন মুখপাত্র জানান, এ কূটনৈতিক বিরোধ ন্যাটো বা তুরস্কের সাথে মার্কিন সামরিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি।

কিছু দিন আগেই জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের প্রশংসা করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরেও বেশ উষ্ণতা দেখা গিয়েছিল? কিন্তু সেই সখ্যতার জায়গায় একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে?

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫