ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

ইতিহাস-ঐতিহ্য

ভাইকিংরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল?

বিবিসি

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০৬:৩৪ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০৯:৫৪


প্রিন্ট
ভাইকিংরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল

ভাইকিংরা কি ইসলাম গ্রহণ করেছিল

সুইডেনের গবেষকেরা ভাইকিংদের একটি কবরস্থান থেকে এমন কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছেন যেগুলোতে আরবি শব্দ লেখা রয়েছে। এসব সরঞ্জাম উদ্ধারের পর প্রশ্ন জেগেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা কি তাহলে ইসলাম ধর্মে আকৃষ্ট হয়েছিলেন বেশ প্রাচীন আমলেই? এ কথা লিখেছেন লন্ডন-ভিত্তিক সাংবাদিক তারিক হুসেইন, যিনি মুসলিম হেরিটেজ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ।

নবম ও দশম শতাব্দীর কবরস্থানে পাওয়া পোশাকে পরীা করে ভাইকিং ও মুসলমানদের মধ্যকার যোগাযোগ সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে। ভাইকিংদের এসব কবর থেকে উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলোতে ‘আল্লাহ’ ‘আলী’ ইত্যাদি শব্দ লেখা বা আঁকা রয়েছে। সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল আর্কিওলজিস্ট আনিকা লারসন বলেছেন, ‘ভাইকিংরা কোনো এক পর্যায়ে হয়তো বা ইসলাম এবং এর পরকালের ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।’ গবেষকেরা জানাচ্ছেন, নৌকা আকৃতির কবর থেকে উদ্ধার করা কাফনে শব্দগুলো লেখা হয়েছে আরবি কুফিক বর্ণমালায়। লারসন বলছেন, ‘আমি হঠাৎ করে দেখলাম আল্লাহ শব্দটা এমনভাবে লেখা যেটা শুধু আয়নাতে ধরলে সঠিকভাবে দেখা সম্ভব’। 

এক শ’টি পোশাকের মধ্যে দশটি পোশাকে এ ধরনের শব্দ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘হতে পারে যাদের কবর দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে মুসলিম ছিলেন। ডিএনএ পরীা করে আমরা দেখেছি যেসব মানুষকে কবর দেয়া হয়েছে, তাদের অনেকে পারস্য থেকে এসেছেন, যেখানে ইসলামের অনেক প্রতিপত্তি ছিল।’ অবশ্য ভাইকিংদের কবরে ‘আল্লাহ’ শব্দ লেখা পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। উদ্ধার করা কাপড়ের প্যাটার্ন গবেষণার সময় দেখা যায় আয়নাতে ধরলে আরবি শব্দগুলো দেখা যাচ্ছে। 

আরব ও মুসলমানদের সঙ্গে ভাইকিংদের যোগাযোগ যে বহু আগে থেকে ছিল এটা বেশির ভাগেরই অজানা। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালে স্টকহোম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সেবাস্টিয়ান ওয়ার্মল্যান্ডারের নেতৃত্বে একদল গবেষক অনুসন্ধান চালিয়ে একটি কবর থেকে ‘আল্লাহ’ লেখা আংটি উদ্ধার করেছিলেন।

সুইডেনের একটি প্রাচীন বাণিজ্যকেন্দ্র বির্কায় নবম শতাব্দীর প্রাচীন একটি কবর খুঁড়ে এক মহিলার দেহাবশেষ পাওয়া যায়। তার হাতে একটি আংটি ছিল, আর সেই আংটিতে প্রাচীন আরবিতে লেখা ছিল ‘আল্লাহর প্রতি’ বা ‘আল্লাহথর উদ্দেশ্যে’। রুপার তৈরি ওই আংটিতে যে কুফিক আরবি লেখা ছিল তার প্রচলন ছিল অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীতে। দুই বছর আগে উদ্ধার করা ওই আংটিটি বর্তমানে সুইডিশ হিস্টোরি মিউজিয়ামে সংরতি আছে। ওই আংটিতে কুফিক বর্ণ ছিল, এবারের উদ্ধারকৃত পোশাকগুলোতেও পাওয়া গেছে কুফিক বর্ণমালার উপস্থিতি।

‘আল্লাহ শব্দটির পাশে বারবার আলী শব্দটিরও ব্যবহার হয়েছে’ বলে জানাচ্ছেন লারসন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আলীকে অনেক সম্মান করেন এবং এমন সংযোগ দেখেও আমি অবাক হয়েছি’।

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সা:-এর মেয়ে ফাতিমাকে বিয়ে করেছিলেন আলী। তিনি ছিলেন ইসলামের চার খলিফার মধ্যে একজন।

 

‘ভাইকিংদের শেষকৃত্যের পোশাকে যে আলী লেখা শব্দ পাওয়া গেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, তাদের সাথে শিয়াদের একটা যোগাযোগ থাকতে পারে’ বলেছেন লন্ডনের ইসলামিক কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান আমির দে মারতিনো। তিনি বলেন, ‘যে প্যাটার্নে আলী শব্দটি লেখা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে তারা ‘আল্লাহর বন্ধু’ হিসেবে সেই শব্দটি ব্যবহার করতে চেয়েছে। এটা আবার শিয়া মতাবলম্বীদের সাথে মেলে না’। ‘কেউ হয়তো ভুল করে এটা কপি করেছে’।

‘আমি ভাইকিংদের প্যাটার্ন ধরার চেষ্টা করছি। আমি নিশ্চিত ভাইকিংদের জিনিসে আরো ইসলামিক শিলালিপি খুঁজে পাবো। কে জানে হয়তো পোশাক ছাড়াও অন্য কোনো শিল্পকর্ম খুঁজে পাবো’ বলেন লারসন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫