কাতার নিয়ে সৌদি আরবের নতুন খেলা!
কাতার নিয়ে সৌদি আরবের নতুন খেলা!

কাতার নিয়ে সৌদি আরবের নতুন খেলা!

মিডলইস্ট আই

কাতারের জন্য প্রবাসী সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি ঘনিষ্ঠ কিছু প্রবাসী কাতারি। সরকার পরিবর্তনের জন্য দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের এই উদ্যোগ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে এই তথ্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র আরো জানিয়েছে, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল সানির বিরোধী হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন প্রবাসী কাতারি এই পাল্টা সরকার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী শনিবার তাদের ঘোষণা আসতে পারে।

গত জুন মাসে সৌদি আরবের নেতৃত্বে চারটি উপসাগরীয় দেশ কাতারের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা। তার পর থেকেই কাতার সরকারের বিরোধী হিসেবে পরিচিত প্রবাসী কাতারিদের নিয়ে বেশ কিছু আয়োজন হয়েছে। যেসব অনুষ্ঠানে এই প্রবাসীদের আহ্বান জানানো হয়েছে দেশটিতে সরকার পরিবর্তন ও সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ঘোষণার। কাতারের বর্তমান ক্ষমতাসীন সানি গোত্রের সদস্য সুলতান বিন সুহাইম আল সানি আগেও বেশ কয়েকবার কাতারকে সন্ত্রাসবাদের মিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি টুইটারে লিখেছেন, আসছে সপ্তাহে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। তিনি লেখেন, ‘উপসাগরীয় পরিস্থিতি এখন বড় ঝড়ের আগে যে রকম থমথমে অবস্থা থাকে তেমন। আগামী সপ্তাহে আমরা এই সঙ্কট নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেখতে পারব।’ আরেক টুইটার পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘১৩ অক্টোবর কাতার পাল্টে যাবে’।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুবরাজ সুলতান বিন সুহাইম নতুন এই উদ্যোগটির সাথে জড়িত শীর্ষ দুইজনের একজন, অন্যজন আবদুল্লাহ বিন আলী আল সানি। সুলতান বিন সুহাইম কাতারের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সুহাইম বিন হামাদের অষ্টম পুত্র। বর্তমানে প্যারিস প্রবাসী এই যুবরাজের সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। আর আবদুল্লাহ কাতারের শাসক পরিবারের প্রবাসী সদস্য এবং দেশটির বর্তমান প্রশাসনের কট্টর সমালোচক। তিনি কাতারের সাবেক শাসক শেখ আহমদ বিন আলী আল সানির ভাই। ১৯৭২ সালে শেখ আহমদকে ক্ষমতাচ্যুত করে বর্তমান আমির তামিমের দাদা ক্ষমতা দখল করেন।

এই পরিকল্পনার সাথে আরো জড়িত আছেন কাতার সরকারের সাবেক মুখপাত্র ফাওয়াজ আল আতিয়াহ ও ব্যবসায়ী খালেদ আল হাইল। খালেদ গত মাসে কাতার ইস্যু নিয়ে একটি সম্মেলনও আয়োজন করেন। ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই বেশ কিছু রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ভাষ্যকার সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে একত্র হন।

হামাস-ফাতাহ সমঝোতা চুক্তি

আল জাজিরা

ফিলিস্তিনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস ও ফাতাহ রাজনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে। মিসরের রাজধানী কায়রোয় তিন দিনের আলোচনা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে এ সমঝোতা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া এক বিবৃতিতে ওই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। কায়রো থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়া হয়। মঙ্গলবার সেখানেই আলোচনা করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো। হানিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মিসরের পৃষ্ঠপোষকতায় ফাতাহ ও হামাস একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।


হামাস ও ফাতাহ আন্দোলনের মধ্যে মারাত্মক বিভেদ সৃষ্টির ১০ বছর পর এই উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে হামাস সরকার গঠন করার কিছু দিন পর ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সে সরকার ভেঙে দেন। হামাসের সঙ্গে লড়াই করে পশ্চিমা সমর্থিত মূলধারার ফাতাহ পার্টি গাজার নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখন থেকে গাজা উপত্যকা শাসন করে আসছে হামাস। পান্তরে স্বায়ত্তশাসিত পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফাতাহর হাতে।

কিন্তু গত মাসে মিসরের মধ্যস্থতায় ফাতাহ সমর্থিত সরকারের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে গাজার মতা অর্পণের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মতি জানায় হামাস। তখন এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা দেশে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। হামাস আরো জানায়, গাজা উপত্যকায় তাদের প্রশাসনিক কমিটি ভেঙে দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অধীনে নিতে রাজি হয়েছে এবং ফিলিস্তিনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মিসরের রাজধানী কায়রোয় হামাস ও প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের পাঠানো প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠকের পর এ বিবৃতি দেয়া হয়।
২০১১ সালের কায়রো চুক্তি বাস্তবায়নের ল্েযই এই দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা কায়রোতে বৈঠক করেছেন। এর ফলে দীর্ঘ ১০ বছরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে ফিলিস্তিনি কর্তৃপরে হাতে গাজার মতা অর্পণের বিষয়ে সম্মতি জানায় হামাস। কিন্তু এর বিশাল সামরিকবাহিনী দুই পরে কাছেই একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। দুই পরে এই চুক্তি গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে।


ইসরাইল ও মিসরের অব্যাহত অবরোধের মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছে হামাস। ইসরাইলের সাথে তিনটি যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মহলের সাথে বিচ্ছিন্নতা হামাসকে চাপে ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় হামাসের সাথে বৈরিতা চলছে মিসরের বর্তমান সামরিক সরকারের। মার্চে গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করলে হামাসের ওপর চাপ বাড়ান মাহমুদ আব্বাস। গাজায় বিদ্যুতের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমানো ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেতন না দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

২০১১ সালে মিসরের মধ্যস্থতায় এমন সমঝোতা হলেও তা ভেঙে যায়। আব্বাস সরকারের অধীনে হামাসের নিরাপত্তাবাহিনীকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে সমঝোতা ভ ুল হয়ে যায়। তবে এবারের সমঝোতায়ও মিসরের ভূমিকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিসর সফর করেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।


গাজা উপত্যকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। সাম্প্র্রতিক সময়ে সেখানে ক্রমেই মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানযোগ্য পানির ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। গাজার অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক এবং এখানে বেকারত্বের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি। মানবিক সঙ্কট বিবেচনায় নিয়ে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারে ইসরাইলের প্রতি বহুবার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ; কিন্তু তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।
এ দিকে, গাজা উপত্যকার ফাতাহ আন্দোলনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা জাকারিয়া আল-আগা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক মাসের মধ্যে গাজা সফর করবেন। ২০০৭ সালের পর এটা হবে আব্বাসের প্রথম গাজা সফর।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.