ঢাকা, শনিবার,২১ অক্টোবর ২০১৭

আরো খবর

রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পরিকল্পিতভাবে পোড়ানো হয়েছে : রাষ্ট্রদূত সুফিউর

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

১৩ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:২০


প্রিন্ট

‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পরিকল্পিতভাবে পোড়ানো হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এটি হঠাৎ করে কোনো দুর্বিপাকে পড়ে ঘটেনি।’ মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখে এসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নোট পাঠিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন। বাংলা নিউজ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার মিয়ানমার সরকার তাদের সীমান্তঘেঁষা পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানও।
রাষ্ট্রদূত তার নোটে লিখেছেন, ‘সেখানে বসবাসরত বাকি রোহিঙ্গারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অনেকে নিজ বাসভূমি থেকে বিতাড়িত। তারা ভয়ে নিজ গ্রামে ফিরে যেতে চাচ্ছেন না বলে আমাকে জানিয়েছেন।’ প্রায় সব অঞ্চল জুড়ে যে দিকে তাকাই, পোড়া গ্রাম। এ অবিশ্বাস্য ঘটনা, যা আচমকা কোনো ঘটনা নয় বলে আমার মনে হয়েছে। যারা চোখে দেখেননি, তারা বিশ্বাস করবেন নাÑ এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
এ পরিদর্শনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওসের রাষ্ট্রদূতরা ছিলেন। রাখাইনের পরিস্থিতি দেখাতে তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন মিয়ানমারের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। অন্য চারটি দেশের প্রতিনিধিও এমন ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে গেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, প্রথমে তাদের বৌদ্ধপ্রধান রাথিডং এলাকার একটি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোক দেখানো বিচ্ছিন্ন গ্রামে কিছু মুসলিম রোহিঙ্গা বসবাস করছেনÑ তা দেখানো হয়।
তারপরেই আকাশপথে রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা হেলিকপ্টারে চেপে ঘুরিয়ে দেখানো হয়। গাড়িতে চাপিয়েও নিয়ে যাওয়া হয় চারটি স্থানে। দোভাষির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষদের সাথে কথা বলেছেন রাষ্ট্রদূতরা। পাশে সরকারি কর্মকর্তা থাকায় সঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। তবে তাদের চোখে-মুখে ছিল আতঙ্ক।
রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান জানিয়েছেন, মুখে ভালো ভালো কথা বললেও তারা যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তা তাদের চেহারায় ল করা গেছে। এরই মাঝে তারা বলছিলেন তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা। তারা ঘরছাড়া। কিন্তু এখনই ফিরতে চান না ভিটেমাটিতে। কারণ মৃত্যু সেখানে ওঁৎ পেতে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
নোটে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের ইন্ধন ছাড়া এত বড় ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। সফরসঙ্গী চার দেশের রাষ্ট্রদূত এ সঙ্কটের সমাধানে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫